ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

১০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ মেঘমালা: এশিয়াজুড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

এশিয়া মহাদেশের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে তৈরি হয়েছে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল বৃষ্টিবলয়। সদ্য পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, উত্তর ভারত, হিমালয় ও চীন হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত এই মেঘমালা বিস্তৃত। এর ফলে এবারের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু তার অন্যতম সক্রিয় রূপ ধারণ করেছে।

আবহাওয়াবিদরা এই পরিস্থিতিকে ‘মৌসুমি বায়ুর মিলনস্থল’ (monsoon convergence zone) হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। মূলত ভারত মহাসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বাতাসের সঙ্গে এশিয়ার অন্যান্য আবহাওয়া ব্যবস্থার সংঘর্ষের ফলে এই বিশাল মেঘমালার সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা টানা ভারী বৃষ্টির এই ঘটনাকে একটি ‘দীর্ঘ মৌসুমি দিন’ বলে বর্ণনা করেছেন।

এই মেঘমালার কারণে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আবহাওয়ার চরম রূপ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি ও রাজস্থানের কিছু অংশে ব্যাপক ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের জেরে পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতেও টানা তীব্র বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।

টানা বৃষ্টির কারণে বন্যা ও দুর্যোগের শঙ্কা বাড়ছে। ভারত সরকার সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে হড়কা বান, শহর অঞ্চলে জলাবদ্ধতা, ভূমিধস এবং নদীর পানি বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে হিমালয় ঘেঁষা উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি আরব সাগর থেকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পুরো এশিয়ার আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। আগামী কয়েক দিন এই মেঘমালা ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে যেমন অতিপ্রয়োজনীয় স্বস্তির বৃষ্টি আনবে, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে বন্যা পরিস্থিতিরও শঙ্কা তৈরি করবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

১০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ মেঘমালা: এশিয়াজুড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

আপডেট সময় ০৯:৪০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

এশিয়া মহাদেশের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে তৈরি হয়েছে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল বৃষ্টিবলয়। সদ্য পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, উত্তর ভারত, হিমালয় ও চীন হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত এই মেঘমালা বিস্তৃত। এর ফলে এবারের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু তার অন্যতম সক্রিয় রূপ ধারণ করেছে।

আবহাওয়াবিদরা এই পরিস্থিতিকে ‘মৌসুমি বায়ুর মিলনস্থল’ (monsoon convergence zone) হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। মূলত ভারত মহাসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ আর্দ্র বাতাসের সঙ্গে এশিয়ার অন্যান্য আবহাওয়া ব্যবস্থার সংঘর্ষের ফলে এই বিশাল মেঘমালার সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা টানা ভারী বৃষ্টির এই ঘটনাকে একটি ‘দীর্ঘ মৌসুমি দিন’ বলে বর্ণনা করেছেন।

এই মেঘমালার কারণে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আবহাওয়ার চরম রূপ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি ও রাজস্থানের কিছু অংশে ব্যাপক ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের জেরে পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতেও টানা তীব্র বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।

টানা বৃষ্টির কারণে বন্যা ও দুর্যোগের শঙ্কা বাড়ছে। ভারত সরকার সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে হড়কা বান, শহর অঞ্চলে জলাবদ্ধতা, ভূমিধস এবং নদীর পানি বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে হিমালয় ঘেঁষা উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি আরব সাগর থেকে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পুরো এশিয়ার আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। আগামী কয়েক দিন এই মেঘমালা ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে যেমন অতিপ্রয়োজনীয় স্বস্তির বৃষ্টি আনবে, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে বন্যা পরিস্থিতিরও শঙ্কা তৈরি করবে।