অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে কোনো বিভেদ নয়। আজকে একটা ঐক্য গড়ে তুলতে হবে, জনতার ঐক্য। জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠলে তাহলেই আমরা গণতন্ত্রের জন্য সফল হবো। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা জানি এত সহজে সব কিছু হওয়ার কথা নয়। সেই কাজটাকে ঠিক যায়গায় পৌঁছানোর জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা সময় বলে আসছি বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই, ইতামধ্যেই ব্যর্থ রাষ্ট্র হয়ে গেছে। যেহেতু এখানে সব প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ফেলে হয়েছে। সুতরাং এখানে কোনো কিছু আশা করা, সুস্থ, সুন্দর কিছু হবে আশা করা বাতুলতা ছাড়া কিছু নয়। এছাড়া আমাদেরকে কাজ করতে হবে। লড়াই করতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে। দলকে সংগঠিত করতে হবে। আমরা বিএনপিকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছি, এবং জনগণও ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আজকে কোনো হতাশার কথা নয়, আজকে কোনো দ্বিমত নয়। আজকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, আমার অধিকারকে ফিরিয়ে আনার জন্য। সংবিধান, এই দেশের রাষ্ট্র আমাকে যেটা দিয়েছে ভোট দেয়ার জন্য, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার অধিকার। সেই অধিকার আমাদেরকে ফিরিয়ে নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা আমার সন্মান স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে।
এছাড়া বিএনপির রক্ত গেছে, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, বিএনপির নেতা গুম হয়ে গেছে, টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ইলিয়াস আলী গুম হয়েছে। সারাদেশে বহু যুবনেতা, ছাত্রনেতা নেতা গুম হয়েছে। ক্রসফায়ারে আমাদের বহু লোকের প্রাণ গেছে। লড়াই চলছে। এই লড়াইয়ে বিএনপি কিন্তু কখনো পিছপা হয়নি।
ফখরুল বলেন, ২০১৪ সালের আগে সেই ঐক্যের দিকে প্রায় আমরা এগিয়ে গিয়েছিলাম। একেবারে সব দল মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। রীতিমত বিপ্লব হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা সফল হতে পারিনি, এই ফ্যাসিষ্ট সরকারের নির্যাতন নিপীড়ন যেটা ঢাকার মধ্যে হয়েছে। এজন্য সফল হতে পারিনি। হতে পারিনি বলেই যে আমরা পারবো না তা নয়।
ফখরুল আরো বলেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল, বিএনপি সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করেছে, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন, শুধু তাই নয় ৯৬ এ আওয়ামী লীগের যে আন্দোলন ছিল, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীকে একসঙ্গে মিলে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে হবে সেই আন্দোলনের ফলে যে জনমত সৃষ্টি হয়েছিল যে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়কের যে ব্যবস্থা তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সবসময় চেষ্টা করেছে। নিজের অবস্থান থেকে প্রয়োজনে সরে গিয়েও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছেন। বিএনপির লক্ষ্যটি হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।
বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, এখনো বিশ্বাস করি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়া সুষ্ঠু সুন্দর যে বিকাশ একটি রাষ্ট্রের তা সম্ভব নয়। যেখানে গণতন্ত্র নেই সেখানে কি হবে। গণতন্ত্রের জন্য কাজ করতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে হবে। সেই লড়াই সংগ্রামে থেকে কখনো বিএনপি পিছে থাকেনি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















