ঢাকা ০৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্নের ইতি, শেষ মুহূর্তের গোলে স্পেনের জয়

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক : 

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই হবে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তাই শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে জীবিত রাখতে শেষ ষোলোর ম্যাচে নেমেছিলেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। ইনজুরি সময়ের নাটকীয় এক গোলে পর্তুগালকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্পেন। আর সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নেরও ইতি ঘটল রোনালদোর।

বাংলাদেশ সময় সোমবার রাতে ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পর্তুগালকে ১-০ গোলে পরাজিত করে স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা না পেলেও যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনোর করা একমাত্র গোলেই জয় তুলে নেয় ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম সুযোগটি তৈরি করে স্পেন। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন তিনি, ফলে অল্পের জন্য রক্ষা পায় পর্তুগাল।

এর জবাব দিতে বেশি সময় নেয়নি পর্তুগাল। রোনালদোর জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন। কিছুক্ষণ পর পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তাও টানা দুটি সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছায় পর্তুগাল। ৩৮ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের হেড ফিরিয়ে দেন উনাই সিমন। ফিরতি বলে রোনালদোর দ্রুত নেওয়া প্রচেষ্টাও রুখে দেন তিনি। এরপর ৪১ মিনিটে নুনো মেন্দেসের শক্তিশালী শট পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে দিক বদলে পোস্টে আঘাত হানে। ভাগ্যের সহায়তায় নিশ্চিত গোল এড়ায় স্পেন। ফলে বিরতিতে দুই দলই মাঠ ছাড়ে গোলশূন্য অবস্থায়।

দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দলের লড়াই ছিল সমানতালে। ৪৮ মিনিটে রোনালদোকে ফাউল করলে ভালো জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পায় পর্তুগাল। তবে ব্রুনো ফার্নান্দেসের নেওয়া শট সহজেই ধরে ফেলেন উনাই সিমন।

ম্যাচের গতি বাড়াতে ৭১ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন আনেন পর্তুগাল কোচ রোবের্তো মার্তিনেজ। জোয়াও ফেলিক্স ও জোয়াও ক্যানসেলোর জায়গায় মাঠে নামেন রাফায়েল লেয়াও এবং ডিয়োগো দালোট। অন্যদিকে ৭৩ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের দারুণ ফ্রি-কিকও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন দিয়েগো কস্তা।

শেষ ১৫ মিনিটে পর্তুগাল একের পর এক আক্রমণ চালায়। ভিতিনিয়ার দূরপাল্লার শট রক্ষণভাগে আটকে যায়, আর ফিরতি বলে ব্রুনো ফার্নান্দেসের প্রচেষ্টা সাইড নেটে গিয়ে লাগে। ফলে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি পর্তুগিজরা।

ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, তখনই আসে স্পেনের সোনালি মুহূর্ত। ছয় মিনিট যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ফেরান তোরেসের পাস থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখানে দৌড়ে ঢুকে নিচু শটে বল জালে পাঠান বদলি মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো। তার গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ শিবির।

গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে বার্নার্দো সিলভার হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে সমতায় ফেরার শেষ সুযোগটিও হাতছাড়া হয়।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয় স্পেনের কোয়ার্টার-ফাইনাল। আর পর্তুগালের বিদায়ের সঙ্গে শেষ হয়ে যায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ জয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্নও।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্নের ইতি, শেষ মুহূর্তের গোলে স্পেনের জয়

আপডেট সময় ০৩:৪৫:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক : 

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই হবে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তাই শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে জীবিত রাখতে শেষ ষোলোর ম্যাচে নেমেছিলেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। ইনজুরি সময়ের নাটকীয় এক গোলে পর্তুগালকে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে স্পেন। আর সেই সঙ্গে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নেরও ইতি ঘটল রোনালদোর।

বাংলাদেশ সময় সোমবার রাতে ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পর্তুগালকে ১-০ গোলে পরাজিত করে স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা না পেলেও যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা মিকেল মেরিনোর করা একমাত্র গোলেই জয় তুলে নেয় ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম সুযোগটি তৈরি করে স্পেন। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন তিনি, ফলে অল্পের জন্য রক্ষা পায় পর্তুগাল।

এর জবাব দিতে বেশি সময় নেয়নি পর্তুগাল। রোনালদোর জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন। কিছুক্ষণ পর পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তাও টানা দুটি সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছায় পর্তুগাল। ৩৮ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের হেড ফিরিয়ে দেন উনাই সিমন। ফিরতি বলে রোনালদোর দ্রুত নেওয়া প্রচেষ্টাও রুখে দেন তিনি। এরপর ৪১ মিনিটে নুনো মেন্দেসের শক্তিশালী শট পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে দিক বদলে পোস্টে আঘাত হানে। ভাগ্যের সহায়তায় নিশ্চিত গোল এড়ায় স্পেন। ফলে বিরতিতে দুই দলই মাঠ ছাড়ে গোলশূন্য অবস্থায়।

দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দলের লড়াই ছিল সমানতালে। ৪৮ মিনিটে রোনালদোকে ফাউল করলে ভালো জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পায় পর্তুগাল। তবে ব্রুনো ফার্নান্দেসের নেওয়া শট সহজেই ধরে ফেলেন উনাই সিমন।

ম্যাচের গতি বাড়াতে ৭১ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন আনেন পর্তুগাল কোচ রোবের্তো মার্তিনেজ। জোয়াও ফেলিক্স ও জোয়াও ক্যানসেলোর জায়গায় মাঠে নামেন রাফায়েল লেয়াও এবং ডিয়োগো দালোট। অন্যদিকে ৭৩ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের দারুণ ফ্রি-কিকও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন দিয়েগো কস্তা।

শেষ ১৫ মিনিটে পর্তুগাল একের পর এক আক্রমণ চালায়। ভিতিনিয়ার দূরপাল্লার শট রক্ষণভাগে আটকে যায়, আর ফিরতি বলে ব্রুনো ফার্নান্দেসের প্রচেষ্টা সাইড নেটে গিয়ে লাগে। ফলে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি পর্তুগিজরা।

ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, তখনই আসে স্পেনের সোনালি মুহূর্ত। ছয় মিনিট যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ফেরান তোরেসের পাস থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখানে দৌড়ে ঢুকে নিচু শটে বল জালে পাঠান বদলি মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো। তার গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ শিবির।

গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে বার্নার্দো সিলভার হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে সমতায় ফেরার শেষ সুযোগটিও হাতছাড়া হয়।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয় স্পেনের কোয়ার্টার-ফাইনাল। আর পর্তুগালের বিদায়ের সঙ্গে শেষ হয়ে যায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ জয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্নও।