অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
হেমন্তের মাঝামাঝি সময়েই ষড়ঋতুর এই দেশে শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে আগমন ঘটে হিম বুড়ির। ইংরেজি ক্যালেন্ডারের হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবর থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশে পাওয়া যায় শীতের আমেজ। এবার অক্টোবরের শুরুতে তেমন শীতের আমেজ না থাকলেও গত সপ্তাহে টানা দুই দিনের বৃষ্টির ডানায় ভর করেই শহরে আগমন ঘটেছে শীতের। তবে শীতের তীব্রতা বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলে।
বাংলা বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে, পৌষ ও মাঘ এই দুই মাস মিলে শীতকাল। এ সময় সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে বলে বাংলাদেশ ও এর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে সূর্যের রশ্মি তির্যকভাবে পড়ে। ফলে কমতে থাকে তাপমাত্রা। আর এতেই অনুভূত হয় শীত।
গ্রামীণ লোক সমাজে বহুল প্রচলিত একটি কথা হলো, ভাদ্র মাসে জন্ম নেয় শীত ঋতু। কোথাও কোথাও বলা হয় ভাদ্র মাসের ১৩ তারিখেই জন্ম নেয় হিম বুড়ি। কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনে কয়েক বছর ধরে শীতের আমেজ পেতে পেতে কার্তিক মাস চলে আসে। এবারও কার্তিকের প্রথম সপ্তাহেই রাজধানীসহ আবহমান বাংলায় অনুভূত হচ্ছে শাীত। সকাল আর সন্ধ্যায় দেখা মিলছে কুয়াশার।
বর্তমানের এই শীতের আসি আসি ভাবটাতেই প্রকৃতির সবুজ গাছগুলো যেন পাতা ঝড়ানোর প্রস্তুতি নিয়ে নেয়। বর্ষার বিদায় আর শীতকে বরণের প্রস্তুতি নেয় প্রকৃতি। প্রকৃতিতে শীত যেন আসে একটু একটু করে। গত চার-পাঁচ দিন ধরে যেন শীত কড়া নাড়ছে শহুরে জীবনে। রাতের ঢাকায় নিঃশব্দে দেখা দিচ্ছে কুয়াশার চাদর। ভোর রাতে হালকা ঠাণ্ডা, আর হিম হিম বাতাস। অবচেতন মনেই শহরবাসী জড়িয়ে নিচ্ছে হালকা কাঁথা বা কম্বল।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, হেমন্তের এই সময়টায় শীত আসবে একটু একটু করে। সারাদেশে নভেম্বরের শুরুতেই আর রাজধানীতে দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই পড়তে শুরু করবে শীত। এবার ডিসেম্বরে তীব্র শীতের আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ভালো শীত পড়তে পারে।
চলতি মাসের ১৭ অক্টোবর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ থেকে। কিন্তু সাগরে নিম্নচাপের কারণে ১৯, ২০, ২১ কয়েকদিন টানা বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টিই মূলত নিয়ে এসেছে শীতের আমেজ। আবহাওয়া অফিস বলছে, অক্টোবরের শেষ দিকে ধীরে ধীরে বাংলার আকাশে ঢুকবে উত্তরের হাওয়া। দেশব্যাপী শুরু হবে শুষ্ক মৌসুম, পড়বে শীত।
রাজধানীর মিরপুরবাসী ফেরদৌস বলেন, রাজধানীতে দিনের বেলা প্রচণ্ড রোদের তেজ থাকলেও সকাল-সন্ধ্যায় হেমন্তের মিহি কুয়াশা আর ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। এটিই মূলত শীতের আগমনী বার্তা।
নবান্নের খুশির বার্তা নিয়ে বাংলাদেশে আগমন ঘটে কার্তিক মাসের। এ সময়টা কৃষকের মাঠজুড়ে দেখা যায় সোনালি ফসলের হাসির আভা। কনকনে শীতের আগেই ফসল কাটার পর্ব শেষ করেন কৃষকেরা। গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে শীত নিয়ে আসে পিঠাপুলি আর নানারকম উৎসব।
উত্তরাঞ্চলের কয়েকজন জানান, বদলে যাচ্ছে গ্রামবাংলার প্রকৃতি। জেঁকে ধরছে শীত। ইতোমধ্যে ঝড়ে গেছে শরতের কাঁশফুল। নীল আকাশে মেঘের ওড়াওড়ির বদলে দেখা যাচ্ছে ঘোলাটে আকাশ। গাছের সবুজ পাতাও মলিন হয়ে শুকিয়ে জীর্ণ হয়ে যাচ্ছে।
দিনাজপুরের আশিক জানান, কার্তিকের শুরুতেই দিনাজপুরসহ উত্তরের কয়েকটি জেলায় ভারি কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। বুধবার ভোরের ভারি কুয়াশাই দেখেছি আমরা। সকাল ৯টা পর্যন্ত এই অঞ্চলে কুয়াশায় ঢেকে ছিল মাঠ-ঘাট। ইতোমধ্যে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। সন্ধ্যার পর থেকেই ঝরছে কুয়াশা। সকালে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
পুরোপুরি শীত আসতে আরো কিছু দিন লাগলে প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে এখনই। খেজুরের রস সংগ্রহে বিভিন্ন জেলার গাছিরা ইতোমধ্যে তাদের কাজ শুরু করেছেন। রাজধানীতেও বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভাপাপিঠা বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। কাজেই হিম বুড়ি চলে এসেছে শীতের আগাম বার্তা নিয়ে, সময় এখন প্রস্তুতি নেবার।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















