ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে গ্রামপুলিশের আত্মহত্যা চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বিশ্বস্ত বন্ধু: স্পিকার জনগণের কাছে যান, শহর ঘুরে দেখুন: সিটি প্রশাসকদের প্রতি প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন জিয়াউদ্দিন হায়দার পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে ২৩ দেশে এমএলএআর পাঠিয়েছে সরকার:সংসদে অর্থমন্ত্রী তীব্র বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘স্মার্ট কৃষি’ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের ভুয়া প্রতিশ্রুতিতে বিভ্রান্ত হয়েছে ইরান: রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভার্চুয়ালি আদালত পরিচালনায় বিচারকাজে সমস্যা হবে না : অ্যাটর্নি জেনারেল

আটকের পর কোটি টাকা দাবি, ১৭ লাখ টাকাসহ ধরা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের টেকনাফে এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ১৭ লাখ টাকা আদায়ের পর সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাত সদস্য। এর মধ্যে উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার তিনজন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদের দুজন ও দুজন কনস্টেবল।

এ ঘটনায় জড়িত ডিবি পুলিশের এক উপপরিদর্শক পালিয়ে গেলেও উদ্ধার করা হয়েছে ওই ১৭ লাখ টাকা। নানা প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার ১৭ লাখ টাকা ব্যবসায়ীকে ফেরত দিয়ে আটক সাতজনকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, আজ বুধবার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা পুলিশের এই সাত সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

টেকনাফে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কর্মক্রম পরিচালনায় স্থাপিত সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের প্রধান মেজর নাজিম আহমদ বলেন, টেকনাফের মধ্য জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা গফুর আলমকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার শহর থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আগে টাকা দিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। সেই টাকা নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে চেপে আটজনের একটি দল আজ বুধবার ভোরে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় মেরিনড্রাইভ সড়কের শাপলাপুর এলাকায় সেনাবাহিনী তাদের তল্লাশি চৌকিতে মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করে ওই ১৭ লাখ টাকা।

সে সময় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে গেলেও ডিবি পুলিশের অন্য সাত সদস্যকে আটক করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। আটক সাতজনকে পুলিশ সুপারের জিম্মায় দিয়ে ১৭ লাখ টাকা ওই ব্যবসায়ীকে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানান এই সেনা কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী গফুর আলমের মুদি মালামাল ও আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা রয়েছে। তিনি জানান, ডিবি পুলিশের সদস্যরা গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার শহর থেকে তাঁকে আটক করে চোখ বেঁধে একটি গাড়িতে বিভিন্ন স্থানে ঘোরায়। পরে তাঁকে ডিবি পুলিশের সদস্যরা বলেন, তিনি মাদক ব্যবসায়ী। তাই এখন তাঁকে এক কোটি টাকা দিতে হবে। এ সময় গফুর বলেন, এক কোটি টাকা তিনি জীবনে কখনো একসঙ্গে দেখেননি। আর যদি তিনি মাদক ব্যবসা করে থাকেন তাহলে বিষয়টি নিয়ে টেকনাফ থানার ওসির সঙ্গে কথা বলতে, প্রয়োজনে এলাকায় গিয়ে কথা বলতে অনুরোধ জানান। যদি ডিবি সদস্যরা এটা প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি মাদক ব্যবসায়ী তাহলে যে শাস্তি দেওয়া হবে তা তিনি মাথা পেতে নেবেন।

একপর্যায়ে গফুরকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ১৭ লাখ টাকা দাবি করেন ডিবি সদস্যরা। সে সময় বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানান তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, আটক ডিবি সদস্যরা হলেন এসআই আবুল কালাম আজাদ, মনিরুজ্জামান ও মোস্তফা, এএসআই ফিরোজ আহমদ ও আলাউদ্দিন, কনস্টেবল মোস্তফা আজম ও আল-আমিন।

তিন মাস ধরে ডিবি পুলিশের এই দলটি বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা আদায়, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়াসহ নানা অভিযোগ ছিল। এবার একই অভিযোগে সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়ল দলটি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

আটকের পর কোটি টাকা দাবি, ১৭ লাখ টাকাসহ ধরা

আপডেট সময় ১১:৫৭:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কক্সবাজারের টেকনাফে এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ১৭ লাখ টাকা আদায়ের পর সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাত সদস্য। এর মধ্যে উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার তিনজন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদের দুজন ও দুজন কনস্টেবল।

এ ঘটনায় জড়িত ডিবি পুলিশের এক উপপরিদর্শক পালিয়ে গেলেও উদ্ধার করা হয়েছে ওই ১৭ লাখ টাকা। নানা প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার ১৭ লাখ টাকা ব্যবসায়ীকে ফেরত দিয়ে আটক সাতজনকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, আজ বুধবার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা পুলিশের এই সাত সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

টেকনাফে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কর্মক্রম পরিচালনায় স্থাপিত সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের প্রধান মেজর নাজিম আহমদ বলেন, টেকনাফের মধ্য জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা গফুর আলমকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার শহর থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আগে টাকা দিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। সেই টাকা নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে চেপে আটজনের একটি দল আজ বুধবার ভোরে কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় মেরিনড্রাইভ সড়কের শাপলাপুর এলাকায় সেনাবাহিনী তাদের তল্লাশি চৌকিতে মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করে ওই ১৭ লাখ টাকা।

সে সময় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে গেলেও ডিবি পুলিশের অন্য সাত সদস্যকে আটক করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। আটক সাতজনকে পুলিশ সুপারের জিম্মায় দিয়ে ১৭ লাখ টাকা ওই ব্যবসায়ীকে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে জানান এই সেনা কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী গফুর আলমের মুদি মালামাল ও আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা রয়েছে। তিনি জানান, ডিবি পুলিশের সদস্যরা গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার শহর থেকে তাঁকে আটক করে চোখ বেঁধে একটি গাড়িতে বিভিন্ন স্থানে ঘোরায়। পরে তাঁকে ডিবি পুলিশের সদস্যরা বলেন, তিনি মাদক ব্যবসায়ী। তাই এখন তাঁকে এক কোটি টাকা দিতে হবে। এ সময় গফুর বলেন, এক কোটি টাকা তিনি জীবনে কখনো একসঙ্গে দেখেননি। আর যদি তিনি মাদক ব্যবসা করে থাকেন তাহলে বিষয়টি নিয়ে টেকনাফ থানার ওসির সঙ্গে কথা বলতে, প্রয়োজনে এলাকায় গিয়ে কথা বলতে অনুরোধ জানান। যদি ডিবি সদস্যরা এটা প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি মাদক ব্যবসায়ী তাহলে যে শাস্তি দেওয়া হবে তা তিনি মাথা পেতে নেবেন।

একপর্যায়ে গফুরকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ১৭ লাখ টাকা দাবি করেন ডিবি সদস্যরা। সে সময় বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানান তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, আটক ডিবি সদস্যরা হলেন এসআই আবুল কালাম আজাদ, মনিরুজ্জামান ও মোস্তফা, এএসআই ফিরোজ আহমদ ও আলাউদ্দিন, কনস্টেবল মোস্তফা আজম ও আল-আমিন।

তিন মাস ধরে ডিবি পুলিশের এই দলটি বিভিন্ন ব্যক্তিকে জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা আদায়, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়াসহ নানা অভিযোগ ছিল। এবার একই অভিযোগে সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়ল দলটি।