ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বনিবনা না হলে কবে আবার তিনিও জামায়াত থেকে বের হয়ে যান: রাশেদ খাঁন আইনি যা সুবিধা সবই পাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হজ্জ ক্যাম্পে প্রবাসীদের জন্য ১০০ শয্যার আবাসন ব্যবস্থার ঘোষণা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর নিউইয়র্কে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত বাংলাদেশি ট্যাক্সি ড্রাইভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবির দুই দিন পর নিখোঁজ পর্যটকের লাশ উদ্ধার বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামের কাছে দ্বিতীয় স্থান হারিয়েছে বাংলাদেশ: বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে কেমিক্যাল কারখানায় আগুন, ফায়ার ফাইটারসহ আহত ৫ দেশে আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

‘ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে কেউ পারবে না’

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকির পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ইরান যদি তেল বিক্রি করতে না পারে, তাহলে এই অঞ্চলের অন্য কোনো দেশও তেল বিক্রি করতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে অঞ্চলের কোনো অবকাঠামোও নিরাপদ থাকবে না।

বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এখন ‘সব অথবা কিছুই নয়’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, ‘যে অঞ্চলে আমরা তেল বিক্রি করতে পারি না, সেখানে অন্য কেউও তেল বিক্রি করতে পারবে না।’

গালিবাফ আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব। ইরান বহুবার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের আগের অবস্থায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আর ফিরে যাবে না।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলার জবাবে ‘শক্তিশালী ও চূড়ান্ত’ প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। পাশাপাশি এমন হামলায় যে দেশগুলো যেকোনো ধরনের সহায়তা করবে, তাদেরও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন, আমাদের অবকাঠামোর ওপর হামলাসহ, শক্তিশালী ও চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া ডেকে আনবে।’

এর আগে এক ইরানি সামরিক সূত্র সতর্ক করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায়, তাহলে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ জড়িত রয়েছে।

আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থাকে ওই সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ইরান ‘ইস্পাত কঠিন সংকল্প’ নিয়ে এগোচ্ছে এবং এই জলপথকে আর কখনো দেশের বিরুদ্ধে হুমকির উৎস হতে দেবে না।

সূত্রটি আরও দাবি করে, জাহাজগুলো যদি ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং তেহরানের নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা মেনে চলে, তাহলে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিরাপদ থাকবে। অন্যথায়, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান কৌশলগত এই জলপথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখবে।

ওই সামরিক সূত্রের দাবি, গত ১০ দিনে যুক্তরাষ্ট্র বুঝে গেছে যে ইরান চাইলে যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন কোনো ‘ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ’ আগের মতোই ব্যর্থ হবে বলেও মন্তব্য করে তারা।

এর আগে বুধবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে হুঁশিয়ারি দেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবারই তেহরানের ভেতরে বা রাজধানীর আশপাশে থাকা একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে।

ট্রাম্প লেখেন, ‘এখন থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যখনই কোনো জাহাজে হামলা চালাবে, যুক্তরাষ্ট্র একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করবে।’

এদিকে তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৮ মিনিটে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি দ্বীপে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হামলার স্থান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথায় আঘাত হেনেছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে গত জুনে পাকিস্তারের মধ্যস্থতায় একটি কাঠামোগত সমঝোতা হলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বনিবনা না হলে কবে আবার তিনিও জামায়াত থেকে বের হয়ে যান: রাশেদ খাঁন

‘ইরান তেল বিক্রি করতে না পারলে কেউ পারবে না’

আপডেট সময় ১১:২০:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকির পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ইরান যদি তেল বিক্রি করতে না পারে, তাহলে এই অঞ্চলের অন্য কোনো দেশও তেল বিক্রি করতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে অঞ্চলের কোনো অবকাঠামোও নিরাপদ থাকবে না।

বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি এখন ‘সব অথবা কিছুই নয়’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, ‘যে অঞ্চলে আমরা তেল বিক্রি করতে পারি না, সেখানে অন্য কেউও তেল বিক্রি করতে পারবে না।’

গালিবাফ আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব। ইরান বহুবার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধের আগের অবস্থায় হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আর ফিরে যাবে না।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলার জবাবে ‘শক্তিশালী ও চূড়ান্ত’ প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। পাশাপাশি এমন হামলায় যে দেশগুলো যেকোনো ধরনের সহায়তা করবে, তাদেরও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন, আমাদের অবকাঠামোর ওপর হামলাসহ, শক্তিশালী ও চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া ডেকে আনবে।’

এর আগে এক ইরানি সামরিক সূত্র সতর্ক করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায়, তাহলে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ জড়িত রয়েছে।

আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থাকে ওই সূত্র জানায়, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ইরান ‘ইস্পাত কঠিন সংকল্প’ নিয়ে এগোচ্ছে এবং এই জলপথকে আর কখনো দেশের বিরুদ্ধে হুমকির উৎস হতে দেবে না।

সূত্রটি আরও দাবি করে, জাহাজগুলো যদি ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং তেহরানের নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা মেনে চলে, তাহলে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিরাপদ থাকবে। অন্যথায়, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান কৌশলগত এই জলপথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখবে।

ওই সামরিক সূত্রের দাবি, গত ১০ দিনে যুক্তরাষ্ট্র বুঝে গেছে যে ইরান চাইলে যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন কোনো ‘ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ’ আগের মতোই ব্যর্থ হবে বলেও মন্তব্য করে তারা।

এর আগে বুধবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে হুঁশিয়ারি দেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট, ড্রোন বা অন্য কোনো অস্ত্র দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবারই তেহরানের ভেতরে বা রাজধানীর আশপাশে থাকা একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে।

ট্রাম্প লেখেন, ‘এখন থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যখনই কোনো জাহাজে হামলা চালাবে, যুক্তরাষ্ট্র একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করবে।’

এদিকে তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৮ মিনিটে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর একটি দ্বীপে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হামলার স্থান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথায় আঘাত হেনেছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে গত জুনে পাকিস্তারের মধ্যস্থতায় একটি কাঠামোগত সমঝোতা হলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে।