ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

যে নতুন রক্ত পরীক্ষায় জানা যাবে ভবিষ্যতের রোগের ঝুঁকি: চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ যে একই গতিতে বুড়িয়ে যায় না, তা এখন আর কেবল তত্ত্ব নয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন ‘অর্গান এইজ ব্লাড টেস্ট’ বা অঙ্গের বয়স নির্ণায়ক রক্ত পরীক্ষা। এটি কেবল আপনার জন্মদিনের ক্যালেন্ডারের বয়স বলবে না, বরং আপনার শরীরের হৃদপিণ্ড, কিডনি, লিভার বা মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো ভেতর থেকে কতটা ‘বুড়িয়ে’ গেছে, তার নির্ভুল হিসাব দেবে।

পরীক্ষাটি যেভাবে কাজ করে:

ঐতিহ্যগত চিকিৎসা পদ্ধতিতে চিকিৎসকরা সাধারণত কালানুক্রমিক বয়স বা জন্ম তারিখের ওপর ভিত্তি করে স্বাস্থ্যের অবস্থা বিচার করেন। কিন্তু এই নতুন রক্ত পরীক্ষাটি ‘প্রোটিওমিক্স’ প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। আমাদের শরীরের অঙ্গগুলো যখন ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে, তখন তারা রক্তে এক ধরনের প্রোটিনের চিহ্ন বা ‘সিগনেচার’ ছাড়ে। এই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সেই প্রোটিন বিশ্লেষণ করে প্রতিটি অঙ্গের আলাদা ‘বায়োলজিক্যাল এজ স্কোর’ বের করা সম্ভব।

কেন এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ?

অঙ্গভেদে ভিন্ন বয়স: অনেক সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তাদের সার্বিক বয়স ৪০ বছর হলেও, হৃদপিণ্ড বা কিডনির বয়স হয়তো ৬০ বছরের মানুষের মতো।

রোগের পূর্বাভাস: সাধারণ রক্ত পরীক্ষায় তখনই কোনো সমস্যা ধরা পড়ে যখন অঙ্গের অনেকখানি ক্ষতি হয়ে যায়। কিন্তু এই পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ দানা বাঁধার অনেক আগেই সেই অঙ্গের অস্বাভাবিক ক্ষয় শনাক্ত করা সম্ভব।

সক্রিয় চিকিৎসা: যদি কোনো ব্যক্তির লিভারের বয়স তার স্বাভাবিক বয়সের চেয়ে বেশি হয়, তবে ডাক্তাররা সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডায়েট বা জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পরামর্শ দিতে পারেন।

এই রক্ত পরীক্ষা চিকিৎসকদের এমন সব তথ্য দেয় যা দিয়ে ‘জেনারেটিক’ বা সাধারণ স্বাস্থ্য পরামর্শের বাইরে গিয়ে প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা এবং সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পরিকল্পনা করা সম্ভব। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগ যেমন হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা বা স্নায়বিক অবক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি অনেক আগেই কমিয়ে ফেলা যায়।

প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ:

গবেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হয়ে উঠবে। মানুষ এখন আর অসুস্থ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবে না, বরং বছরে একবার এই পরীক্ষা করিয়ে শরীরের ভেতরের অবস্থা জেনে নিতে পারবে। জীবনযাত্রার কোনো পরিবর্তন বা চিকিৎসার ফলে অঙ্গের বয়সের ওপর কী প্রভাব পড়ছে, তাও ট্র্যাক করা সম্ভব হবে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ‘অর্গান এইজ ব্লাড টেস্ট’ কেবল একটি রক্ত পরীক্ষা নয়; এটি নিজের স্বাস্থ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এক আধুনিক হাতিয়ার। অঙ্গের ভেতরের এই বয়সের হিসাব জেনে মানুষ এখন দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ জীবন যাপনের এক নতুন দিশা পেতে চলেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

যে নতুন রক্ত পরীক্ষায় জানা যাবে ভবিষ্যতের রোগের ঝুঁকি: চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত

আপডেট সময় ০১:১৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ যে একই গতিতে বুড়িয়ে যায় না, তা এখন আর কেবল তত্ত্ব নয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন ‘অর্গান এইজ ব্লাড টেস্ট’ বা অঙ্গের বয়স নির্ণায়ক রক্ত পরীক্ষা। এটি কেবল আপনার জন্মদিনের ক্যালেন্ডারের বয়স বলবে না, বরং আপনার শরীরের হৃদপিণ্ড, কিডনি, লিভার বা মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো ভেতর থেকে কতটা ‘বুড়িয়ে’ গেছে, তার নির্ভুল হিসাব দেবে।

পরীক্ষাটি যেভাবে কাজ করে:

ঐতিহ্যগত চিকিৎসা পদ্ধতিতে চিকিৎসকরা সাধারণত কালানুক্রমিক বয়স বা জন্ম তারিখের ওপর ভিত্তি করে স্বাস্থ্যের অবস্থা বিচার করেন। কিন্তু এই নতুন রক্ত পরীক্ষাটি ‘প্রোটিওমিক্স’ প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। আমাদের শরীরের অঙ্গগুলো যখন ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে, তখন তারা রক্তে এক ধরনের প্রোটিনের চিহ্ন বা ‘সিগনেচার’ ছাড়ে। এই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সেই প্রোটিন বিশ্লেষণ করে প্রতিটি অঙ্গের আলাদা ‘বায়োলজিক্যাল এজ স্কোর’ বের করা সম্ভব।

কেন এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ?

অঙ্গভেদে ভিন্ন বয়স: অনেক সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তাদের সার্বিক বয়স ৪০ বছর হলেও, হৃদপিণ্ড বা কিডনির বয়স হয়তো ৬০ বছরের মানুষের মতো।

রোগের পূর্বাভাস: সাধারণ রক্ত পরীক্ষায় তখনই কোনো সমস্যা ধরা পড়ে যখন অঙ্গের অনেকখানি ক্ষতি হয়ে যায়। কিন্তু এই পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ দানা বাঁধার অনেক আগেই সেই অঙ্গের অস্বাভাবিক ক্ষয় শনাক্ত করা সম্ভব।

সক্রিয় চিকিৎসা: যদি কোনো ব্যক্তির লিভারের বয়স তার স্বাভাবিক বয়সের চেয়ে বেশি হয়, তবে ডাক্তাররা সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডায়েট বা জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পরামর্শ দিতে পারেন।

এই রক্ত পরীক্ষা চিকিৎসকদের এমন সব তথ্য দেয় যা দিয়ে ‘জেনারেটিক’ বা সাধারণ স্বাস্থ্য পরামর্শের বাইরে গিয়ে প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা এবং সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পরিকল্পনা করা সম্ভব। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগ যেমন হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা বা স্নায়বিক অবক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি অনেক আগেই কমিয়ে ফেলা যায়।

প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ:

গবেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হয়ে উঠবে। মানুষ এখন আর অসুস্থ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করবে না, বরং বছরে একবার এই পরীক্ষা করিয়ে শরীরের ভেতরের অবস্থা জেনে নিতে পারবে। জীবনযাত্রার কোনো পরিবর্তন বা চিকিৎসার ফলে অঙ্গের বয়সের ওপর কী প্রভাব পড়ছে, তাও ট্র্যাক করা সম্ভব হবে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ‘অর্গান এইজ ব্লাড টেস্ট’ কেবল একটি রক্ত পরীক্ষা নয়; এটি নিজের স্বাস্থ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এক আধুনিক হাতিয়ার। অঙ্গের ভেতরের এই বয়সের হিসাব জেনে মানুষ এখন দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ জীবন যাপনের এক নতুন দিশা পেতে চলেছে।