ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাজেটের অর্থ বাস্তবায়নে অপচয় ও যাচ্ছেতাই খরচ করার অধিকার জনগণ কাউকে দেয়নি’:রেজাউল করীম সীমান্তে ৪৮ ঘণ্টা থাকার পর সেই ১১ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ ৭ মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়েছেন সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন আবুল বারকাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাস খাদে পড়ে নিহত ৪ নেশার টাকা না পেয়ে ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৫ ইরান-ইসরাইলের নতুন উত্তেজনা শান্তি আলোচনায় প্রভাব ফেলবে না: ট্রাম্প এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু ১৫ জুন বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

ভিসা জটিলতা ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলতে মেক্সিকোয় পৌঁছেছে ইরান ফুটবল দল। তবে দলটির অন্তত ১৫ জন কর্মকর্তা এখনও পাননি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা। যার ফলে অভিযোগ উঠছে, ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান।

স্থানীয় বাসিন্দা সাদেঘ গালাভি ভোরে বিমানবন্দরে হাজির হয়ে দলকে স্বাগত জানান। ইরানের জার্সি পরিহিত এই সমর্থক বলেন, ‘আমার জাতীয় দল আমার শহরে এসেছে। তাদের স্বাগত জানাতে পারা আমার জন্য গর্বের।’

তবে বিশ্বকাপ যাত্রার শুরুতেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইরান। খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা পেলেও প্রতিনিধিদলের সব সদস্য সেই অনুমতি পাননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজসহ প্রায় ১৫ জন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে গালাভি বলেন, ‘খেলাধুলা শান্তির প্রতীক হওয়া উচিত। যখন রাজনীতি ও খেলাধুলা একসঙ্গে মিশে যায়, তখন সেটি ভালো ফল বয়ে আনে না।’

বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর দেশটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত ফিফার অবস্থানের কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। তবে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরান তাদের পূর্বনির্ধারিত প্রস্তুতি শিবির টাকসন থেকে সরিয়ে তিহুয়ানায় স্থানান্তর করে।

বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম, ও মিসর। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনোই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি ইরান। তবে সমর্থকদের বিশ্বাস, চলমান সংকট দলটিকে দুর্বল না করে বরং আরও ঐক্যবদ্ধ করবে।

ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে আসা ইরানি-আমেরিকান সমর্থক সিনা মোঘাদ্দাম বলেন, ‘ইরানের ইতিহাস হাজার বছরের। এ ধরনের পরিস্থিতি আমাদের আরও শক্তিশালী করে, দুর্বল নয়।’

দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিহুয়ানায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সশস্ত্র পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর বহরের নিরাপত্তায় দলকে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি অনুশীলন ভেন্যু এস্তাদিও কালিয়েন্তের আশপাশেও বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ছেলেকে নিয়ে তিহুয়ানায় আসা আরেক সমর্থক হোসেইন নিকইয়ার বলেন, ‘ফিফা বলে বিশ্বকাপে রাজনীতির কোনো জায়গা নেই, সবই ফেয়ার প্লে। কিন্তু বাস্তবে আমরা ভিন্ন চিত্রই দেখছি।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান

আপডেট সময় ১১:২০:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক :

ভিসা জটিলতা ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলতে মেক্সিকোয় পৌঁছেছে ইরান ফুটবল দল। তবে দলটির অন্তত ১৫ জন কর্মকর্তা এখনও পাননি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা। যার ফলে অভিযোগ উঠছে, ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান।

স্থানীয় বাসিন্দা সাদেঘ গালাভি ভোরে বিমানবন্দরে হাজির হয়ে দলকে স্বাগত জানান। ইরানের জার্সি পরিহিত এই সমর্থক বলেন, ‘আমার জাতীয় দল আমার শহরে এসেছে। তাদের স্বাগত জানাতে পারা আমার জন্য গর্বের।’

তবে বিশ্বকাপ যাত্রার শুরুতেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইরান। খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা পেলেও প্রতিনিধিদলের সব সদস্য সেই অনুমতি পাননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজসহ প্রায় ১৫ জন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে গালাভি বলেন, ‘খেলাধুলা শান্তির প্রতীক হওয়া উচিত। যখন রাজনীতি ও খেলাধুলা একসঙ্গে মিশে যায়, তখন সেটি ভালো ফল বয়ে আনে না।’

বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর দেশটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত ফিফার অবস্থানের কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। তবে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরান তাদের পূর্বনির্ধারিত প্রস্তুতি শিবির টাকসন থেকে সরিয়ে তিহুয়ানায় স্থানান্তর করে।

বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম, ও মিসর। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনোই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি ইরান। তবে সমর্থকদের বিশ্বাস, চলমান সংকট দলটিকে দুর্বল না করে বরং আরও ঐক্যবদ্ধ করবে।

ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে আসা ইরানি-আমেরিকান সমর্থক সিনা মোঘাদ্দাম বলেন, ‘ইরানের ইতিহাস হাজার বছরের। এ ধরনের পরিস্থিতি আমাদের আরও শক্তিশালী করে, দুর্বল নয়।’

দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিহুয়ানায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সশস্ত্র পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর বহরের নিরাপত্তায় দলকে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি অনুশীলন ভেন্যু এস্তাদিও কালিয়েন্তের আশপাশেও বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ছেলেকে নিয়ে তিহুয়ানায় আসা আরেক সমর্থক হোসেইন নিকইয়ার বলেন, ‘ফিফা বলে বিশ্বকাপে রাজনীতির কোনো জায়গা নেই, সবই ফেয়ার প্লে। কিন্তু বাস্তবে আমরা ভিন্ন চিত্রই দেখছি।’