ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতের করায়ত্ত থেকে মুক্ত না হলে দেশের উন্নতি অসম্ভব: ফয়জুল করীম দেশে ফিরলেন ৪৯৯৮২ হাজি, মৃত্যু ৪৯ জনের প্রস্তাবিত অর্থবিলে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি সকল নিয়োগ, পদোন্নতিতে মেধা, যোগ্যতাই প্রধান মাপকাঠি হবে: অর্থমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এই বাজেট গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা: মাহদী আমিন আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল ইরানের চোখ ফাঁকি দিয়ে ১০ কোটি ব্যারেল তেল নিয়ে এসেছে মার্কিন বাহিনী: ট্রাম্প বাজেট ২০২৬-২৭ : মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য সরকারের রামিসাসহ অন্যান্য ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার বিরতিহীনভাবে চলবে’:

অপ্রত্যাশিত খাত ও থোক বরাদ্দ থেকে বাস্তবায়ন হবে নতুন পে স্কেল, ১ জুলাই কার্যকর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা আসছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকরের বিষয়টি আজ সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেট বক্তব্যে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ধরে একই বেতন কাঠামো বহাল থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হবে। এতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।

তবে নতুন পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা এলেও প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। এ খাতে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ অপ্রত্যাশিত ব্যয় খাত এবং বিভিন্ন থোক বরাদ্দ থেকে জোগান দেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতার জন্য ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তুলনামূলকভাবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধির একটি অংশ কার্যকর করা হতে পারে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত পে কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নেই।

পে কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য সরকার একটি সচিব কমিটি গঠন করেছে। কমিটি এখনো তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধারণা, সচিব কমিটি বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমিয়ে সংশোধিত সুপারিশ দিতে পারে।

তবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে অর্থসংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, অপ্রত্যাশিত ব্যয় খাত ও থোক বরাদ্দে সংরক্ষিত অর্থ ব্যবহার করে নতুন বেতন কাঠামোর অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের করায়ত্ত থেকে মুক্ত না হলে দেশের উন্নতি অসম্ভব: ফয়জুল করীম

অপ্রত্যাশিত খাত ও থোক বরাদ্দ থেকে বাস্তবায়ন হবে নতুন পে স্কেল, ১ জুলাই কার্যকর

আপডেট সময় ০২:১৫:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা আসছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকরের বিষয়টি আজ সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেট বক্তব্যে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ধরে একই বেতন কাঠামো বহাল থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হবে। এতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো ও সংশ্লিষ্ট বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।

তবে নতুন পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা এলেও প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। এ খাতে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ অপ্রত্যাশিত ব্যয় খাত এবং বিভিন্ন থোক বরাদ্দ থেকে জোগান দেওয়া হবে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতার জন্য ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তুলনামূলকভাবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আগামী অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধির একটি অংশ কার্যকর করা হতে পারে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত পে কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নেই।

পে কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য সরকার একটি সচিব কমিটি গঠন করেছে। কমিটি এখনো তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধারণা, সচিব কমিটি বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কমিয়ে সংশোধিত সুপারিশ দিতে পারে।

তবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে অর্থসংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের মতে, অপ্রত্যাশিত ব্যয় খাত ও থোক বরাদ্দে সংরক্ষিত অর্থ ব্যবহার করে নতুন বেতন কাঠামোর অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হবে।