আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। তারা বলছে, বেনজীর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
আজ গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় আদালত বেনজীর আহমেদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারামুক্ত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনগুলোতে দুবাই-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে আরও বলা হয়, আদালত জামিনের সঙ্গে কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, বেনজীর আহমেদের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালে এসব শর্ত কার্যকর থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, বেনজীর আহমেদের জামিন বা মুক্তি সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্যও করেননি।
এর আগে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে গত ১২ জুন চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, দুবাই পুলিশের সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছে দুদক। এসব অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বেনজীর আহমেদের নামও সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















