ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এনসিপি ক্ষমতায় এলে ভারত অত্যাচার করতে পারবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে আইএলও সহযোগিতা করতে পারে: মির্জা ফখরুল এখনও একদলীয় শাসনের ধারাবাহিকতা চলছে: রুমিন ফারহানা জন্মের পরই শিশুর থাইরয়েড পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি পল্লবীতে রামিসাকে পাশের ফ্ল্যাটে নিয়ে হত্যা, মূল সন্দেহভাজন আটক গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের চরিত্র গঠন হয়: মাহদী আমিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ‘রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি’ হবে: কিউবা চীনে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ১০ জনের মৃত্যু দেশের স্বার্থেই শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে আসতে হবে: এ্যানি

মহাকাশ প্রযুক্তির বিস্তারে বিপদের মুখে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

ইন্টারনেট সেবার জন্য মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর হিড়িক এখন পৃথিবীর জলবায়ুর জন্য বড় বিপদ ডেকে আনছে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, রকেট উৎক্ষেপণের সময় নির্গত হওয়া কালো ধোঁয়া ও কালি বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে তীব্র দূষণ তৈরি করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সসহ অনেক কোম্পানি ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার জন্য মহাকাশে স্যাটেলাইটের বিশাল বহর বা ‘মেগাকনস্টেলেশন’ পাঠানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট। এর ফলে নানামুখী সমস্যার তৈরি হচ্ছে।

এরইমধ্যে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব স্যাটেলাইট মহাকাশকে একরকম অবরুদ্ধ বা জটলা পাকিয়ে ফেলছে। এতে করে স্যাটেলাইটগুলোর নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে, যা মহাকাশকে মানুষের ব্যবহারের অনুপযোগী করে তুলতে পারে।

এখন বিজ্ঞানীরা নতুন সতর্কতায় বলেছেন, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়াটি নিজেই মহাকাশকে দূষিত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ দশকের শেষদিকে মহাকাশ খাতের মোট পরিবেশ দূষণের প্রায় ৪২ শতাংশই আসবে এসব স্যাটলাইট উৎক্ষেপণের কারণে। স্যাটেলাইট বহনকারী বিভিন্ন রকেট উৎক্ষেপণের সময় সেগুলো বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে অনেক পরিমাণে ‘ব্ল্যাক কার্বন’ বা ঝুলকালি নির্গত করে।

মাটিতে তৈরি হওয়া কালির চেয়ে বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরের এ কালি অনেক দীর্ঘস্থায়ী হয়, যা পরিবেশের ওপর প্রায় ৫৪০ গুণ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তবে এ দূষণের একটি দিক আবার জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সাহায্যও করতে পারে। এ কালির আস্তরণ পৃথিবীর পৃষ্ঠে সূর্যের আলো পৌঁছাতে বাধা তৈরি করে।

বিষয়টি অনেকটা ‘জিওইঞ্জিনিয়ারিং’ পদ্ধতির মতো কাজ করে, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে প্রস্তাব করে আসছেন কিছু বিজ্ঞানী। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এর প্রভাব হতে পারে বড় ও নেতিবাচক, যা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। তাদের এমন পূর্বাভাস বাস্তবতার চেয়ে কমও হতে পারে।

কারণ গবেষণার এসব হিসাব ২০২০ থেকে ২০২২ সালের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। অথচ মহাকাশ কোম্পানিগুলো এখন তাদের রকেট উৎক্ষেপণের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বাড়িয়েই চলেছে। এ গবেষণা প্রকল্পের প্রধান ও ‘ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন’-এর গবেষক ইলোইস মারাইস বলেছেন, মহাকাশ শিল্পের এ দূষণটি আসলে ছোটখাটো ও অনিয়ন্ত্রিত জিওইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার মতো। ফলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ও মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বায়ুমণ্ডলের ওপর এর প্রভাব এখনও তুলনামূলক কম। ফলে বিষয়টি আরও বড় সমস্যা হয়ে ওঠার আগেই আমাদের হাতে সময় আছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার। কারণ, পরিস্থিতি পরে আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া বা সারানো কঠিন হতে পারে। এ ধরনের দূষণ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে এ পর্যন্ত খুব একটা উদ্যোগ দেখা যায়নি।

‘রেডিয়েটিভ ফোর্সিং অ্যান্ড ওজোন ডিপলেশন অফ আ ডেকেড অফ স্যাটেলাইট মেগাকনস্টেলেশন মিশনস’ শিরোনামে এ গবেষণাপত্রটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘আর্থ ফিউচার্স’-এ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিপি ক্ষমতায় এলে ভারত অত্যাচার করতে পারবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

মহাকাশ প্রযুক্তির বিস্তারে বিপদের মুখে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল

আপডেট সময় ০২:০৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

ইন্টারনেট সেবার জন্য মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর হিড়িক এখন পৃথিবীর জলবায়ুর জন্য বড় বিপদ ডেকে আনছে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, রকেট উৎক্ষেপণের সময় নির্গত হওয়া কালো ধোঁয়া ও কালি বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে তীব্র দূষণ তৈরি করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলন মাস্কের স্পেসএক্সসহ অনেক কোম্পানি ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার জন্য মহাকাশে স্যাটেলাইটের বিশাল বহর বা ‘মেগাকনস্টেলেশন’ পাঠানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট। এর ফলে নানামুখী সমস্যার তৈরি হচ্ছে।

এরইমধ্যে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব স্যাটেলাইট মহাকাশকে একরকম অবরুদ্ধ বা জটলা পাকিয়ে ফেলছে। এতে করে স্যাটেলাইটগুলোর নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে, যা মহাকাশকে মানুষের ব্যবহারের অনুপযোগী করে তুলতে পারে।

এখন বিজ্ঞানীরা নতুন সতর্কতায় বলেছেন, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়াটি নিজেই মহাকাশকে দূষিত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ দশকের শেষদিকে মহাকাশ খাতের মোট পরিবেশ দূষণের প্রায় ৪২ শতাংশই আসবে এসব স্যাটলাইট উৎক্ষেপণের কারণে। স্যাটেলাইট বহনকারী বিভিন্ন রকেট উৎক্ষেপণের সময় সেগুলো বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে অনেক পরিমাণে ‘ব্ল্যাক কার্বন’ বা ঝুলকালি নির্গত করে।

মাটিতে তৈরি হওয়া কালির চেয়ে বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরের এ কালি অনেক দীর্ঘস্থায়ী হয়, যা পরিবেশের ওপর প্রায় ৫৪০ গুণ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তবে এ দূষণের একটি দিক আবার জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সাহায্যও করতে পারে। এ কালির আস্তরণ পৃথিবীর পৃষ্ঠে সূর্যের আলো পৌঁছাতে বাধা তৈরি করে।

বিষয়টি অনেকটা ‘জিওইঞ্জিনিয়ারিং’ পদ্ধতির মতো কাজ করে, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া ঠেকাতে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে প্রস্তাব করে আসছেন কিছু বিজ্ঞানী। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এর প্রভাব হতে পারে বড় ও নেতিবাচক, যা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। তাদের এমন পূর্বাভাস বাস্তবতার চেয়ে কমও হতে পারে।

কারণ গবেষণার এসব হিসাব ২০২০ থেকে ২০২২ সালের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। অথচ মহাকাশ কোম্পানিগুলো এখন তাদের রকেট উৎক্ষেপণের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বাড়িয়েই চলেছে। এ গবেষণা প্রকল্পের প্রধান ও ‘ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন’-এর গবেষক ইলোইস মারাইস বলেছেন, মহাকাশ শিল্পের এ দূষণটি আসলে ছোটখাটো ও অনিয়ন্ত্রিত জিওইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার মতো। ফলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ও মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বায়ুমণ্ডলের ওপর এর প্রভাব এখনও তুলনামূলক কম। ফলে বিষয়টি আরও বড় সমস্যা হয়ে ওঠার আগেই আমাদের হাতে সময় আছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার। কারণ, পরিস্থিতি পরে আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া বা সারানো কঠিন হতে পারে। এ ধরনের দূষণ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে এ পর্যন্ত খুব একটা উদ্যোগ দেখা যায়নি।

‘রেডিয়েটিভ ফোর্সিং অ্যান্ড ওজোন ডিপলেশন অফ আ ডেকেড অফ স্যাটেলাইট মেগাকনস্টেলেশন মিশনস’ শিরোনামে এ গবেষণাপত্রটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘আর্থ ফিউচার্স’-এ।