ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘মৌলিক জ্ঞান না থাকলে কোচিংয়ে আসা উচিত নয়’:তামিম ইকবাল আপসকামিতা নয়, স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার ইতিহাস বিএনপির: জাহিদ হোসেন পটিয়া থানার ২শ গজ সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় মদদে কোনো দুর্নীতি গুম খুন হয়নি হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরব না: এমপি হাসনাত যুব জামায়াত নেতার কাণ্ড; বিধবা নারীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগ:দল থেকে সদস্যপদ স্থগিত মানবতার মুক্তিতে ইসলামের আদর্শের বিজয়ের বিকল্প নেই: চরমোনাই পীর সব প্রকল্পের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য:জহির উদ্দিন স্বপন হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, কী বার্তা দিচ্ছে

‘তারকা বানায় তরুণরাই’, ‘জেন-জি’দের ‘নর্দমা’ বলায় কঙ্গনাকে একহাত নিলেন সোনু

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

নবীন প্রজন্ম বা ‌‘জেন-জি’ আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য করে বিজেপি সাংসদ ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতের কুরুচিকর ও বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ। তরুণ প্রজন্মই তারকাদের তৈরি করে এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে তাদের মতামতকে গুরুত্ব ও শ্রদ্ধা দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

গণমাধ্যমের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় কঙ্গনার এমন মন্তব্যকে অত্যন্ত ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে সোনু স্পষ্ট জানান, যেকোনো পেশার মানুষের অস্তিত্ব টিকে থাকে জনগণের ভালোবাসার ওপর, তাই কথা বলার আগে সবার ভেবেচিন্তে বলা উচিত।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সোনু সুদ প্রথমে জানান যে তিনি কঙ্গনার দেওয়া বক্তব্যটি শোনেননি। তবে সমাজে এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জায়গা তৈরিতে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি তার মন্তব্য শুনিনি। তবে আমি মনে করি এই তরুণরাই একজন অভিনেতাকে তৈরি করে এবং আপনাকে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সাহায্য করে। তরুণদের সঙ্গে নিয়ে চলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, যত দিন তারা আপনার পাশে থাকবে, তত দিন আপনি সমৃদ্ধ হবেন। তারা পাশে না থাকলে পথচলা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই কারণেই সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

নিজের বক্তব্য জোরদার করতে যেকোনো পেশাতেই জনসমর্থনের প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেন সোনু সুদ। তিনি বলেন, আপনার পেশা যা-ই হোক না কেন—আপনি অভিনেতা হন, চিকিৎসক হন কিংবা অন্য যেকোনো পেশারই হন না কেন—এই পৃথিবীতে আপনার অস্তিত্বের সার্থকতা কেবল তখনই থাকে, যখন মানুষ আপনার সঙ্গে যুক্ত থাকে।

এর পরপরই উপস্থিত এক সাংবাদিক যখন তাকে অবহিত করেন যে কঙ্গনা জেন-জি প্রজন্মকে সরাসরি ‘নর্দমা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, তখন এই মন্তব্যকে অত্যন্ত অনুচিত ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন সোনু। তিনি বলেন, তিনি যদি সত্যিই এমনটি বলে থাকেন, তবে আমি মনে করি এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। এমন কথা বলা একেবারেই উচিত হয়নি। হিন্দি প্রবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, একটি প্রবাদ রয়েছে—তোল মোল কে বোল (কথা বলার আগে মেপে কথা বলো)। আপনি কী বলছেন তা নিয়ে আগে থেকেই সতর্কতার সঙ্গে ভাবা অত্যন্ত জরুরি, কারণ জনগণ হলো ঈশ্বরেরই আরেকটি রূপ।

বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেন-জি আন্দোলনকারীদের তীব্র সমালোচনা করে কঙ্গনা রানাওয়াতের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদী তরুণদের ব্যবহৃত ভাষার ধরন নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কঙ্গনা লেখেন, এসব আন্দোলনের দৃশ্য তার কাছে ‘বমি পাওয়ার মতো’। নিজের পোস্টে কঙ্গনা লেখেন, জীবনে কখনো এক জায়গায় এতটা কুৎসিত দৃশ্য দেখিনি। জেন-জিদের আন্দোলনের এই রিলসগুলো দেখলে বমি আসে। তারা যেভাবে কথা বলছে এবং যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করছে—আমার পুরো জীবনে প্রতিটি ফ্রেমে একসঙ্গে এত চোখধাঁধানো অপসংস্কৃতি ও রুচিহীনতা কখনো দেখিনি।

কঙ্গনা এখানেই থেমে থাকেননি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে দাবি করেন যে তারা মদ ও মাদকের ব্যবহার এবং বাবা-মায়ের টাকায় নির্লজ্জভাবে জীবনযাপন করাকে গর্বের বিষয় মনে করে। তরুণদের আক্রমণ করে তিনি আরও লেখেন, আমি এদের বলি ‘জেনারেশন গটার’ (নর্দমার প্রজন্ম)। দেশের উন্নয়নে এদের কোনো অবদান নেই। এরা পড়াশোনায় ভালো নয়। এরা এতটাই বিকৃত ও দুর্নীতিগ্রস্ত যে সাধারণ গৃহস্থালি সামলানোর যোগ্যও এরা নয়।

কঙ্গনার এই কুরুচিকর মন্তব্যের পরই ভারতের রাজনৈতিক ও বিনোদনজগতে নতুন করে চরম বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘তারকা বানায় তরুণরাই’, ‘জেন-জি’দের ‘নর্দমা’ বলায় কঙ্গনাকে একহাত নিলেন সোনু

আপডেট সময় ০৩:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

আকাশ বিনোদন ডেস্ক : 

নবীন প্রজন্ম বা ‌‘জেন-জি’ আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য করে বিজেপি সাংসদ ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতের কুরুচিকর ও বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ। তরুণ প্রজন্মই তারকাদের তৈরি করে এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে তাদের মতামতকে গুরুত্ব ও শ্রদ্ধা দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

গণমাধ্যমের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় কঙ্গনার এমন মন্তব্যকে অত্যন্ত ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে সোনু স্পষ্ট জানান, যেকোনো পেশার মানুষের অস্তিত্ব টিকে থাকে জনগণের ভালোবাসার ওপর, তাই কথা বলার আগে সবার ভেবেচিন্তে বলা উচিত।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সোনু সুদ প্রথমে জানান যে তিনি কঙ্গনার দেওয়া বক্তব্যটি শোনেননি। তবে সমাজে এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জায়গা তৈরিতে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি তার মন্তব্য শুনিনি। তবে আমি মনে করি এই তরুণরাই একজন অভিনেতাকে তৈরি করে এবং আপনাকে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সাহায্য করে। তরুণদের সঙ্গে নিয়ে চলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, যত দিন তারা আপনার পাশে থাকবে, তত দিন আপনি সমৃদ্ধ হবেন। তারা পাশে না থাকলে পথচলা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই কারণেই সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

নিজের বক্তব্য জোরদার করতে যেকোনো পেশাতেই জনসমর্থনের প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেন সোনু সুদ। তিনি বলেন, আপনার পেশা যা-ই হোক না কেন—আপনি অভিনেতা হন, চিকিৎসক হন কিংবা অন্য যেকোনো পেশারই হন না কেন—এই পৃথিবীতে আপনার অস্তিত্বের সার্থকতা কেবল তখনই থাকে, যখন মানুষ আপনার সঙ্গে যুক্ত থাকে।

এর পরপরই উপস্থিত এক সাংবাদিক যখন তাকে অবহিত করেন যে কঙ্গনা জেন-জি প্রজন্মকে সরাসরি ‘নর্দমা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, তখন এই মন্তব্যকে অত্যন্ত অনুচিত ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন সোনু। তিনি বলেন, তিনি যদি সত্যিই এমনটি বলে থাকেন, তবে আমি মনে করি এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। এমন কথা বলা একেবারেই উচিত হয়নি। হিন্দি প্রবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, একটি প্রবাদ রয়েছে—তোল মোল কে বোল (কথা বলার আগে মেপে কথা বলো)। আপনি কী বলছেন তা নিয়ে আগে থেকেই সতর্কতার সঙ্গে ভাবা অত্যন্ত জরুরি, কারণ জনগণ হলো ঈশ্বরেরই আরেকটি রূপ।

বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেন-জি আন্দোলনকারীদের তীব্র সমালোচনা করে কঙ্গনা রানাওয়াতের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদী তরুণদের ব্যবহৃত ভাষার ধরন নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কঙ্গনা লেখেন, এসব আন্দোলনের দৃশ্য তার কাছে ‘বমি পাওয়ার মতো’। নিজের পোস্টে কঙ্গনা লেখেন, জীবনে কখনো এক জায়গায় এতটা কুৎসিত দৃশ্য দেখিনি। জেন-জিদের আন্দোলনের এই রিলসগুলো দেখলে বমি আসে। তারা যেভাবে কথা বলছে এবং যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করছে—আমার পুরো জীবনে প্রতিটি ফ্রেমে একসঙ্গে এত চোখধাঁধানো অপসংস্কৃতি ও রুচিহীনতা কখনো দেখিনি।

কঙ্গনা এখানেই থেমে থাকেননি, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে দাবি করেন যে তারা মদ ও মাদকের ব্যবহার এবং বাবা-মায়ের টাকায় নির্লজ্জভাবে জীবনযাপন করাকে গর্বের বিষয় মনে করে। তরুণদের আক্রমণ করে তিনি আরও লেখেন, আমি এদের বলি ‘জেনারেশন গটার’ (নর্দমার প্রজন্ম)। দেশের উন্নয়নে এদের কোনো অবদান নেই। এরা পড়াশোনায় ভালো নয়। এরা এতটাই বিকৃত ও দুর্নীতিগ্রস্ত যে সাধারণ গৃহস্থালি সামলানোর যোগ্যও এরা নয়।

কঙ্গনার এই কুরুচিকর মন্তব্যের পরই ভারতের রাজনৈতিক ও বিনোদনজগতে নতুন করে চরম বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।