ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উগ্রবাদ ঠেকাতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে: সিটিটিসি আগামী সপ্তাহ থেকে কিছুটা গ্যাস সংকট কেটে যাবে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলবে চায়না অর্থনৈতিক অঞ্চল : অর্থমন্ত্রী কমিউনিটি এনগেজমেন্টের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে শক্তিশালী করতে হবে: ববি হাজ্জাজ এক হাজার ফাউন্ডারকে জমির দলিল দিল সুখের খামার রাবি ছাত্রীকে চাকু-পিস্তলের ভয় দেখানোর অভিযোগ, পদ্মায় ফেলে দেওয়ার হুমকি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট মালদ্বীপের স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদান চলছে, তবে আলোচনার পরিস্থিতি নেই: ইরান

রাবি ছাত্রীকে চাকু-পিস্তলের ভয় দেখানোর অভিযোগ, পদ্মায় ফেলে দেওয়ার হুমকি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক ছাত্রীকে চাকু বের করে এবং পিস্তলের ভয় দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। অভিযোগকারী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে পড়েন। অভিযুক্ত মহসিন আলম একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রক্টর দপ্তরে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী দাবি করেন, গত ২২ জুলাই থেকে মহসিন আলম তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও মানসিকভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর গত ২৬ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে জোর করে তাকে পদ্মার পাড়ে নিয়ে গিয়ে আবারও একই প্রস্তাব দেন।

অভিযোগে বলা হয়, দ্বিতীয়বারও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে মহসিন আলম পকেট থেকে একটি চাকু বের করে ভয়ভীতি দেখান এবং পিস্তলেরও ভয় দেখান।

ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে প্রথমে মেসের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রুয়েট হয়ে আবার পদ্মার পাড়ে নিয়ে গিয়ে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি কান্নাকাটি করলে তাকে মেসে ফিরিয়ে আনা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর বিভিন্ন নম্বর থেকে তাকে ফোন করে অভিযুক্ত আত্মহত্যা করেছেন বলে ভয় দেখানো হয়। একই সঙ্গে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহসিন আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মহসিন আলম ছাত্রদলের কর্মী, ক্যাম্পাসে অনেকে এমন দাবি করছেন। তবে তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাত্রদলের কোনো সক্রিয় কর্মী বা নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কেউ নন। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ওই ছাত্রীর বক্তব্য শুনেছি। ঘটনাস্থলে অভিযুক্তের সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন। পরে তারা ফোন করে জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ দুপুরে অভিযুক্তসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডাকা হয়েছে। এক পক্ষের বক্তব্য শুনে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে অভিযুক্তের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি কিছুটা রহস্যজনক মনে হয়েছে। তাদের বক্তব্যে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। সবার বক্তব্য শোনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উগ্রবাদ ঠেকাতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে: সিটিটিসি

রাবি ছাত্রীকে চাকু-পিস্তলের ভয় দেখানোর অভিযোগ, পদ্মায় ফেলে দেওয়ার হুমকি

আপডেট সময় ০২:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক ছাত্রীকে চাকু বের করে এবং পিস্তলের ভয় দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। অভিযোগকারী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে পড়েন। অভিযুক্ত মহসিন আলম একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রক্টর দপ্তরে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী দাবি করেন, গত ২২ জুলাই থেকে মহসিন আলম তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও মানসিকভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর গত ২৬ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে জোর করে তাকে পদ্মার পাড়ে নিয়ে গিয়ে আবারও একই প্রস্তাব দেন।

অভিযোগে বলা হয়, দ্বিতীয়বারও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে মহসিন আলম পকেট থেকে একটি চাকু বের করে ভয়ভীতি দেখান এবং পিস্তলেরও ভয় দেখান।

ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, তিনি কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে প্রথমে মেসের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রুয়েট হয়ে আবার পদ্মার পাড়ে নিয়ে গিয়ে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে তিনি কান্নাকাটি করলে তাকে মেসে ফিরিয়ে আনা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর বিভিন্ন নম্বর থেকে তাকে ফোন করে অভিযুক্ত আত্মহত্যা করেছেন বলে ভয় দেখানো হয়। একই সঙ্গে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ারও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহসিন আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মহসিন আলম ছাত্রদলের কর্মী, ক্যাম্পাসে অনেকে এমন দাবি করছেন। তবে তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাত্রদলের কোনো সক্রিয় কর্মী বা নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কেউ নন। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ওই ছাত্রীর বক্তব্য শুনেছি। ঘটনাস্থলে অভিযুক্তের সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন। পরে তারা ফোন করে জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আজ দুপুরে অভিযুক্তসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডাকা হয়েছে। এক পক্ষের বক্তব্য শুনে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। তবে অভিযুক্তের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি কিছুটা রহস্যজনক মনে হয়েছে। তাদের বক্তব্যে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। সবার বক্তব্য শোনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’