ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিবিরের বর্তমান রাজনীতি হলো ধর্ষণ করে আত্মগোপনে গিয়ে গুমের নাটক সাজানো: রাশেদ ভারতীয় বিমান বাহিনীর পরিবহন প্লেন বিধ্বস্ত জামায়াতের সাবেক এমপি ফরিদ উদ্দিন আর নেই তরুণ প্রজন্মের হাতেই দেশের উন্নয়ন নির্ভর করছে: মির্জা ফখরুল আমাদের রাজনীতি দেশের মানুষের জন্য: প্রধানমন্ত্রী কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, রিকশাচালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ গোপালগঞ্জে নিখোঁজের তিনদিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার গাজীপুরে কারখানায় লাগা আগুন ২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান শেষে মাঠে নামছে তুরস্ক দেশের সব নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই বাজেট প্রণয়ন: অর্থমন্ত্রী

পাঁচ বছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গত পাঁচ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪.১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

সোমবার (৮ জুন) চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের ভুল নীতির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূল্যবৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতিও এতে ভূমিকা রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্প কাঁচামাল আমদানির উচ্চ ব্যয় এবং রপ্তানির তুলনায় ধীর প্রবৃদ্ধি বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল-২০২০-২১ অর্থবছর: ১৬.২৪ বিলিয়ন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছর: ২৮.১৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছর: ২৭.১৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছর: ২১.৫০ বিলিয়ন ডলার, ২০২৪-২৫ অর্থবছর: ২৪.১৬ বিলিয়ন ডলার।

তিনি একই সময়ে দেশের রপ্তানি আয় ও আমদানির চিত্রও তুলে ধরেন। এ সময়ে রপ্তানি আয় ছিল: ৪৫.৩৬, ৬০.৯৭, ৫৩.৯২, ৫১.১১ এবং ৫৫.১৯ বিলিয়ন ডলার (ক্রমশ পাঁচ অর্থবছর) আমদানি ব্যয় ছিল: ৬১.৬০, ৮৯.১০, ৭৮.২৯, ৭২.৬১ এবং ৭৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে। তবে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে আসে। এ নির্ভরতা কমাতে সরকার অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে প্রণোদনা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্ত্রী জানান, চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক খাতে রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রপ্তানি বৈচিত্র্য আনতে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার আওতায় ৬৪ জেলার মধ্যে ১৪টি পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের বিষয়ে তৃতীয় দফা আলোচনা ২০২৬ সালের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিবিরের বর্তমান রাজনীতি হলো ধর্ষণ করে আত্মগোপনে গিয়ে গুমের নাটক সাজানো: রাশেদ

পাঁচ বছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:৫৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গত পাঁচ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪.১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

সোমবার (৮ জুন) চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের ভুল নীতির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূল্যবৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতিও এতে ভূমিকা রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্প কাঁচামাল আমদানির উচ্চ ব্যয় এবং রপ্তানির তুলনায় ধীর প্রবৃদ্ধি বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল-২০২০-২১ অর্থবছর: ১৬.২৪ বিলিয়ন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছর: ২৮.১৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছর: ২৭.১৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছর: ২১.৫০ বিলিয়ন ডলার, ২০২৪-২৫ অর্থবছর: ২৪.১৬ বিলিয়ন ডলার।

তিনি একই সময়ে দেশের রপ্তানি আয় ও আমদানির চিত্রও তুলে ধরেন। এ সময়ে রপ্তানি আয় ছিল: ৪৫.৩৬, ৬০.৯৭, ৫৩.৯২, ৫১.১১ এবং ৫৫.১৯ বিলিয়ন ডলার (ক্রমশ পাঁচ অর্থবছর) আমদানি ব্যয় ছিল: ৬১.৬০, ৮৯.১০, ৭৮.২৯, ৭২.৬১ এবং ৭৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং রপ্তানি বৃদ্ধি করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে। তবে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে আসে। এ নির্ভরতা কমাতে সরকার অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে প্রণোদনা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্ত্রী জানান, চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক খাতে রপ্তানিকারকদের ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রপ্তানি বৈচিত্র্য আনতে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার আওতায় ৬৪ জেলার মধ্যে ১৪টি পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে এফটিএ স্বাক্ষরের বিষয়ে তৃতীয় দফা আলোচনা ২০২৬ সালের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।