ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ দেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা: প্রধানমন্ত্রী কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত নয়, প্রয়োজনে আবারও ‘বোমা ফেলার’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের টাইগারদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সহজ জয় দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে তিন ধাপের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না: প্রধানমন্ত্রী সীমান্তে হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুশ-ইনের মতো অমানবিক আচরণের নজির পৃথিবীতে বিরল: মঞ্জু কুষ্টিয়ায় পৌর ভবনে যুবককে কুপিয়ে জখম

কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, করদাতাদের জন্য এআই ভিত্তিক অনলাইন সেবা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কর আইন প্রতিপালনে সচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে

এসময় জাতীয় সংসদে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর জন্য কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াসহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মো. আব্দুল্লাহ্ এর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এদিন জাতীয় সংসদে উপস্থিত ছিলেন না প্রধানমন্ত্রী। নির্ধারিত প্রশ্নের জবাব টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মো. আব্দুল্লাহ্ প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ২০২৪-২৫ অর্থবছর অনুযায়ী বাংলাদেশের কর-জিডিপি (Tax-to-GDP Ratio) অনুপাত প্রায় ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হতে ৮ শতাংশের মধ্যে, যেইখানে নেপালে এই হার প্রায় ২৩ দশমিক ১ শতাংশ, যা ছোট অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের চাইতে অনেক বেশি। বাংলাদেশের এই সমস্যা সমাধানে কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হবে কিনা?

লিখিত জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ইতোমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি মিডিয়াম অ্যান্ড লং-টার্ম রেভিনিউ স্ট্র্যাটেজি (এমএলটিআরএস) গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর-জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভাগের এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। অনলাইন উৎসে কর কর্তন ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় কর ছাড় ও কর অব্যাহতি কমিয়ে রাজস্ব ব্যয় হ্রাস করা হচ্ছে। কর আইন সরলীকরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ ও কর ঝুঁকি নির্ধারণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিল্পখাতভিত্তিক গড় সূচক ব্যবহারপূর্বক ঝুঁকি-ভিত্তিক নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। করদাতার তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক২০২৬ প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নপূর্বক ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার যথা সম্ভব কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, মামলা ও বকেয়া, নিলাম, ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন, অনিস্পন্ন চালান, ডিফার্ড পেমেন্ট ইত্যাদি খাত হতে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এছাড়া ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি ২০২৩ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা এবং কাস্টমস স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ২০২৪-২০২৮ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী লিখিত জবাবে বলেন, ‘আশা করি, এ সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে ৫ বছরের মধ্যে কর জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। অধিকন্তু, ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন: স্ট্রেংথেনিং ডোমেস্টিক রেভিনিউ মোবিলাইজেশন প্রজেক্ট প্রজেক্ট বাস্তবায়ন, কর অব্যাহতি পর্যায়ক্রমে যৌক্তিকীকরণ ইত্যাদি।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৪০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, করদাতাদের জন্য এআই ভিত্তিক অনলাইন সেবা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কর আইন প্রতিপালনে সচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে

এসময় জাতীয় সংসদে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর জন্য কর ফাঁকির বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াসহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিন মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মো. আব্দুল্লাহ্ এর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এদিন জাতীয় সংসদে উপস্থিত ছিলেন না প্রধানমন্ত্রী। নির্ধারিত প্রশ্নের জবাব টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ মো. আব্দুল্লাহ্ প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ২০২৪-২৫ অর্থবছর অনুযায়ী বাংলাদেশের কর-জিডিপি (Tax-to-GDP Ratio) অনুপাত প্রায় ৭ দশমিক ৩ শতাংশ হতে ৮ শতাংশের মধ্যে, যেইখানে নেপালে এই হার প্রায় ২৩ দশমিক ১ শতাংশ, যা ছোট অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের চাইতে অনেক বেশি। বাংলাদেশের এই সমস্যা সমাধানে কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হবে কিনা?

লিখিত জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ইতোমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি মিডিয়াম অ্যান্ড লং-টার্ম রেভিনিউ স্ট্র্যাটেজি (এমএলটিআরএস) গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর-জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভাগের এন্ড-টু-এন্ড ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। অনলাইন উৎসে কর কর্তন ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় কর ছাড় ও কর অব্যাহতি কমিয়ে রাজস্ব ব্যয় হ্রাস করা হচ্ছে। কর আইন সরলীকরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ ও কর ঝুঁকি নির্ধারণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিল্পখাতভিত্তিক গড় সূচক ব্যবহারপূর্বক ঝুঁকি-ভিত্তিক নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। করদাতার তথ্যভান্ডার সমৃদ্ধকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার পলিসি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক২০২৬ প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নপূর্বক ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার যথা সম্ভব কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, মামলা ও বকেয়া, নিলাম, ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন, অনিস্পন্ন চালান, ডিফার্ড পেমেন্ট ইত্যাদি খাত হতে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এছাড়া ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি ২০২৩ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা এবং কাস্টমস স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান ২০২৪-২০২৮ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী লিখিত জবাবে বলেন, ‘আশা করি, এ সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে ৫ বছরের মধ্যে কর জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। অধিকন্তু, ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন: স্ট্রেংথেনিং ডোমেস্টিক রেভিনিউ মোবিলাইজেশন প্রজেক্ট প্রজেক্ট বাস্তবায়ন, কর অব্যাহতি পর্যায়ক্রমে যৌক্তিকীকরণ ইত্যাদি।’