ঢাকা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিরোধীদের কড়া বার্তা মির্জা ফখরুলের, ‘আমরা উড়ে এসে জুড়ে বসিনি’ গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় সরকার একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে না: তথ্যমন্ত্রী সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শাহ আলী মাজারে হামলা: ফরহাদ মজহার প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘জাস্টিস কার্ড’ চাইলেন হাসনাত আবদুল্লাহ বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বিএসএফকে জমি দিলেন শুভেন্দু গ্যাস উৎপাদনে স্বাবলম্বী হতে কাজ করছে সরকার: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইরানের ‘নিয়ন্ত্রণ’ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের ওমানে চার ভাইয়ের মৃত্যু: দুই অ্যাম্বুলেন্সে ফিরল চার ভাইয়ের লাশ, পাশাপাশি কবরে দাফন হজযাত্রীদের সেবায় অবহেলা বরদাশত করা হবে না: ধর্মমন্ত্রী ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৩০ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা

খুমেকে আগুন : আইসিইউ থেকে সরানোর সময় রোগীর মৃত্যু, দুই নার্সসহ আহত ৫

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে আগুনের ঘটনায় আইসিইউ থেকে রোগী সরানোর সময় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুই নার্সসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বুধবার ভোরে হাসপাতালের পুরোনো আইসিইউ ইউনিটসংলগ্ন একটি স্টোররুমে আগুন লাগে। এরপর পুরো হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত রোগীর নাম নাসরিন নাহার। তিনি খুলনার কয়রা উপজেলার নেছার আলীর মেয়ে।

জানা গেছে, নাসরিন নাহার আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আগুন লাগার পর তাকে দ্রুত বাইরে নেওয়া হলে হাসপাতালের বারান্দায় তার মৃত্যু হয়। একই আইসিইউতে থাকা শেখ আবুল হাসেম (৯৬) নামের দিঘলিয়া উপজেলার আরেক রোগী আগুন লাগার আগেই ভোর পাঁচটার দিকে মারা যান।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, আজ ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় পুরোনো আইসিইউ ইউনিটের পাশের একটি স্টোররুমে আগুন লাগে। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডে হাসপাতালের ১ নম্বর আইসিইউতে থাকা ১৫ রোগীকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ধোঁয়া ও আতঙ্কের মধ্যে রোগী স্থানান্তরের সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ দিলীপ কুমার বলেন, পুরোনো আইসিইউ ভবনের পাশের একটি কক্ষে আগুন লাগে। সেখানে পুরোনো কাপড় ও কিছু সরঞ্জাম রাখা ছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পুরোনো এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে দেয়ালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

দিলীপ কুমার জানান, ধোঁয়ার মধ্যে রোগীদের স্থানান্তর করা হচ্ছিল। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে নাসরিন নাহার নামের রোগীর স্বজনেরা তাকে নিজেরাই সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাইরে নেওয়ার পর সেই রোগী মারা যান। আইসিইউ থেকে রোগী স্থানান্তরের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। ভেন্টিলেশন খুলে নিজেরা নেওয়ার চেষ্টার কারণে ওই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

আগুন থেকে বাঁচতে গিয়ে দুই নার্সসহ পাঁচজন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা হলেন হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ। তাদের মধ্যে দুই নার্সকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় রেজাউল বলেন, ধোঁয়ার কারণে ইমারজেন্সি ওটি ও পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। মুমূর্ষু রোগীদের পেছনের দরজা দিয়ে বের করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নার্সদের উদ্ধার করেন। একজন নার্সকে তিনতলা থেকে নামানোর সময় পড়ে যেতে দেখা যায়।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মো. মাসুদ সরদার বলেন, সকাল ৬টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে বয়রা স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরও ইউনিট যোগ দেয়। মোট ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়।

খুমেক হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্টসার্কিট বা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরোধীদের কড়া বার্তা মির্জা ফখরুলের, ‘আমরা উড়ে এসে জুড়ে বসিনি’

খুমেকে আগুন : আইসিইউ থেকে সরানোর সময় রোগীর মৃত্যু, দুই নার্সসহ আহত ৫

আপডেট সময় ০১:০৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে আগুনের ঘটনায় আইসিইউ থেকে রোগী সরানোর সময় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুই নার্সসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

বুধবার ভোরে হাসপাতালের পুরোনো আইসিইউ ইউনিটসংলগ্ন একটি স্টোররুমে আগুন লাগে। এরপর পুরো হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত রোগীর নাম নাসরিন নাহার। তিনি খুলনার কয়রা উপজেলার নেছার আলীর মেয়ে।

জানা গেছে, নাসরিন নাহার আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আগুন লাগার পর তাকে দ্রুত বাইরে নেওয়া হলে হাসপাতালের বারান্দায় তার মৃত্যু হয়। একই আইসিইউতে থাকা শেখ আবুল হাসেম (৯৬) নামের দিঘলিয়া উপজেলার আরেক রোগী আগুন লাগার আগেই ভোর পাঁচটার দিকে মারা যান।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, আজ ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় পুরোনো আইসিইউ ইউনিটের পাশের একটি স্টোররুমে আগুন লাগে। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডে হাসপাতালের ১ নম্বর আইসিইউতে থাকা ১৫ রোগীকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ধোঁয়া ও আতঙ্কের মধ্যে রোগী স্থানান্তরের সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ দিলীপ কুমার বলেন, পুরোনো আইসিইউ ভবনের পাশের একটি কক্ষে আগুন লাগে। সেখানে পুরোনো কাপড় ও কিছু সরঞ্জাম রাখা ছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পুরোনো এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে দেয়ালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

দিলীপ কুমার জানান, ধোঁয়ার মধ্যে রোগীদের স্থানান্তর করা হচ্ছিল। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে নাসরিন নাহার নামের রোগীর স্বজনেরা তাকে নিজেরাই সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাইরে নেওয়ার পর সেই রোগী মারা যান। আইসিইউ থেকে রোগী স্থানান্তরের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। ভেন্টিলেশন খুলে নিজেরা নেওয়ার চেষ্টার কারণে ওই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

আগুন থেকে বাঁচতে গিয়ে দুই নার্সসহ পাঁচজন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা হলেন হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ। তাদের মধ্যে দুই নার্সকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় রেজাউল বলেন, ধোঁয়ার কারণে ইমারজেন্সি ওটি ও পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। মুমূর্ষু রোগীদের পেছনের দরজা দিয়ে বের করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নার্সদের উদ্ধার করেন। একজন নার্সকে তিনতলা থেকে নামানোর সময় পড়ে যেতে দেখা যায়।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মো. মাসুদ সরদার বলেন, সকাল ৬টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে বয়রা স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরও ইউনিট যোগ দেয়। মোট ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়।

খুমেক হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্টসার্কিট বা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।