ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় সিন্ডিকেট চলবে না: আইনমন্ত্রী ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই হাসিনা দেশে ফিরবেন: নাহিদ ইসলাম নাহিদ-আসিফ-পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন নুর জনগণের জীবনমান উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী বন্যার দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিমন্ত্রী অমিতকে দায়িত্ব দিল সরকার কালেমা লেখা পতাকায় জঙ্গি নাটক তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ ফয়জুল করিমের খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের ১৩ উপজেলায় নতুন হাসপাতাল অনুমোদন মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়াই সরকারের অঙ্গীকার : মাহদী আমিন

আদ-দ্বীনের জবাবে সন্তুষ্ট নই, সিদ্ধান্ত হবে বৈঠকের পর: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

আদ-দ্বীন হাসপাতালের দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাবে প্রয়োজনীয় তথ্যের চেয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় বেশি রয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আদ-দ্বীন হাসপাতাল জবাব দিয়েছে, সেটি পড়েছি। প্রয়োজনীয় তথ্যের বাইরে অনেক গল্প-কাহিনী তারা লিখেছে, যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের বৈঠকের পর এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আদ-দ্বীন হাসপাতালের জবাবে আমি সন্তুষ্ট নই।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাঠানো ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা চার থেকে পাঁচ পৃষ্ঠা লিখেছে, কিন্তু সবই ভেগ (অস্পষ্ট) রিপ্লাই। প্রয়োজনীয় তথ্য না দিয়ে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বেশি লিখেছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর জানানো হবে।

গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ছয় নবজাতক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির একাধিক দিক উঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ওয়ার্ডটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য উপযুক্ত ছিল না; পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব ছিল এবং এসি ব্যবস্থাও অপ্রতুল ও অনিয়মিতভাবে পরিচালিত হতো।

তদন্তে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং গুরুতর অবস্থার পরও সময়মতো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা জন্মের পর সুস্থ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, প্রসব-পরবর্তী জটিলতার জন্য বিশেষ চিকিৎসা বা ইনকিউবেটরের প্রয়োজনীয়তা ছিল না। তবে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও যথাযথ চিকিৎসা ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে ঘাটতি ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। একই সঙ্গে হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং প্রশাসনিক ত্রুটির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত ৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের সই করা এক চিঠিতে শোকজ করা হয়েছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় সিন্ডিকেট চলবে না: আইনমন্ত্রী

আদ-দ্বীনের জবাবে সন্তুষ্ট নই, সিদ্ধান্ত হবে বৈঠকের পর: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৪০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

আদ-দ্বীন হাসপাতালের দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাবে প্রয়োজনীয় তথ্যের চেয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় বেশি রয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আদ-দ্বীন হাসপাতাল জবাব দিয়েছে, সেটি পড়েছি। প্রয়োজনীয় তথ্যের বাইরে অনেক গল্প-কাহিনী তারা লিখেছে, যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের বৈঠকের পর এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আদ-দ্বীন হাসপাতালের জবাবে আমি সন্তুষ্ট নই।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাঠানো ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা চার থেকে পাঁচ পৃষ্ঠা লিখেছে, কিন্তু সবই ভেগ (অস্পষ্ট) রিপ্লাই। প্রয়োজনীয় তথ্য না দিয়ে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বেশি লিখেছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর জানানো হবে।

গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ছয় নবজাতক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির একাধিক দিক উঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ওয়ার্ডটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য উপযুক্ত ছিল না; পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব ছিল এবং এসি ব্যবস্থাও অপ্রতুল ও অনিয়মিতভাবে পরিচালিত হতো।

তদন্তে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং গুরুতর অবস্থার পরও সময়মতো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা জন্মের পর সুস্থ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, প্রসব-পরবর্তী জটিলতার জন্য বিশেষ চিকিৎসা বা ইনকিউবেটরের প্রয়োজনীয়তা ছিল না। তবে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও যথাযথ চিকিৎসা ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে ঘাটতি ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। একই সঙ্গে হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং প্রশাসনিক ত্রুটির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত ৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের সই করা এক চিঠিতে শোকজ করা হয়েছিল।