ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপে ব্যর্থতা : পাকিস্তান দলের প্রত্যেককে ৫০ লাখ রুপি জরিমানা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, হটলাইন চালু করলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি অভিবাসীদের ভিসা দেওয়া স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র কারচুপির অভিযোগ,ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে বিএনপির আরও ৪ প্রার্থী বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের দায়িত্ব নিল আমিরাত মিসাইলের আঘাতে বিধ্বস্ত মার্কিন এফ-১৫ ফাইটার জেট, দাবি ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাবে না ইরান : লারিজানি

ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার দৃঢ়তম: ওয়াহহাব মিঞা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ধর্ম কোনো সম্প্রদায় বা সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে আবদ্ধ হতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো.আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। তিনি বলেন, সংবিধানের অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। ধর্মীয় সব উৎসব আয়োজনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার দৃঢ়তম হয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি বিজয়া পুনর্মিলনী পরিষদ-২০১৭-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিজয়া পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার, বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, স্বামী ধ্রুবেশানন্দ মহারাজ, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এছাড়া অ্যডভোকেট কুমার দেবুল দে ও অ্যাডভোকেট মিন্টুচন্দ্র দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, ধর্ম জাত-পাত চিনবে না। জাত-পাত বিচারও করবে না। ধর্ম নারী-পুরুষ বিভাজন করবে না, করে না। ধর্ম কোনো সম্প্রদায় বা সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে আবদ্ধ হতে চায় না।

তিনি বলেন, আমাদের মহান সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বিধৃত আছে,‘ (১) আইন, জনশৃংখলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে (ক) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে; (খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রহিয়াছে। (২) কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোনো ব্যক্তির নিজস্ব ধর্ম-সংক্রান্ত না হইলে তাহাকে কোন ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ কিংবা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনায় অংশগ্রহণ বা যোগদান করিতে হইবে না।’

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, ধর্ম ব্যক্তিবিশেষের জন্য স্বতন্ত্র নয়, ধর্ম কোনো রকম বৈষম্য সৃষ্টি করে না। ধর্মের গ্রহণ বা বর্জন এবং ধর্মের আবেদন সবার জন্য সমান। এমনকি ধর্মের অধিকারও সবার জন্য সমান। ধর্ম জাত-পাত চিনবে না। জাত-পাত বিচারও করবে না। ধর্ম নারী-পুরুষ বিভাজন করবে না, করে না। ধর্ম কোনো সম্প্রদায় বা সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে আবদ্ধ হতে চায় না। সূর্য যেমন সবার জন্য সমান, তেমনি ধর্মও। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের ভাষায় বলা যায়, বিশুদ্ধ বায়ু যেমন স্বাস্থ্যের পক্ষে হিতকর, তেমনি স্বধর্মও সবার জন্য মঙ্গলপ্রদ।

তিনি বলেন, ‘মানুষ সমাজবদ্ধজীব। সমাজজীবনে একেই ভূখণ্ডে, একই বলয়ে বসবাস করতে হলে নানা ধর্ম, গোত্র, বর্ণ, সম্প্রদায় সম্পর্কে বিভিন্ন ভাষাভাষী লোকের সঙ্গে বসবাস করতে হয়। একটি বাগানে নানা জাতের ফুল থাকে তেমনি একটি রাজ্যে বা রাষ্ট্রে নানা জাতের মানুষ থাকবে। সুতরাং নানা জাতের সঙ্গে সহবস্থান ঐক্য-সংহতির মাধ্যমে একত্রে বসবাস করে মানবজাতির ধর্ম ও সমাজের উন্নয়ন করতে সবাইকে বদ্ধপরিকর হতে হবে।

বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, অন্যদিকে মহামারী এইডস যেমন কোনো ধর্ম-বর্ণ বিচার করে না, তেমনি ধর্ম জাত-পাত বিচার করে না। সুতরাং ধর্ম হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান ধর্মের ক্ষেত্রে কোনো বিচার্যক বিষয় নয়। ধর্মের স্বভাবই ধর্মই। ধর্ম নিজ আভায় সার্বজনীন বাণীতে উদ্ভাসিত। জ্ঞানের বহ্নি শিখায় প্রজ্বলিত হয়ে দেশের প্রতিটি মানুষ অসম্প্রাদিয়কতায় অন্ধকার কূপমণ্ডূকতা আর অকল্যাণকর সব বাধা পেরিয়ে
একটি উন্নত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসবে -এটাই সবার প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার সমাজ রাষ্ট্র উৎসব সবার- এ মর্মবাণী অনুধাবন করতে পারলে বিশ্বের মানুষ সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হবে। হিংসা-দ্বেষ-ভেদাভেদ ভুলে শান্তির পৃথিবী গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত হবে।

সভায় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমাদের দেশটি সত্যিকারভাবে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেক সময় খারাপ উদ্দেশ্য ধর্মীয় চেতনাকে ছাপিয়ে যায়। সে থেকে আমাদের মুক্ত থাকতে হবে। শুধুমাত্র এটা না, অনেক সময় ক্ষুদ্রতর স্বার্থও আমাদের আচ্ছন্ন করে ফেলে। অনেকে বলে তাজমহল ভেঙে ফেলা উচিত। ভারতের উত্তর প্রদেশের দেখা গেছে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে তাজমহলের নাম নেই। এই জিনিসগুলো কিন্তু হীনমন্যতা। যে কোন ধর্মের ভিতরে হীনমন্যতার কোনো স্থান নেই।

তিনি বলেন, মিয়ানমারে মানুষকে তাড়িয়ে দিচ্ছে এটা হিংস্রতার চরম একটি অভিব্যক্তি। এই জিনিসগুলো থেকে যাতে আমরা মুক্ত থাকতে পারি সেটাই হলো সব ধর্মের মূল কথা। সব ধর্মের ভালো জিনিসগুলো আমরা তুলে ধরি। সেগুলোকে প্রতিপালন করার চেষ্টা করি।

মাহবুবে আলম বলেন, আর্থিক স্বার্থ এবং অন্য স্বার্থ ধর্মের অনুশাসনগুলো মানুষকে ভুলিয়ে দেয়। আপনার চিন্তা করতে পারেন বুদ্ধদেব সারা বিশ্বকে অহিংস বাণী দিয়ে প্রচার করেছিল অহিংসের বাণী। বলেছিলেন কোনো জীবের তোমরা ক্ষতি করো না। সেই বুদ্ধের অনুসারীরা আজকে মিয়ানমার থেকে কিভাবে মানুষকে তাড়িয়ে দিচ্ছে, হত্যা করছে, ধর্ষণ করছে, জ্বালিয়ে দিচ্ছে, তাদের কোনোরকম বিবেক জাগ্রত হয় না বুদ্ধদেবের কথায়। একবারও মনে হয় না। বিবেক জাগ্রত হয় না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার দৃঢ়তম: ওয়াহহাব মিঞা

আপডেট সময় ১০:০৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ধর্ম কোনো সম্প্রদায় বা সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে আবদ্ধ হতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো.আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। তিনি বলেন, সংবিধানের অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। ধর্মীয় সব উৎসব আয়োজনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার দৃঢ়তম হয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি বিজয়া পুনর্মিলনী পরিষদ-২০১৭-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিজয়া পুনর্মিলনী’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার, বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, স্বামী ধ্রুবেশানন্দ মহারাজ, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এছাড়া অ্যডভোকেট কুমার দেবুল দে ও অ্যাডভোকেট মিন্টুচন্দ্র দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, ধর্ম জাত-পাত চিনবে না। জাত-পাত বিচারও করবে না। ধর্ম নারী-পুরুষ বিভাজন করবে না, করে না। ধর্ম কোনো সম্প্রদায় বা সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে আবদ্ধ হতে চায় না।

তিনি বলেন, আমাদের মহান সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বিধৃত আছে,‘ (১) আইন, জনশৃংখলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে (ক) প্রত্যেক নাগরিকের যে কোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে; (খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রহিয়াছে। (২) কোন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে যোগদানকারী কোনো ব্যক্তির নিজস্ব ধর্ম-সংক্রান্ত না হইলে তাহাকে কোন ধর্মীয় শিক্ষাগ্রহণ কিংবা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা উপাসনায় অংশগ্রহণ বা যোগদান করিতে হইবে না।’

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, ধর্ম ব্যক্তিবিশেষের জন্য স্বতন্ত্র নয়, ধর্ম কোনো রকম বৈষম্য সৃষ্টি করে না। ধর্মের গ্রহণ বা বর্জন এবং ধর্মের আবেদন সবার জন্য সমান। এমনকি ধর্মের অধিকারও সবার জন্য সমান। ধর্ম জাত-পাত চিনবে না। জাত-পাত বিচারও করবে না। ধর্ম নারী-পুরুষ বিভাজন করবে না, করে না। ধর্ম কোনো সম্প্রদায় বা সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে আবদ্ধ হতে চায় না। সূর্য যেমন সবার জন্য সমান, তেমনি ধর্মও। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের ভাষায় বলা যায়, বিশুদ্ধ বায়ু যেমন স্বাস্থ্যের পক্ষে হিতকর, তেমনি স্বধর্মও সবার জন্য মঙ্গলপ্রদ।

তিনি বলেন, ‘মানুষ সমাজবদ্ধজীব। সমাজজীবনে একেই ভূখণ্ডে, একই বলয়ে বসবাস করতে হলে নানা ধর্ম, গোত্র, বর্ণ, সম্প্রদায় সম্পর্কে বিভিন্ন ভাষাভাষী লোকের সঙ্গে বসবাস করতে হয়। একটি বাগানে নানা জাতের ফুল থাকে তেমনি একটি রাজ্যে বা রাষ্ট্রে নানা জাতের মানুষ থাকবে। সুতরাং নানা জাতের সঙ্গে সহবস্থান ঐক্য-সংহতির মাধ্যমে একত্রে বসবাস করে মানবজাতির ধর্ম ও সমাজের উন্নয়ন করতে সবাইকে বদ্ধপরিকর হতে হবে।

বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞা বলেন, অন্যদিকে মহামারী এইডস যেমন কোনো ধর্ম-বর্ণ বিচার করে না, তেমনি ধর্ম জাত-পাত বিচার করে না। সুতরাং ধর্ম হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান ধর্মের ক্ষেত্রে কোনো বিচার্যক বিষয় নয়। ধর্মের স্বভাবই ধর্মই। ধর্ম নিজ আভায় সার্বজনীন বাণীতে উদ্ভাসিত। জ্ঞানের বহ্নি শিখায় প্রজ্বলিত হয়ে দেশের প্রতিটি মানুষ অসম্প্রাদিয়কতায় অন্ধকার কূপমণ্ডূকতা আর অকল্যাণকর সব বাধা পেরিয়ে
একটি উন্নত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসবে -এটাই সবার প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার সমাজ রাষ্ট্র উৎসব সবার- এ মর্মবাণী অনুধাবন করতে পারলে বিশ্বের মানুষ সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব এর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হবে। হিংসা-দ্বেষ-ভেদাভেদ ভুলে শান্তির পৃথিবী গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত হবে।

সভায় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমাদের দেশটি সত্যিকারভাবে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেক সময় খারাপ উদ্দেশ্য ধর্মীয় চেতনাকে ছাপিয়ে যায়। সে থেকে আমাদের মুক্ত থাকতে হবে। শুধুমাত্র এটা না, অনেক সময় ক্ষুদ্রতর স্বার্থও আমাদের আচ্ছন্ন করে ফেলে। অনেকে বলে তাজমহল ভেঙে ফেলা উচিত। ভারতের উত্তর প্রদেশের দেখা গেছে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে তাজমহলের নাম নেই। এই জিনিসগুলো কিন্তু হীনমন্যতা। যে কোন ধর্মের ভিতরে হীনমন্যতার কোনো স্থান নেই।

তিনি বলেন, মিয়ানমারে মানুষকে তাড়িয়ে দিচ্ছে এটা হিংস্রতার চরম একটি অভিব্যক্তি। এই জিনিসগুলো থেকে যাতে আমরা মুক্ত থাকতে পারি সেটাই হলো সব ধর্মের মূল কথা। সব ধর্মের ভালো জিনিসগুলো আমরা তুলে ধরি। সেগুলোকে প্রতিপালন করার চেষ্টা করি।

মাহবুবে আলম বলেন, আর্থিক স্বার্থ এবং অন্য স্বার্থ ধর্মের অনুশাসনগুলো মানুষকে ভুলিয়ে দেয়। আপনার চিন্তা করতে পারেন বুদ্ধদেব সারা বিশ্বকে অহিংস বাণী দিয়ে প্রচার করেছিল অহিংসের বাণী। বলেছিলেন কোনো জীবের তোমরা ক্ষতি করো না। সেই বুদ্ধের অনুসারীরা আজকে মিয়ানমার থেকে কিভাবে মানুষকে তাড়িয়ে দিচ্ছে, হত্যা করছে, ধর্ষণ করছে, জ্বালিয়ে দিচ্ছে, তাদের কোনোরকম বিবেক জাগ্রত হয় না বুদ্ধদেবের কথায়। একবারও মনে হয় না। বিবেক জাগ্রত হয় না।