অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
সেনাবাহিনী লেলিয়ে দিয়ে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ থেকে বিতাড়িত করতে তাদের বিরুদ্ধে নিধনযজ্ঞ চালানো মিয়ানমার এখন উল্টো অতি হাস্যকর অভিযোগ করেছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। চেপে বসা রোহিঙ্গা বোঝা সরিয়ে নিতে বাংলাদেশ বারংবার আহ্বান জানিয়ে এলেও মিয়ানমারের দাবি, আন্তর্জাতিক অনুদান-সহায়তা পেতে ঢাকা-ই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে।
মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর (কার্যত সরকারপ্রধান) অং সান সু চি’র মুখপাত্র জও হতাই মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানী নাইপিদোতে সাংবাদিকদের কাছে এমন হাস্যকর দাবি করেন। তার এই বক্তব্য বুধবার (১ নভেম্বর) প্রকাশ হয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র ‘গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার’-এর প্রথম পাতার শীর্ষ প্রতিবেদনে। সেই প্রতিবেদন থেকে এখন এই খবর দিচ্ছে যুক্তরাজ্যের রয়টার্সসহ বিশ্ব সংবাদমাধ্যম।
জও হতাই দাবি করেন, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ীই রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া যেকোনো সময় শুরু করতে প্রস্তুত মিয়ানমার। কিন্তু অন্যপক্ষ (বাংলাদেশ) তা এখনও গ্রহণ করছে না। সেজন্য প্রক্রিয়াটা বিলম্বিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা ফেরানোর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার পেছনে এটাও একটা কারণ।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বড় বড় শিবির স্থাপন ও তাদের ভরণ-পোষণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তহবিল দিচ্ছে বলে বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে অভিযোগ তুলে সু চি’র কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, এখন তারা ৪০ কোটি ডলার পেয়েছে। তাদের এই বিপুল অংকের অর্থপ্রাপ্তিতে শরণার্থী প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের বিলম্ব হয় কি-না, তা নিয়ে শঙ্কিত আমরা।
বিভিন্ন সময়ে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর তাণ্ডবলীলার প্রেক্ষিতে সেখান থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৮ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। কারও কারও হিসাব মতে, এ সংখ্যা ১০ লাখেরও কাছাকাছি। গত ২৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ শুরু হওয়ার পর এই দুই মাসেই বাংলাদেশে এসেছে ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার খাবার, স্বাস্থ্যসেবাসহ যাবতীয় ভরণ-পোষণে হিমশিম খেতে থাকা বাংলাদেশ বরাবরই সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য নাইপিদোকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















