আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
বিজ্ঞাপনের কাজের প্রস্তাব দিয়ে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতন, প্রাণনাশের হুমকি এবং জোর করে মাদকজাতীয় কিছু পান করানোর অভিযোগ তুলেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী স্নিগ্ধা চৌধুরী। সোমবার বনানীর একটি বাসায় সংবাদ সম্মেলনে আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
স্নিগ্ধা বলেন, ‘গত শুক্রবার ইমন নামে এক মডেল কো-অর্ডিনেটর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি আমাকে জানান, আশিয়ান গ্রুপের বিজ্ঞাপনের চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করতে চান ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। এ জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা সম্মানীর কথাও হয়। প্রথমে আমি বনানীর একটি হোটেলে বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও পরে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিরাপত্তাজনিত কারণে বাইরে আসতে পারবেন না। এরপর মায়ের সঙ্গে আমি ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকায় একটি ভবনে যাই। সেখানে প্রবেশের সময় একাধিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের বিষয়টি আমার সন্দেহ হয়। তারপরও ভেতরে গিয়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি।’
অভিনেত্রী বলেন, ‘সাক্ষাৎ পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। কিছুক্ষণ পর আমার মা বাসায় ফিরে গেলে আমি ও ইমন সেখানে থেকে যাই। এরপর ওই ব্যক্তি আমার সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন এবং আমাকে অন্য এক নারীর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। এমনকি সাত লাখ টাকার পর্দা কেনার বিষয়ে অভিযোগ তোলেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমার সঙ্গে তার কখনো দেখাই হয়নি।’
স্নিগ্ধা বলেন, ‘একপর্যায়ে আমি ওয়াশরুমে গিয়ে ভেতরে একটি গোপন কক্ষ বা ‘টর্চার সেল’ দেখতে পাই। তখন পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে ইমন জানান, ওই ব্যক্তি অন্য এক মডেলের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে প্রতারিত হয়েছেন এবং চেহারার মিল থাকায় আমাকে সেই নারী মনে করছেন।’
অভিনেত্রী স্নিদ্ধা বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর ইমনকে কক্ষের বাইরে পাঠিয়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর আমাকে একটি সোফায় বসিয়ে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কাঠের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং গলা চেপে ধরা হয়। মারধরের একপর্যায়ে পানি চাইলে আমার মুখে গরম কফি ঢেলে দেওয়া হয়। পরে জোর করে অজ্ঞাত পদার্থ মেশানো পানীয় পান করানো হয়। কিছুক্ষণ পর আমি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করি। পরে ওই ভবনের একতলা থেকে লাফ দিয়ে কোনো রকম বেঁচে ফিরেছি।’
ঘটনার পর রোববার রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় গেলে প্রথমে মামলা নিতে অনাগ্রহ দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন অভিনেত্রী স্নিগ্ধা। তবে অনুরোধের পর মামলা গ্রহণ করা হলে সোমবারই জামিন পান অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া।
স্নিগ্ধা চৌধুরী সরকারের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে আশিয়ান গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (মিডিয়া ও কমিউনিকেশনস) সৈয়দ শফিকুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















