ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় সিন্ডিকেট চলবে না: আইনমন্ত্রী ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই হাসিনা দেশে ফিরবেন: নাহিদ ইসলাম নাহিদ-আসিফ-পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য দিলেন নুর জনগণের জীবনমান উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী বন্যার দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিমন্ত্রী অমিতকে দায়িত্ব দিল সরকার কালেমা লেখা পতাকায় জঙ্গি নাটক তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে সরকারকে সতর্ক থাকার পরামর্শ ফয়জুল করিমের খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ইরানের ১৩ উপজেলায় নতুন হাসপাতাল অনুমোদন মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়াই সরকারের অঙ্গীকার : মাহদী আমিন

অন্তর্বর্তী সরকারকে টিকার ব্যাপারে সতর্ক করে ৫টি চিঠি দেওয়া হয়েছিল: ইউনিসেফ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ইউনিসেফ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লেখা অন্তত পাঁচটি চিঠিতে সম্ভাব্য টিকা–সংকটের কথা বলে সতর্ক করেছিল। তারা ১০টি মিটিংয়ে সরকারের কর্মকর্তাদের কাছে একই কথা জানিয়েছিল। ইউনিসেফ মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনায় দেশে সময়মতো টিকা আসেনি।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বলেন, ভালো খবর হচ্ছে, ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশু হামের টিকা পেয়েছে হাম নিয়ন্ত্রণে।

দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা সংবাদ সম্মেলনে টিকা–সংকটের কারণ, টিকা–সংকট কাটিয়ে উঠতে ইউনিসেফ কী করেছে, এই সংকট আর যেন না হয়, সে বিষয়ে কথা বলেন রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বারবার বলেন, হামে শিশুমৃত্যু দুঃখজনক।

টিকার সংকট ও হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানান রানা ফ্লাওয়ার্স। ইউনিসেফ তদন্তে সহায়তা করবে কিনা, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ইউনিসেফ প্রতিনিধি বলেন, ‘ইউনিসেফ সব সময় সত্যের পক্ষে।’

সাংবাদিকদের রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, সরকার চাইলে উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা ক্রয় করতে পারে। মনে রাখতে হবে, টিকার মজুত নিশ্চিত থাকা জরুরি। উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহ করতে এক বছরের মতো সময় লেগে যায়। ইউনিসেফের মাধ্যমে দ্রুত টিকা সংগ্রহ করা যায়।

দেশে চলতি বছর হামে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এর বেশির ভাগই শিশু। ইতোমধ্যে মারাত্মক এই ভাইরাসে ৪৭৫ জন মারা গেছে। বাংলাদেশে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে ঘটেনি। গত আড়াই দশকে কখনো দেশে হামের সংক্রমণ ৫০ হাজার ছাড়ায়নি। এর আগে হামের সর্বাধিক রোগী পাওয়া গিয়েছিল ২০০৫ সালে, ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। এর পর থেকে রোগী কমে আসে। ২০২৫ সালে মাত্র ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। আগের পাঁচ বছরের (২০২০ থেকে ২০২৪) রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৪১০, ২০৩, ৩১১, ২৮১ ও ২৪৭। এ সময়ে মৃত্যুর ঘটনা ছিলই না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে দেশে হামের প্রকোপ শুরু হয়। গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকাদানে গাফিলতি এবার হামের এই মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এর আগে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, হাম নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি দপ্তর ও উন্নয়ন প্রকল্পে দলীয় সিন্ডিকেট চলবে না: আইনমন্ত্রী

অন্তর্বর্তী সরকারকে টিকার ব্যাপারে সতর্ক করে ৫টি চিঠি দেওয়া হয়েছিল: ইউনিসেফ

আপডেট সময় ০৭:১০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ইউনিসেফ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লেখা অন্তত পাঁচটি চিঠিতে সম্ভাব্য টিকা–সংকটের কথা বলে সতর্ক করেছিল। তারা ১০টি মিটিংয়ে সরকারের কর্মকর্তাদের কাছে একই কথা জানিয়েছিল। ইউনিসেফ মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনায় দেশে সময়মতো টিকা আসেনি।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বলেন, ভালো খবর হচ্ছে, ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশু হামের টিকা পেয়েছে হাম নিয়ন্ত্রণে।

দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা সংবাদ সম্মেলনে টিকা–সংকটের কারণ, টিকা–সংকট কাটিয়ে উঠতে ইউনিসেফ কী করেছে, এই সংকট আর যেন না হয়, সে বিষয়ে কথা বলেন রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বারবার বলেন, হামে শিশুমৃত্যু দুঃখজনক।

টিকার সংকট ও হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানান রানা ফ্লাওয়ার্স। ইউনিসেফ তদন্তে সহায়তা করবে কিনা, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ইউনিসেফ প্রতিনিধি বলেন, ‘ইউনিসেফ সব সময় সত্যের পক্ষে।’

সাংবাদিকদের রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, সরকার চাইলে উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা ক্রয় করতে পারে। মনে রাখতে হবে, টিকার মজুত নিশ্চিত থাকা জরুরি। উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহ করতে এক বছরের মতো সময় লেগে যায়। ইউনিসেফের মাধ্যমে দ্রুত টিকা সংগ্রহ করা যায়।

দেশে চলতি বছর হামে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এর বেশির ভাগই শিশু। ইতোমধ্যে মারাত্মক এই ভাইরাসে ৪৭৫ জন মারা গেছে। বাংলাদেশে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে ঘটেনি। গত আড়াই দশকে কখনো দেশে হামের সংক্রমণ ৫০ হাজার ছাড়ায়নি। এর আগে হামের সর্বাধিক রোগী পাওয়া গিয়েছিল ২০০৫ সালে, ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। এর পর থেকে রোগী কমে আসে। ২০২৫ সালে মাত্র ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। আগের পাঁচ বছরের (২০২০ থেকে ২০২৪) রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৪১০, ২০৩, ৩১১, ২৮১ ও ২৪৭। এ সময়ে মৃত্যুর ঘটনা ছিলই না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে দেশে হামের প্রকোপ শুরু হয়। গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকাদানে গাফিলতি এবার হামের এই মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এর আগে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, হাম নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ।