আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহের মধ্যে দক্ষিণ স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের আলমেরিয়া প্রদেশে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে ৩ হাজার ৮০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনেকেই আগুন থেকে বাঁচতে গাড়িতে করে পালানোর সময় শিখার মধ্যে আটকা পড়ে নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন এবং ২৩ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে গেলেও খাড়া পাহাড়ি এলাকা, তীব্র গরম ও প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগুনের পাশাপাশি এর থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়াও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। ২০২৪ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, দাবানলজনিত দূষণের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। গত বছরের আইবেরীয় উপদ্বীপের ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়ার কারণেও প্রায় ২ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু হয়েছে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে ধারণা করা হচ্ছে, ছিঁড়ে পড়া একটি বিদ্যুৎ লাইনের স্পার্ক থেকে আগুনের সূত্রপাত। গত শীত ও বসন্তে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের ফলে জন্ম নেওয়া গাছপালা ও ঝোপঝাড় তীব্র গ্রীষ্মে শুকিয়ে দাহ্য জ্বালানিতে পরিণত হয়। এর সঙ্গে প্রবল বাতাস ও দীর্ঘস্থায়ী তাপদাহ মিলিয়ে আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ফায়ার সায়েন্টিস্ট গুইলারমো রেইন বলেন, আলমেরিয়ার দাবানলে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সব উপাদান একসঙ্গে উপস্থিত ছিল। অত্যন্ত শুকনো উদ্ভিদ, প্রবল বাতাস, আগুনের সূত্রপাত এবং প্রস্তুতিহীন জনবসতি মিলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
বিজ্ঞানীরা জানান, সিয়েরা দে বেদার এলাকার খাড়া পাহাড়ি ঢালও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকার পর তা প্রায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফুড রিসার্চের সিনিয়র বিজ্ঞানী গুস্তাভো সাইজ বলেন, গ্রীষ্মকালে কয়েক সপ্তাহ বৃষ্টি না হলেই ওই অঞ্চলের শুকনো উদ্ভিদ অত্যন্ত দাহ্য হয়ে ওঠে।
ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে পশ্চিম ইউরোপে এটি তৃতীয় তাপপ্রবাহ। এ বছরের দাবানল ইতোমধ্যে স্পেনের ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনায় পরিণত হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ এলাকা পুড়েছে এবং দাবানলের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়াও বড় কারণ। তরুণরা শহরমুখী হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায় আগাছা ও ঝোপঝাড় বেড়ে দাহ্য জ্বালানির স্তর তৈরি হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ভিগোর বন অগ্নিকাণ্ড বিশেষজ্ঞ হুয়ান পিকোস বলেন, আগুন প্রতিরোধের পরিবর্তে কেবল আগুন নেভানোর ওপর নির্ভরশীল নীতি ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















