ঢাকা ১১:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১১ দলীয় জোটের সমাবেশ থেকে কর্নেল অলির ‘হুংকার’ তৃণমূল সংগঠনের খোঁজ-খবর ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প কারখানা ও প্রবাসীদের ত্রিপাক্ষিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে সরকার: মাহদী আমিন নির্লজ্জ দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করছে সরকার: জামায়াত আমির ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত ‘সুধাসদন’ থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ নিয়ে তাকে সাংবিধানিকভাবে দায়মুক্তি দিয়ে গেছে নাহিদ মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না: পানিসম্পদমন্ত্রী জুলাইয়ের দিনগুলোই জ্বলন্ত সাক্ষী, ইসলামী আন্দোলন মানবতার পক্ষের শক্তি: চরমোনাই পীর ভারতের আন্দোলনরত ছাত্র-তরুণদেরকে অভিনন্দন নাহিদ ইসলামের

জুলাই অভ্যুত্থানে পেশাজীবীদের সক্রিয় ভুমিকা ছিল: দুদু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাঙালি জাতি কখনো অন্যায় সহ্য করে না মন্তব্য করে বিএনপির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সকল শ্রেণির মানুষের অবদান রয়েছে। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ বিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানে পেশাজীবীদের সক্রিয় ভুমিকা ছিল।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (ডিইএব) এর সেমিনার হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘রক্তাক্ত জুলাই এবং পেশাজীবীদের ভুমিকা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ডিইএব ডিপিডিসি শাখা।

সংগঠনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মীর হোসেন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান জুয়েলের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রকৌশলী তরিকুল হক, প্রকৌশলী রেজাউল করিম, শ্রমিক দল নেতা দেলোয়ার হোসেন, প্রকৌশলী আবুল মনসুর, প্রকৌশলী এএসএম তারেক তুষার, প্রকৌশলী ওবায়দুল আলম প্রমুখ। প্রধান অতিথি শামসুজ্জামান দুদুকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

পরে অনুষ্ঠানের সভাপতি জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় যোদ্ধা প্রকৌশলী মো. মীর হোসেন পাটোয়ারীর হাতেও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি শামসুজ্জামান দুদু।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বাঙালি জাতি কখনো অন্যায় সহ্য করেনা। সেজন্যই গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে পেশাজীবীদের সক্রিয় ভুমিকা ছিলো। কেননা, সার্বজনীন না হলে সেটা আন্দোলন হয়না। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সব শ্রেণীর মানুষ আমাদের পেছনে ছিলো। চব্বিশে আমরা ছিলাম তরুণদের পেছনে।

তিনি আরো বলেন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের দাবিগুলো যৌক্তিক। যারা ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে জনগণের সেবা দেয় তাদের কথা সরকারের অবশ্যই শোনা এবং বোঝা দরকার। সেই সঙ্গে দাবিসমূহ সমাধানে উদ্যোগী হওয়া উচিত। যারা ভোট দিয়ে, রাস্তায় আন্দোলন করে জীবন দিয়ে শ্রম দিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে তাদের বিভিন্ন দাবি থাকবেই। আশা করি আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেগুলো ইতিবাচকভাবে নেবেন। কেননা তিনি নিজেও নির্যাতিত। তার বাবা ও মা এদেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সুতরাং তিনি পেশাজীবীদের কথা অবশ্যই ভাবেন। এই সরকার জনগণের সরকার, আমাদের স্বপ্নের সরকার।

মীর হোসেন পাটোয়ারী মিলন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে ডিইএব‘র প্রকৌশলীসহ পেশাজীবীদের সক্রিয় ভুমিকা ছিল। অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আমি অসহায় সহযোদ্ধাদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখার জন্য সরকারের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

অন্য বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এখন বিদ্যুৎ খাত বেসরকারি খাতে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এটা হবে বড় ভুল এবং এতে বিদ্যুৎ খাতে কর্মরত সবার মাঝে অসন্তোষ দেখা দিবে। বরং সিস্টেম লস কমিয়ে এবং গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি করে কীভাবে আরো ভালোভাবে সেবা দেওয়া যায় সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষ আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রীকে তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তারা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই অভ্যুত্থানে পেশাজীবীদের সক্রিয় ভুমিকা ছিল: দুদু

আপডেট সময় ০২:২০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাঙালি জাতি কখনো অন্যায় সহ্য করে না মন্তব্য করে বিএনপির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সকল শ্রেণির মানুষের অবদান রয়েছে। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ বিরোধী জুলাই অভ্যুত্থানে পেশাজীবীদের সক্রিয় ভুমিকা ছিল।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (ডিইএব) এর সেমিনার হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘রক্তাক্ত জুলাই এবং পেশাজীবীদের ভুমিকা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে ডিইএব ডিপিডিসি শাখা।

সংগঠনের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মীর হোসেন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান জুয়েলের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রকৌশলী তরিকুল হক, প্রকৌশলী রেজাউল করিম, শ্রমিক দল নেতা দেলোয়ার হোসেন, প্রকৌশলী আবুল মনসুর, প্রকৌশলী এএসএম তারেক তুষার, প্রকৌশলী ওবায়দুল আলম প্রমুখ। প্রধান অতিথি শামসুজ্জামান দুদুকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

পরে অনুষ্ঠানের সভাপতি জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় যোদ্ধা প্রকৌশলী মো. মীর হোসেন পাটোয়ারীর হাতেও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি শামসুজ্জামান দুদু।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বাঙালি জাতি কখনো অন্যায় সহ্য করেনা। সেজন্যই গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে পেশাজীবীদের সক্রিয় ভুমিকা ছিলো। কেননা, সার্বজনীন না হলে সেটা আন্দোলন হয়না। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সব শ্রেণীর মানুষ আমাদের পেছনে ছিলো। চব্বিশে আমরা ছিলাম তরুণদের পেছনে।

তিনি আরো বলেন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের দাবিগুলো যৌক্তিক। যারা ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে জনগণের সেবা দেয় তাদের কথা সরকারের অবশ্যই শোনা এবং বোঝা দরকার। সেই সঙ্গে দাবিসমূহ সমাধানে উদ্যোগী হওয়া উচিত। যারা ভোট দিয়ে, রাস্তায় আন্দোলন করে জীবন দিয়ে শ্রম দিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে তাদের বিভিন্ন দাবি থাকবেই। আশা করি আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেগুলো ইতিবাচকভাবে নেবেন। কেননা তিনি নিজেও নির্যাতিত। তার বাবা ও মা এদেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সুতরাং তিনি পেশাজীবীদের কথা অবশ্যই ভাবেন। এই সরকার জনগণের সরকার, আমাদের স্বপ্নের সরকার।

মীর হোসেন পাটোয়ারী মিলন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনে ডিইএব‘র প্রকৌশলীসহ পেশাজীবীদের সক্রিয় ভুমিকা ছিল। অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আমি অসহায় সহযোদ্ধাদের প্রতি সুদৃষ্টি রাখার জন্য সরকারের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

অন্য বক্তারা বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এখন বিদ্যুৎ খাত বেসরকারি খাতে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এটা হবে বড় ভুল এবং এতে বিদ্যুৎ খাতে কর্মরত সবার মাঝে অসন্তোষ দেখা দিবে। বরং সিস্টেম লস কমিয়ে এবং গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি করে কীভাবে আরো ভালোভাবে সেবা দেওয়া যায় সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষ আরো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রীকে তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তারা।