ঢাকা ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী ‘যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে’:মির্জা ফখরুল পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যেই গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ: আমিনুল হক বাধ্যতামূলক অবসরে অতিরিক্ত ডিআইজি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য চোকাতে হবে: ট্রাম্প প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে:জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন ‘জেন্টলম্যান ফর এক্সেলেন্স’: প্রধান বিচারপতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেকের সক্রিয় ভূমিকা চায় ঢাকা কাপ্তাই হৃদে নিখোঁজ বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার

‘আমরা চাপে পড়েছিলাম আর সেই চাপ সামলাতে পারিনি’:শুবমান গিল

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক: 

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হার শুধু একটি পরাজয় নয়, ভারতের জন্য বড় একটি সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন শুবমান গিল। ভারতীয় অধিনায়কের মতে, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হয়ে থাকতে চাইলে সবার আগে সমাধান করতে হবে দলের ফিটনেস সমস্যা। কারণ, ঘন ঘন খেলোয়াড় চোটে পড়ায় পরিকল্পনা অনুযায়ী দল নামানোই সম্ভব হচ্ছে না।

লর্ডসে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে ২৭ রানে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে গিল বলেন, খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিসিসিআইয়ের মেডিকেল টিমকেও ফিটনেস উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

মূল ১৫ সদস্যের স্কোয়াড থেকে একাধিক ক্রিকেটারকে ছাড়াই লর্ডসের ম্যাচ খেলতে হয়েছে ভারতকে। কার্ডিফ ওয়ানডেতে পাওয়া আঘাতের কারণে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি জাসপ্রিত বুমরাহ। ওয়াশিংটন সুন্দরও হ্যামস্ট্রিং চোটে ছিটকে যান। এর আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজে একই ধরনের চোট পান হর্ষিত রানা। আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে কোয়াড্রিসেপসে চোট পাওয়ায় ইংল্যান্ড সফরেই যেতে পারেননি নীতিশ কুমার রেড্ডি।

এমন পরিস্থিতিতে দল গঠনে বারবার পরিবর্তন আনতে হয়েছে বলে জানান গিল, “আমরা যে প্রথম স্কোয়াড ঘোষণা করেছিলাম, সেখান থেকে অন্তত পাঁচজন এই ম্যাচে খেলতে পারেনি। একজন চোটে পড়লে এক ধরনের সমন্বয় করা যায়, দুজন চোটে পড়লেও বিকল্প ভাবা যায়। কিন্তু যদি প্রায় প্রতিটি ম্যাচের পরই কাউকে হারাতে হয়, তাহলে কোথাও না কোথাও আমরা ভুল করছি।

আসন্ন বিশ্বকাপের কথা উল্লেখ করে ভারত অধিনায়ক বলেন, “বিশ্বকাপে টানা ১১টি ম্যাচ খেলতে হবে। অথচ এখানে আমরা দুই-তিন ম্যাচের একটি সিরিজও একই দল নিয়ে শেষ করতে পারছি না। আমাদের খেলোয়াড়রা ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারছে না। এক-দুটি ম্যাচ খেলেই ছোটখাটো চোটে পড়ছে। ফলে আমাদের এমন কম্বিনেশন খেলাতে হচ্ছে, যা শুরুতে পরিকল্পনায় ছিল না।”

ম্যাচের দিন পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থাকাও দলের জন্য বড় সমস্যা বলে মনে করেন তিনি, “ম্যাচের দিন সকালে এসে যদি জানতে হয় কোনো খেলোয়াড় পুরোপুরি ফিট নয়, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। ধরুন, একজন বোলার ৮০ শতাংশ ফিট। আপনি পাঁচজন বোলার নিয়ে খেলছেন। সে যদি পাঁচ ওভার বল করার পর মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়, তাহলে বাকি ওভার কে করবে? এমন পরিস্থিতি খুবই কঠিন। তাই দল হিসেবে আমাদের ফিটনেস এবং এ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো আরও উন্নত করতে হবে।”

লর্ডসে ভারতের পরাজয়ের কারণও বিশ্লেষণ করেছেন গিল। তার মতে, অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ প্রথম ১০ ওভার এবং শেষ ১০ ওভারে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, “আমাদের বোলিং আক্রমণ কিছুটা অনভিজ্ঞ। এই ম্যাচে আমরা চাপে পড়েছিলাম আর সেই চাপ সামলাতে পারিনি। পাওয়ারপ্লেতে খুব ভালো শুরু করতে পারিনি। অনেক লুজ বল করেছি। এরপর আমরা শুধু উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করে গেছি, কিন্তু সেটা কাজে আসেনি। তখন পর্যন্ত ম্যাচ আমাদের হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল।”

বিশেষ করে শেষ তিন ওভারে ৬৩ রান দেওয়াকেই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন তিনি, “শেষ তিন ওভারে আমরা ৬৩ রান দিয়ে ফেলেছি। সেখানেই ম্যাচের গতি পুরোপুরি বদলে যায়। একসময় মনে হচ্ছিল লক্ষ্য ৩৪০ থেকে ৩৫০ রানের মধ্যে থাকবে। কিন্তু তারা প্রায় ৩৯০ রানে পৌঁছে যায়। আর ৩৯০ রান তাড়া করা, উইকেট যেমনই হোক, কখনোই সহজ নয়।”

একজন অতিরিক্ত পেসার খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাখ্যা দেন গিল। তার মতে, বার্মিংহাম ও কার্ডিফের উইকেটে স্পিনারদের খুব বেশি সহায়তা ছিল না। তাই মাঝের ওভারগুলোতে আক্রমণাত্মক বিকল্প তৈরি করতেই অতিরিক্ত পেসার খেলানো হয়। সে কারণেই পুরো টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজে একবারও সুযোগ পাননি স্কোয়াডের একমাত্র রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদব।

তবে সিরিজ হারের পরও ইতিবাচক দিক দেখছেন ভারতীয় অধিনায়ক। তার বিশ্বাস, বেশিরভাগ সময় ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল, কিন্তু ফল নির্ধারণী মুহূর্তগুলোতেই পিছিয়ে পড়েছে দল।

গিল বলেন, “আমরা ম্যাচের প্রায় ৮০ শতাংশ সময় লড়াইয়ে ছিলাম। কিন্তু ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে আমরা ঠিক কাজটা করতে পারিনি। পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে বুঝতে হবে এবং আরও স্মার্ট হতে হবে। যেমন, ইংল্যান্ডের ইনিংসের পাওয়ারপ্লেতে আমাদের পেসাররা অতিরিক্ত রান দিয়ে ফেলেছিল। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোতেই আমাদের উন্নতি করতে হবে।”

গিলের মতে, ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কেবল দল নির্বাচন নয়, বরং সেরা খেলোয়াড়দের দীর্ঘ সময় সুস্থ ও ফিট রাখা। তার ভাষায়, একটি বিশ্বকাপ জিততে হলে প্রতিভার পাশাপাশি টানা ম্যাচ খেলার সামর্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

‘আমরা চাপে পড়েছিলাম আর সেই চাপ সামলাতে পারিনি’:শুবমান গিল

আপডেট সময় ১২:৫০:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক: 

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হার শুধু একটি পরাজয় নয়, ভারতের জন্য বড় একটি সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন শুবমান গিল। ভারতীয় অধিনায়কের মতে, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হয়ে থাকতে চাইলে সবার আগে সমাধান করতে হবে দলের ফিটনেস সমস্যা। কারণ, ঘন ঘন খেলোয়াড় চোটে পড়ায় পরিকল্পনা অনুযায়ী দল নামানোই সম্ভব হচ্ছে না।

লর্ডসে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে ২৭ রানে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে গিল বলেন, খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিসিসিআইয়ের মেডিকেল টিমকেও ফিটনেস উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

মূল ১৫ সদস্যের স্কোয়াড থেকে একাধিক ক্রিকেটারকে ছাড়াই লর্ডসের ম্যাচ খেলতে হয়েছে ভারতকে। কার্ডিফ ওয়ানডেতে পাওয়া আঘাতের কারণে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি জাসপ্রিত বুমরাহ। ওয়াশিংটন সুন্দরও হ্যামস্ট্রিং চোটে ছিটকে যান। এর আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজে একই ধরনের চোট পান হর্ষিত রানা। আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে কোয়াড্রিসেপসে চোট পাওয়ায় ইংল্যান্ড সফরেই যেতে পারেননি নীতিশ কুমার রেড্ডি।

এমন পরিস্থিতিতে দল গঠনে বারবার পরিবর্তন আনতে হয়েছে বলে জানান গিল, “আমরা যে প্রথম স্কোয়াড ঘোষণা করেছিলাম, সেখান থেকে অন্তত পাঁচজন এই ম্যাচে খেলতে পারেনি। একজন চোটে পড়লে এক ধরনের সমন্বয় করা যায়, দুজন চোটে পড়লেও বিকল্প ভাবা যায়। কিন্তু যদি প্রায় প্রতিটি ম্যাচের পরই কাউকে হারাতে হয়, তাহলে কোথাও না কোথাও আমরা ভুল করছি।

আসন্ন বিশ্বকাপের কথা উল্লেখ করে ভারত অধিনায়ক বলেন, “বিশ্বকাপে টানা ১১টি ম্যাচ খেলতে হবে। অথচ এখানে আমরা দুই-তিন ম্যাচের একটি সিরিজও একই দল নিয়ে শেষ করতে পারছি না। আমাদের খেলোয়াড়রা ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারছে না। এক-দুটি ম্যাচ খেলেই ছোটখাটো চোটে পড়ছে। ফলে আমাদের এমন কম্বিনেশন খেলাতে হচ্ছে, যা শুরুতে পরিকল্পনায় ছিল না।”

ম্যাচের দিন পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থাকাও দলের জন্য বড় সমস্যা বলে মনে করেন তিনি, “ম্যাচের দিন সকালে এসে যদি জানতে হয় কোনো খেলোয়াড় পুরোপুরি ফিট নয়, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। ধরুন, একজন বোলার ৮০ শতাংশ ফিট। আপনি পাঁচজন বোলার নিয়ে খেলছেন। সে যদি পাঁচ ওভার বল করার পর মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয়, তাহলে বাকি ওভার কে করবে? এমন পরিস্থিতি খুবই কঠিন। তাই দল হিসেবে আমাদের ফিটনেস এবং এ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো আরও উন্নত করতে হবে।”

লর্ডসে ভারতের পরাজয়ের কারণও বিশ্লেষণ করেছেন গিল। তার মতে, অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ প্রথম ১০ ওভার এবং শেষ ১০ ওভারে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, “আমাদের বোলিং আক্রমণ কিছুটা অনভিজ্ঞ। এই ম্যাচে আমরা চাপে পড়েছিলাম আর সেই চাপ সামলাতে পারিনি। পাওয়ারপ্লেতে খুব ভালো শুরু করতে পারিনি। অনেক লুজ বল করেছি। এরপর আমরা শুধু উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করে গেছি, কিন্তু সেটা কাজে আসেনি। তখন পর্যন্ত ম্যাচ আমাদের হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল।”

বিশেষ করে শেষ তিন ওভারে ৬৩ রান দেওয়াকেই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন তিনি, “শেষ তিন ওভারে আমরা ৬৩ রান দিয়ে ফেলেছি। সেখানেই ম্যাচের গতি পুরোপুরি বদলে যায়। একসময় মনে হচ্ছিল লক্ষ্য ৩৪০ থেকে ৩৫০ রানের মধ্যে থাকবে। কিন্তু তারা প্রায় ৩৯০ রানে পৌঁছে যায়। আর ৩৯০ রান তাড়া করা, উইকেট যেমনই হোক, কখনোই সহজ নয়।”

একজন অতিরিক্ত পেসার খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাখ্যা দেন গিল। তার মতে, বার্মিংহাম ও কার্ডিফের উইকেটে স্পিনারদের খুব বেশি সহায়তা ছিল না। তাই মাঝের ওভারগুলোতে আক্রমণাত্মক বিকল্প তৈরি করতেই অতিরিক্ত পেসার খেলানো হয়। সে কারণেই পুরো টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজে একবারও সুযোগ পাননি স্কোয়াডের একমাত্র রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদব।

তবে সিরিজ হারের পরও ইতিবাচক দিক দেখছেন ভারতীয় অধিনায়ক। তার বিশ্বাস, বেশিরভাগ সময় ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল, কিন্তু ফল নির্ধারণী মুহূর্তগুলোতেই পিছিয়ে পড়েছে দল।

গিল বলেন, “আমরা ম্যাচের প্রায় ৮০ শতাংশ সময় লড়াইয়ে ছিলাম। কিন্তু ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে আমরা ঠিক কাজটা করতে পারিনি। পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে বুঝতে হবে এবং আরও স্মার্ট হতে হবে। যেমন, ইংল্যান্ডের ইনিংসের পাওয়ারপ্লেতে আমাদের পেসাররা অতিরিক্ত রান দিয়ে ফেলেছিল। এই ছোট ছোট বিষয়গুলোতেই আমাদের উন্নতি করতে হবে।”

গিলের মতে, ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কেবল দল নির্বাচন নয়, বরং সেরা খেলোয়াড়দের দীর্ঘ সময় সুস্থ ও ফিট রাখা। তার ভাষায়, একটি বিশ্বকাপ জিততে হলে প্রতিভার পাশাপাশি টানা ম্যাচ খেলার সামর্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।