আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বাংলাদেশে পুশইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ১২ জুন শুক্রবার দেশের সীমান্তবর্তী সব জেলাসহ সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য। ১৫ জুন সোমবার রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে জোট।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি ঘোষণা করেন ১১–দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। আগের দিন লিয়াজোঁ কমিটির সভায় এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দেশের সীমান্ত আজ অরক্ষিত। সীমান্তে হত্যা দীর্ঘদিনের চলমান পরিস্থিতি। তবে বর্তমান সরকারের আমলে সীমান্তে হত্যার যে চিত্র দেখা যায়, সেটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার ইতোমধ্যে ২৬ জেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। প্রতিবেশীসুলভ আচরণ না করে বাংলাদেশের সঙ্গে বাড়াবাড়ি করে যাচ্ছে। তারা বলে, ভারতের ডিকশনারিতে পুশইন বলে কিছু নেই। তবে তারা সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে জোরপূর্বক অনেক লোক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বিজিবির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণ প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে না তুললে ভারত এত দিনে তাদের দেশের অনেক নাগরিককে এ দেশে পুশইন করত। ইতোমধ্যে কিছু কিছু জায়গায় পুশইন হয়েছে।
প্রকাশিত খবরের পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গত তিন মাসে ৫০টির অধিক সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ২ হাজার ৪৭৯ জনকে পুশইন করার চেষ্টা হয়েছে। তবে বাস্তব সংখ্যা এর দ্বিগুণের বেশি বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিএনপি সরকারের ১০০ দিনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ১৯ জন নিরীহ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন ২৪ জন। বিএসএফ ও মিয়ানমারের আরাকান আর্মি ৮৩ জনকে আটক করে জোর করে তুলে নিয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
সীমান্ত হত্যার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে মন্তব্য করার সময় মনে রাখতে হবে, তিনি বাংলাদেশের মন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে তাঁর বয়ানটা হয়ে গেছে ভারতীয় মন্ত্রীদের মতো। বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রী এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন, সেটি বিশ্বাস করা কঠিন। সরকারকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আথারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মহাসচিব ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক প্রমুখ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















