ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৫৮ নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করছে সরকার : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার চলতি অর্থবছরে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা, পণ্য বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন ও গবেষণায় সরকারের প্রাধান্য: মাহ্দী আমিন অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জুলাইয়ের ২৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২২৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলার ১৬ বছরে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে: আইনমন্ত্রী পশ্চিম তীরে আরও ব্যাপক হামলার হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর বদির মেটিকুলাস ডিজাইনেই একরাম হত্যা : চিফ প্রসিকিউটর হরমুজে তেলের ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

টি-টোয়েন্টিতে ভারতের নতুন বিশ্বরেকর্ড

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক: 

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বড় সংগ্রহ গড়া যেন ভারতের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতারই নতুন অধ্যায় লিখল তারা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টিতে। হারারেতে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২১৯ রান তোলে ভারত, আর সেই সঙ্গে গড়ে ফেলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির নতুন বিশ্বরেকর্ড।

২০২৬ সালে এটি ভারতের নবম ২০০ বা তার বেশি রানের ইনিংস। আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টির ইতিহাসে কোনো দল এক ক্যালেন্ডার বছরে এতবার ২০০-এর গণ্ডি স্পর্শ করতে পারেনি। এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ডটিও ছিল ভারতেরই। ২০২৪ সালে তারা নয়বার ২০০+ সংগ্রহ গড়েছিল। তবে এবার মাত্র ২৩ ম্যাচ খেলেই সেই মাইলফলক স্পর্শ করে নতুন রেকর্ড নিজেদের দখলে নিল তারা।

তবে বছর শেষ হতে এখনও অনেক সময় বাকি। সামনে রয়েছে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সিরিজ ও টুর্নামেন্ট। ফলে বছরের শেষে এই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। ২০২৪ ও ২০২৬—দুই বছরই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বছর। আগের আসরে রোহিত শর্মা ও সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত ২৬ ম্যাচে নয়বার ২০০ বা তার বেশি রান তুলেছিল। এবার বিশ্বকাপের পর নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। সূর্যকুমারের জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার। অধিনায়ক বদলালেও ভারতের ব্যাটিং দর্শনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেও শুরু থেকেই দ্রুত রান তুলতে থাকে ভারত। যদিও দুই ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী ও অভিষেক শর্মাকে দ্রুত হারায় তারা, এরপর ইনিংসের হাল ধরেন ঈশান কিষান। মাত্র ৪৪ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ২৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেললেও শেষদিকে ঝড় তোলেন তিলক বর্মা। মাত্র ২৯ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৬০ রান করে ভারতের সংগ্রহ ২১৯ রানে নিয়ে যান তিনি। রিংকু সিং ও শিবম দুবেও শেষ ওভারগুলোতে প্রয়োজনীয় গতি যোগ করেন।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ব্রায়ান বেনেট ১৯ বলে ৩২ রান করে দ্রুত রান তুললেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। একসময় ৩৪ রানেই দুই উইকেট হারানোর পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি তারা।

ভারতের বোলাররাও ব্যাটারদের মতোই ছিলেন কার্যকর। অভিষেক শর্মা বল হাতে তিনটি উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের শেষ প্রতিরোধও ভেঙে দেন। যশ ঠাকুর ও প্রিন্স যাদব নেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া রবি বিষ্ণোই, শিবম দুবে ও তিলক বর্মাও একটি করে উইকেট শিকার করেন। ফলে ১৭.৫ ওভারেই ১২৯ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।

৯০ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য লিড নেয় ভারত। একই সঙ্গে মাঠের জয়ের পাশাপাশি পরিসংখ্যানের পাতাতেও নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল তারা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৫৮

টি-টোয়েন্টিতে ভারতের নতুন বিশ্বরেকর্ড

আপডেট সময় ১২:৩০:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক: 

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বড় সংগ্রহ গড়া যেন ভারতের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতারই নতুন অধ্যায় লিখল তারা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি–টোয়েন্টিতে। হারারেতে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ২১৯ রান তোলে ভারত, আর সেই সঙ্গে গড়ে ফেলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির নতুন বিশ্বরেকর্ড।

২০২৬ সালে এটি ভারতের নবম ২০০ বা তার বেশি রানের ইনিংস। আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টির ইতিহাসে কোনো দল এক ক্যালেন্ডার বছরে এতবার ২০০-এর গণ্ডি স্পর্শ করতে পারেনি। এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ডটিও ছিল ভারতেরই। ২০২৪ সালে তারা নয়বার ২০০+ সংগ্রহ গড়েছিল। তবে এবার মাত্র ২৩ ম্যাচ খেলেই সেই মাইলফলক স্পর্শ করে নতুন রেকর্ড নিজেদের দখলে নিল তারা।

তবে বছর শেষ হতে এখনও অনেক সময় বাকি। সামনে রয়েছে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সিরিজ ও টুর্নামেন্ট। ফলে বছরের শেষে এই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। ২০২৪ ও ২০২৬—দুই বছরই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বছর। আগের আসরে রোহিত শর্মা ও সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে ভারত ২৬ ম্যাচে নয়বার ২০০ বা তার বেশি রান তুলেছিল। এবার বিশ্বকাপের পর নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। সূর্যকুমারের জায়গায় দায়িত্ব নিয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার। অধিনায়ক বদলালেও ভারতের ব্যাটিং দর্শনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেও শুরু থেকেই দ্রুত রান তুলতে থাকে ভারত। যদিও দুই ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী ও অভিষেক শর্মাকে দ্রুত হারায় তারা, এরপর ইনিংসের হাল ধরেন ঈশান কিষান। মাত্র ৪৪ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৮১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।

অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ২৫ রানের কার্যকর ইনিংস খেললেও শেষদিকে ঝড় তোলেন তিলক বর্মা। মাত্র ২৯ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৬০ রান করে ভারতের সংগ্রহ ২১৯ রানে নিয়ে যান তিনি। রিংকু সিং ও শিবম দুবেও শেষ ওভারগুলোতে প্রয়োজনীয় গতি যোগ করেন।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ব্রায়ান বেনেট ১৯ বলে ৩২ রান করে দ্রুত রান তুললেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। একসময় ৩৪ রানেই দুই উইকেট হারানোর পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি তারা।

ভারতের বোলাররাও ব্যাটারদের মতোই ছিলেন কার্যকর। অভিষেক শর্মা বল হাতে তিনটি উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের শেষ প্রতিরোধও ভেঙে দেন। যশ ঠাকুর ও প্রিন্স যাদব নেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া রবি বিষ্ণোই, শিবম দুবে ও তিলক বর্মাও একটি করে উইকেট শিকার করেন। ফলে ১৭.৫ ওভারেই ১২৯ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।

৯০ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে অপ্রতিরোধ্য লিড নেয় ভারত। একই সঙ্গে মাঠের জয়ের পাশাপাশি পরিসংখ্যানের পাতাতেও নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রতিষ্ঠা করল তারা।