ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আমরা আবারও ইরানে কঠোর হামলা করতে যাচ্ছি: ট্রাম্প

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনায় পর্যাপ্ত অগ্রগতি না হওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক হামলা শুরু করবে ওয়াশিংটন।

একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে বেসামরিক অবকাঠামোকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর হামলা চালাব, এবং খুব কঠোরভাবে হামলা চালাব।”

তিনি ইঙ্গিত দেন, হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাই নতুন হামলার যৌক্তিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, “হেলিকপ্টারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের সেই অধিকার রয়েছে বলে আমি মনে করি।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরে চলা তেহরানের সঙ্গে আলোচনার ধীরগতির সমালোচনা করে বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা চুক্তির জন্য কয়েক মাস ধরে কাজ করছে তার প্রশাসন।

তিনি বলেন, “আমি কয়েক মাস ধরে ইরানের সঙ্গে কাজ করছি। তাদের এই চুক্তিতে সই করা উচিত। এটি তাদের জন্য একটি ভালো চুক্তি।”

তবে আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “এটা শুধু টালবাহানা আর টালবাহানা। তারা আসলে কী করছে, আমি জানি না।”

বেসামরিক অবকাঠামোও হতে পারে লক্ষ্যবস্তু:
পরে সাংবাদিকরা জানতে চান, সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু কিংবা অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে কি না।

এ প্রশ্নের সরাসরি নেতিবাচক উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান এখনও চুক্তিতে সম্মতি না দেওয়ায় তিনি অত্যন্ত হতাশ।

তিনি বলেন, “তারা শুধু সময় নিচ্ছে, আর বলছে-‘ঠিক আছে, তাদের আরও কয়েক দিন সময় দেওয়া যাক।’ তারা সময়ক্ষেপণ করছে, কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ফলে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার পরিধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক জনগণের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোতে হামলা অত্যন্ত বিতর্কিত এবং অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে।

আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একদিকে তিনি চুক্তির কথা বলছেন, অন্যদিকে নতুন সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন। ফলে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সম্ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই নতুন করে হামলা শুরু করে এবং সেই হামলার লক্ষ্যবস্তু বেসামরিক অবকাঠামো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তাহলে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়াও আরও কঠোর হতে পারে। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন ও আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

আমরা আবারও ইরানে কঠোর হামলা করতে যাচ্ছি: ট্রাম্প

আপডেট সময় ১০:২০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনায় পর্যাপ্ত অগ্রগতি না হওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক হামলা শুরু করবে ওয়াশিংটন।

একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে বেসামরিক অবকাঠামোকেও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের ওপর হামলা চালাব, এবং খুব কঠোরভাবে হামলা চালাব।”

তিনি ইঙ্গিত দেন, হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাই নতুন হামলার যৌক্তিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, “হেলিকপ্টারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের সেই অধিকার রয়েছে বলে আমি মনে করি।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরে চলা তেহরানের সঙ্গে আলোচনার ধীরগতির সমালোচনা করে বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা চুক্তির জন্য কয়েক মাস ধরে কাজ করছে তার প্রশাসন।

তিনি বলেন, “আমি কয়েক মাস ধরে ইরানের সঙ্গে কাজ করছি। তাদের এই চুক্তিতে সই করা উচিত। এটি তাদের জন্য একটি ভালো চুক্তি।”

তবে আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “এটা শুধু টালবাহানা আর টালবাহানা। তারা আসলে কী করছে, আমি জানি না।”

বেসামরিক অবকাঠামোও হতে পারে লক্ষ্যবস্তু:
পরে সাংবাদিকরা জানতে চান, সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু কিংবা অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে কি না।

এ প্রশ্নের সরাসরি নেতিবাচক উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান এখনও চুক্তিতে সম্মতি না দেওয়ায় তিনি অত্যন্ত হতাশ।

তিনি বলেন, “তারা শুধু সময় নিচ্ছে, আর বলছে-‘ঠিক আছে, তাদের আরও কয়েক দিন সময় দেওয়া যাক।’ তারা সময়ক্ষেপণ করছে, কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ফলে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার পরিধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক জনগণের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোতে হামলা অত্যন্ত বিতর্কিত এবং অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারে।

আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একদিকে তিনি চুক্তির কথা বলছেন, অন্যদিকে নতুন সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন। ফলে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সম্ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই নতুন করে হামলা শুরু করে এবং সেই হামলার লক্ষ্যবস্তু বেসামরিক অবকাঠামো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তাহলে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়াও আরও কঠোর হতে পারে। সেক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন ও আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।