আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিকের। দুই দফা বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষায় বৈধতা পাওয়ার পরও প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের সমালোচনা থামছে না। এবার এ নিয়ে মুখ খুলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন এই পাকিস্তানি স্পিনার।
তারিকের বোলিং অ্যাকশন বেশ ব্যতিক্রমী। রান-আপ শেষে ডেলিভারি স্ট্রাইডে এসে তিনি কয়েক সেকেন্ড থেমে যান, এরপর লো-আর্ম বা সাইড-আর্ম ভঙ্গিতে বল ছাড়েন। এই অস্বাভাবিক অ্যাকশন নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে।
২০২৪ ও ২০২৫ সালে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) দুইবার তার বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে রিপোর্ট করেছিলেন অন-ফিল্ড আম্পায়াররা। তবে উভয়বারই পরীক্ষায় তার অ্যাকশন বৈধ বলে প্রমাণিত হয়।
তবুও বিতর্ক থামেনি। চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে আউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন গ্রিন বেসবল স্টাইলে বল ছোড়ার ভঙ্গি করে তারিকের অ্যাকশন নিয়ে কটাক্ষ করেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে সেই আচরণের জবাব দেন পাকিস্তানি স্পিনার।
এরপর আইএলটি-টোয়েন্টির প্রথম কোয়ালিফায়ারে ইংলিশ ব্যাটসম্যান টম ব্যান্টনও মাঠেই তারিকের বোলিং অ্যাকশন নকল করেন। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টেও একই বিতর্ক দেখা যায়। বার্মিংহাম ফিনিক্সের বিপক্ষে আউট হওয়ার পর ট্রেন্ট রকেটসের ব্যাটসম্যান টিম ডেভিড আম্পায়ারের কাছে ‘নো বল’-এর ইঙ্গিত দেন, যদিও আম্পায়ার সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।
বারবার একই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘বিয়ার্ড বিফোর উইকেট’ পডকাস্টে তারিক বলেন, ব্যাটসম্যানদের এমন আচরণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে যায় না।
তিনি বলেন,‘এটা ওই ক্রিকেটারদের মানসিকতারই প্রতিফলন। এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা তাদের কাজ নয়। মাঠে ও মাঠের বাইরে দায়িত্বপ্রাপ্ত আম্পায়াররা আছেন, তারাই আমার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার অধিকার রাখেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা তোমাদের (ব্যাটসম্যানদের) কাজ নয়। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে খেলার নিয়ম বোঝার মতো যথেষ্ট পরিণত হওয়া উচিত। নেতিবাচক আচরণের বদলে নিজেদের পেশাদার হিসেবে উপস্থাপন করাই ভালো।’
বর্তমানে ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে খেলছেন উসমান তারিক। এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে দুটি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। এর আগে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে ১১ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন পাকিস্তানের এই স্পিনার। ওই আসরে তার বোলিং গড় ছিল ১৬ এবং ইকোনমি রেট ছিল ওভারপ্রতি মাত্র ৬.০৯।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















