ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় সিন্ডিকেট চলবে না: আইনমন্ত্রী ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই হাসিনা দেশে ফিরবেন: নাহিদ ইসলাম নাহিদ-আসিফ-পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন নুর জনগণের জীবনমান উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী বন্যার দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিমন্ত্রী অমিতকে দায়িত্ব দিল সরকার কালেমা লেখা পতাকায় জঙ্গি নাটক তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ ফয়জুল করিমের খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের ১৩ উপজেলায় নতুন হাসপাতাল অনুমোদন মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়াই সরকারের অঙ্গীকার : মাহদী আমিন

পাটওয়ারীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি জামায়াত এমপি ও শিবির সভাপতি: রাশেদ খাঁন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন এক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেছেন, ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিপদে পড়লে জামায়াতে ইসলামীর এমপি ও ছাত্রশিবিরের সভাপতি কেউই এগিয়ে আসেননি।

গতকাল শুক্রবার ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট এলাকায় হামলার শিকার হন নাসীরুদ্দীন। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগদান উপলক্ষে শহরটিতে গিয়েছিলেন তিনি। জুমার নামাজের আগে সেখানে পৌঁছান। জেলা কালেক্টরেট মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন তিনি। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তার সঙ্গে কথা বলতে যান। কথা বলার একপর্যায়ে পেছন থেকে কিছু যুবক ডিম নিক্ষেপ করে ও হামলা চালায়। এতে এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

রাশেদ খাঁন জানান, ঝিনাইদহ-২ সদর আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামীর আলী আজম মোঃ আবু বকর, শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামরা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে উদ্ধারে ন্যূনতম উদ্যোগ নেননি। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ঝিনাইদহ-২ সদর আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হলেন জামায়াতে ইসলামীর আলী আজম মোঃ আবু বকর। তিনি নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে উদ্ধারে ন্যূনতম এগিয়ে আসেন নি। নাসিরউদ্দিনের পাটোয়ারীর নিজের লাইভে শোনা গেলো, এটা ছাত্র শিবিরের সভাপতির এলাকা, তাকেসহ সবাইকে বলা হয়েছে, তিনিও আসেন নি!’

রাশেদ খাঁন আরও জানান, শুরুতে শিবিরের কিছু কর্মী পাটওয়ারীর সাথে থাকলেও পরে সম্ভবত সিনিয়রদের পরামর্শে সরে পড়েন। ঘটনার সময় এনসিপি নেতা তারেক রেজার কিছু সহযোগী ও এনসিপির অল্পসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারেক রেজার নীরবতা সম্পর্কে তিনি লেখেন, ‘তারেক রেজা সম্ভবত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মিথ্যাচারের দায় নিতে চায় নি। এজন্য সেও চুপচাপ ছিলো।’

পাটওয়ারীর দেওয়া ‘আইনমন্ত্রীর এলাকা’ মন্তব্যকেও সরাসরি মিথ্যা বলেছেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লাইভে মিথ্যাচার করলো, এটা আইনমন্ত্রীর এলাকা! এটা আইনমন্ত্রীর এলাকা বা আসন নয়। তিনি শৈলকূপা থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এটা ঝিনাইদহ সদর থেকে প্রায় ২২ কি. মি. দূরে।’

তিনি আরও জানান, ঝিনাইদহের ৪টি আসনের মধ্যে ৩টিই জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা সংঘর্ষের পর্যায়ে নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাটওয়ারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি লেখেন, ‘হয়তো নাসিরুদ্দিন শান্ত ঝিনাইদহকে অশান্ত করতেই সেখানে গিয়েছিল। জামায়াত-শিবিরের উচিত হবে, তার ফাঁদে না পা দেওয়া। সে চাচ্ছে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ বাধুক।’

পোস্টের শেষে রাশেদ খাঁন সতর্ক করে লেখেন, ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে মিথ্যাচার, চরিত্রহনন, গালিগালাজ ও সাংঘর্ষিক রাজনীতি কারও জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবেনা।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় সিন্ডিকেট চলবে না: আইনমন্ত্রী

পাটওয়ারীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি জামায়াত এমপি ও শিবির সভাপতি: রাশেদ খাঁন

আপডেট সময় ০১:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন এক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেছেন, ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিপদে পড়লে জামায়াতে ইসলামীর এমপি ও ছাত্রশিবিরের সভাপতি কেউই এগিয়ে আসেননি।

গতকাল শুক্রবার ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট এলাকায় হামলার শিকার হন নাসীরুদ্দীন। বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগদান উপলক্ষে শহরটিতে গিয়েছিলেন তিনি। জুমার নামাজের আগে সেখানে পৌঁছান। জেলা কালেক্টরেট মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন তিনি। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তার সঙ্গে কথা বলতে যান। কথা বলার একপর্যায়ে পেছন থেকে কিছু যুবক ডিম নিক্ষেপ করে ও হামলা চালায়। এতে এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

রাশেদ খাঁন জানান, ঝিনাইদহ-২ সদর আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জামায়াতে ইসলামীর আলী আজম মোঃ আবু বকর, শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামরা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে উদ্ধারে ন্যূনতম উদ্যোগ নেননি। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ঝিনাইদহ-২ সদর আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হলেন জামায়াতে ইসলামীর আলী আজম মোঃ আবু বকর। তিনি নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে উদ্ধারে ন্যূনতম এগিয়ে আসেন নি। নাসিরউদ্দিনের পাটোয়ারীর নিজের লাইভে শোনা গেলো, এটা ছাত্র শিবিরের সভাপতির এলাকা, তাকেসহ সবাইকে বলা হয়েছে, তিনিও আসেন নি!’

রাশেদ খাঁন আরও জানান, শুরুতে শিবিরের কিছু কর্মী পাটওয়ারীর সাথে থাকলেও পরে সম্ভবত সিনিয়রদের পরামর্শে সরে পড়েন। ঘটনার সময় এনসিপি নেতা তারেক রেজার কিছু সহযোগী ও এনসিপির অল্পসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারেক রেজার নীরবতা সম্পর্কে তিনি লেখেন, ‘তারেক রেজা সম্ভবত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মিথ্যাচারের দায় নিতে চায় নি। এজন্য সেও চুপচাপ ছিলো।’

পাটওয়ারীর দেওয়া ‘আইনমন্ত্রীর এলাকা’ মন্তব্যকেও সরাসরি মিথ্যা বলেছেন রাশেদ খাঁন। তিনি লেখেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লাইভে মিথ্যাচার করলো, এটা আইনমন্ত্রীর এলাকা! এটা আইনমন্ত্রীর এলাকা বা আসন নয়। তিনি শৈলকূপা থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এটা ঝিনাইদহ সদর থেকে প্রায় ২২ কি. মি. দূরে।’

তিনি আরও জানান, ঝিনাইদহের ৪টি আসনের মধ্যে ৩টিই জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা সংঘর্ষের পর্যায়ে নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাটওয়ারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি লেখেন, ‘হয়তো নাসিরুদ্দিন শান্ত ঝিনাইদহকে অশান্ত করতেই সেখানে গিয়েছিল। জামায়াত-শিবিরের উচিত হবে, তার ফাঁদে না পা দেওয়া। সে চাচ্ছে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষ বাধুক।’

পোস্টের শেষে রাশেদ খাঁন সতর্ক করে লেখেন, ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে মিথ্যাচার, চরিত্রহনন, গালিগালাজ ও সাংঘর্ষিক রাজনীতি কারও জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবেনা।’