আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ গ্রহণের মাধ্যমে (এইচআইভি) এইডসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তাই এইডস নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো বা আক্রান্তদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের এআরটি (অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল থেরাপি) সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এইচআইভি উইথ জার্নালিস্টস: মিডিয়ার ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালা ও মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন। চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. জোনায়েদ মাহমুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (নাহিদ), সহকারী অধ্যাপক ডা. বর্ণালী বড়ুয়া, ডা. অজয় কুমার ঘোষ, ডা. সামিরা জামাল, ডা. সাবিনা ইয়াসমিন এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুজ শুভ।
চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সিফাত সায়মার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এআরটি সেন্টারের ইনচার্জ ডা. সাইফুদ্দিন নেহাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, এইচআইভি বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক কলঙ্ক ও বৈষম্য দূর করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইতিবাচক ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সমাজে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণেও উৎসাহিত করা সম্ভব।
সভায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে ডা. জোনায়েদ মাহমুদ খান বলেন, ২০২৫ সালে চমেক হাসপাতালের এআরটি সেন্টারে ৩ হাজার ৯৪২ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮১ জনের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে এবং ৩ হাজার ৮৬১ জনের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ জন মারা গেছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারেন। এমনকি গত ৩০ বছর ধরে চিকিৎসা নিয়ে স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছেন—এমন রোগীও রয়েছেন। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করে তাদের সামাজিকভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বক্তারা বলেন, এইচআইভি ও এইডস সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করতে গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করাই হতে পারে সচেতন সমাজ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 


















