আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে আসামিদের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি ও ডেথ রেফারেন্স মঙ্গলবার বিকেলে হাইকোর্টে পৌঁছেছে। ট্রাইব্যুনালের অফিস সহায়ক শহিদুল ইসলাম রায়ের কপি ও ডেথ রেফারেন্স নিয়ে হাইকোর্টে আসেন। এই ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানিয়েছেন, ৬৯ পৃষ্ঠার রায়ের কপি, তিন পৃষ্ঠার ডেথ রেফারেন্সসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি লাল কাপড়ে মুড়িয়ে উচ্চ আদালতের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, ৭ জুন পল্লবীর শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। পাশাপাশি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা ও স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারকে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হবে। একইসঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।
যা বললেন অ্যাটর্নি জেনারেল-
আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে পল্লবীর শিশু হত্যা মামলায় হাইকোর্টের পেপার বুক তৈরির কাজটি শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের (ডেথ রেফারেন্স) মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি হাইকোর্টে পৌঁছার পর অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, পেপার বুক হয়ে গেলে প্রধান বিচারপতি রোববার থেকে যে বিশেষ বেঞ্চের কথা বলেছেন সে বেঞ্চেই আমরা শিশুটির মামলাটি শুনানির জন্যে উদ্যোগ গ্রহণ করবো এবং হয়তো আমরা এই মামলাটি শুনানির জন্য তালিকায় আনতে পারবো।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মানুষের প্রত্যাশা যত দ্রুত সম্ভব এই রায়টি বাস্তবায়ন হোক। আমাদের পক্ষ থেকে এই মামলার শুনানিতে বিলম্ব ঘটাবো না। আমরা একদিনের জন্যও শুনানি মুলতবি চাইবো না। অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে এই মামলাটি শুনানির জন্য আইনজীবী নির্দিষ্ট করেছি। আমাদের প্রত্যাশা, যত দ্রুত সম্ভব আপিলটি নিষ্পত্তির মাধ্যমে এই মামলার রায় কার্যকরের দিকে এগিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানির আগে সরকারি ছাপাখানা থেকে পেপার বুক তৈরি করতে হয়। আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল বিভাগের শুনানি শেষে তিন মাসের মধ্যে রায় কার্যকর করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
শিশুটি ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় গত ১৯ মে। ঘটনার দিন (১৯ মে) যে সময় পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়, তার আগেই ফ্ল্যাটটির বাসিন্দা আসামি সোহেল শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। বাসা থেকে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে তখনই আটক করা হয়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















