ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর

ফটিকছড়িতে আরএফএলের অপহৃত ৩ কর্মকর্তা উদ্ধার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার বাংলাবাজার থেকে আরএফএল কোম্পানির তিন কর্মকর্তাকে অপহরণের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার রাতে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এর আগে শনিবার দুপুরে এই তিন কর্মকর্তাকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের শিকার কর্মকর্তারা হলেন আলাউদ্দিন (৩৪), মো. ইমরান (৩২) ও সবুজ (৩০)।

আরএফএল কোম্পানির তিন পার্বত্য জেলার সেলস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মো. মাইন উদ্দিন জানান, ফটিকছড়ির বাগানবাজার ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার আনোয়ার সিকদার নামে এক ব্যক্তির কাছে কোম্পানির পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আরএফএলের সেন্ট্রাল প্রটেকশন ইউনিট কর্মকর্তা আলাউদ্দিন, সবুজ ও ইমরান চট্টগ্রাম থেকে শনিবার বেলা ১১টার দিকে ওই এলাকায় যান। আনোয়ার সিকদার টাকা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে ওই তিন কর্মকর্তাকে একটি অটোরিকশায় করে দুর্গম এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে বনজঙ্গল ঘেরা অজ্ঞাত স্থানে তারা পৌঁছলে পূর্ব থেকে অবস্থান নেওয়া ১০-১৫ জন ব্যক্তি তাদের হাত পা বেঁধে ফেলে। প্রচণ্ড মারধর করা হয় তাদের। এক পর্যায়ে তাদের স্বজনদের কাছে মোবাইল ফোনে ফোন করে দুই লাখ টাকার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অপহরণকারীদের দেওয়া দুটি বিকাশ নম্বরে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এ ছাড়া তিন কর্মকর্তার মোবাইলের রকেট একাউন্ট থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করে নেয় অপহরণকারীরা।

মাইনউদ্দিন আরো জানান, তিন কর্মকর্তা অপহরণের খবর পেয়ে বিষয়টি গুইমারা সেনা রিজিয়ন, রামগড় বিজিবি ও ভুজপুর থানাকে জানানো হয়। অপহৃতদের উদ্ধারে গতকাল বিকেলে অভিযানে নামে রামগড় বিজিবি ও ভুজপুরের দাঁতমারা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। তারা উত্তর ফটিকছড়ির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। পরে বাগানবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুস্তম আলীও অপহৃতদের উদ্ধারে মাঠে নামেন। ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় শনিবার রাতে বাগানবাজারের দুর্গম এলাকা লালমাই পশ্চিমপাড়া থেকে তিন অপহৃতকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

বাগানবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রুস্তম আলী জানান, পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে তিন কর্মকর্তাকে অপহরণ করে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে আটকে বেদম নির্যাতন করে অপহরণকারীরা। পরে বিজিবি ও পুলিশের অভিযান শুরু হলে অপহরণকারীরা তিন কর্মকর্তাকে লালমাইর পশ্চিম পাড়ায় রেখে পালিয়ে যায়।

আরএফএল কোম্পানির কর্মকর্তা রুবেল শনিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে রাইজিংবিডিকে জানান, তারা মামলা দায়েরের জন্য ভুজপুর থানায় অবস্থান করছেন। অপহরণকারী আনোয়ার সিকদারকে প্রধান আসামি করে মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ভুজপুর থানার ওসি (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন ফারুকী জানান, মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা

ফটিকছড়িতে আরএফএলের অপহৃত ৩ কর্মকর্তা উদ্ধার

আপডেট সময় ০৩:৩৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ নভেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার বাংলাবাজার থেকে আরএফএল কোম্পানির তিন কর্মকর্তাকে অপহরণের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার রাতে খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এর আগে শনিবার দুপুরে এই তিন কর্মকর্তাকে অপহরণ করা হয়। অপহরণের শিকার কর্মকর্তারা হলেন আলাউদ্দিন (৩৪), মো. ইমরান (৩২) ও সবুজ (৩০)।

আরএফএল কোম্পানির তিন পার্বত্য জেলার সেলস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মো. মাইন উদ্দিন জানান, ফটিকছড়ির বাগানবাজার ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার আনোয়ার সিকদার নামে এক ব্যক্তির কাছে কোম্পানির পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আরএফএলের সেন্ট্রাল প্রটেকশন ইউনিট কর্মকর্তা আলাউদ্দিন, সবুজ ও ইমরান চট্টগ্রাম থেকে শনিবার বেলা ১১টার দিকে ওই এলাকায় যান। আনোয়ার সিকদার টাকা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে ওই তিন কর্মকর্তাকে একটি অটোরিকশায় করে দুর্গম এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে বনজঙ্গল ঘেরা অজ্ঞাত স্থানে তারা পৌঁছলে পূর্ব থেকে অবস্থান নেওয়া ১০-১৫ জন ব্যক্তি তাদের হাত পা বেঁধে ফেলে। প্রচণ্ড মারধর করা হয় তাদের। এক পর্যায়ে তাদের স্বজনদের কাছে মোবাইল ফোনে ফোন করে দুই লাখ টাকার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অপহরণকারীদের দেওয়া দুটি বিকাশ নম্বরে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। এ ছাড়া তিন কর্মকর্তার মোবাইলের রকেট একাউন্ট থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করে নেয় অপহরণকারীরা।

মাইনউদ্দিন আরো জানান, তিন কর্মকর্তা অপহরণের খবর পেয়ে বিষয়টি গুইমারা সেনা রিজিয়ন, রামগড় বিজিবি ও ভুজপুর থানাকে জানানো হয়। অপহৃতদের উদ্ধারে গতকাল বিকেলে অভিযানে নামে রামগড় বিজিবি ও ভুজপুরের দাঁতমারা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ। তারা উত্তর ফটিকছড়ির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। পরে বাগানবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুস্তম আলীও অপহৃতদের উদ্ধারে মাঠে নামেন। ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় শনিবার রাতে বাগানবাজারের দুর্গম এলাকা লালমাই পশ্চিমপাড়া থেকে তিন অপহৃতকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

বাগানবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রুস্তম আলী জানান, পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে তিন কর্মকর্তাকে অপহরণ করে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে আটকে বেদম নির্যাতন করে অপহরণকারীরা। পরে বিজিবি ও পুলিশের অভিযান শুরু হলে অপহরণকারীরা তিন কর্মকর্তাকে লালমাইর পশ্চিম পাড়ায় রেখে পালিয়ে যায়।

আরএফএল কোম্পানির কর্মকর্তা রুবেল শনিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে রাইজিংবিডিকে জানান, তারা মামলা দায়েরের জন্য ভুজপুর থানায় অবস্থান করছেন। অপহরণকারী আনোয়ার সিকদারকে প্রধান আসামি করে মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ভুজপুর থানার ওসি (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন ফারুকী জানান, মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হবে।