ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংবিধান সংশোধনের আগে বিএনপির সংশোধন দরকার: নাহিদ ইসলাম ঢাকাজুড়ে ‘ফুটবল জ্বর’, বড় পর্দার খোঁজে সমর্থকরা জুলাই চেতনা সবচেয়ে বেশি ধারণ করে বিএনপি: খায়রুল কবির খোকন ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ধানাই-পানাই মানব না’:শফিকুর রহমান তরুণদের মাদক নয়, খেলাধুলায় মনোযোগী হতে হবে: মির্জা ফখরুল পেরুতে ৫.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৫ নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করাতে পারেন মামদানি শিয়ালের কাছে মুরগি বর্গা দিয়ে জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: চরমোনাই পীর ব্যালট বাক্স চুরি করতে এলে বিষখালি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হবে: হাসনাত আবদুল্লাহ নির্ভুল পূর্বাভাসে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার আহ্বান

ডেকে নিয়ে শিশুর মাথায় ইটের আঘাত, মৃত ভেবে সেফটি ট্যাংকে ফেলে রাখার অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পূর্ববিরোধের জেরে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মাছ ধরার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তার মাথায় আঘাত করে মৃত ভেবে একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেফটি ট্যাংকে ফেলে রাখা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা রাতেই তাকে জীবিত উদ্ধার করেন।

গত শুক্রবার উপজেলার কেরালকাটা ইউনিয়নের সিংগা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার শিশুটির বাবা খায়রুল জামান বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় মামলা করেন। মামলার পর অভিযুক্ত আবু হুরাইরা ওরফে রাসেলকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিংগা গ্রামের বাসিন্দা রাসেলের মাছের ঘের থেকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে খায়রুল জামানের পরিবারের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। এর জেরে ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাসেল মাছ ধরার কথা বলে খায়রুলের ছেলে অরিদ হাসানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। সন্ধ্যা পর্যন্ত অরিদ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, দুপুরের দিকে তিনি অরিদকে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাছে দেখেছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ভবনটিতে গিয়ে খোঁজাখুঁজি ও ডাকাডাকি করেন। একপর্যায়ে ভবনের পেছনে থাকা সেফটি ট্যাংক থেকে ক্ষীণ স্বরে সাড়া পাওয়া যায়।

স্বজনেরা ট্যাংকের ঢাকনা খুলে অরিদকে উদ্ধার করেন। তার মাথায় রক্তাক্ত জখম এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে পরিবারের দাবি। পরে তাকে প্রথমে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় অরিদ পরিবারের সদস্যদের জানান, রাসেল তাকে মাছ ধরার কথা বলে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে আঘাত করেন। পরে তাকে মৃত ভেবে সেফটি ট্যাংকে ফেলে রেখে যান।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেকে নিয়ে শিশুর মাথায় ইটের আঘাত, মৃত ভেবে সেফটি ট্যাংকে ফেলে রাখার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:১৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পূর্ববিরোধের জেরে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মাছ ধরার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তার মাথায় আঘাত করে মৃত ভেবে একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেফটি ট্যাংকে ফেলে রাখা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা রাতেই তাকে জীবিত উদ্ধার করেন।

গত শুক্রবার উপজেলার কেরালকাটা ইউনিয়নের সিংগা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার শিশুটির বাবা খায়রুল জামান বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় মামলা করেন। মামলার পর অভিযুক্ত আবু হুরাইরা ওরফে রাসেলকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিংগা গ্রামের বাসিন্দা রাসেলের মাছের ঘের থেকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে খায়রুল জামানের পরিবারের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। এর জেরে ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাসেল মাছ ধরার কথা বলে খায়রুলের ছেলে অরিদ হাসানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। সন্ধ্যা পর্যন্ত অরিদ বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, দুপুরের দিকে তিনি অরিদকে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কাছে দেখেছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ভবনটিতে গিয়ে খোঁজাখুঁজি ও ডাকাডাকি করেন। একপর্যায়ে ভবনের পেছনে থাকা সেফটি ট্যাংক থেকে ক্ষীণ স্বরে সাড়া পাওয়া যায়।

স্বজনেরা ট্যাংকের ঢাকনা খুলে অরিদকে উদ্ধার করেন। তার মাথায় রক্তাক্ত জখম এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে পরিবারের দাবি। পরে তাকে প্রথমে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় অরিদ পরিবারের সদস্যদের জানান, রাসেল তাকে মাছ ধরার কথা বলে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র ও ইট দিয়ে আঘাত করেন। পরে তাকে মৃত ভেবে সেফটি ট্যাংকে ফেলে রেখে যান।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেন, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।