ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে:জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন ‘জেন্টলম্যান ফর এক্সেলেন্স’: প্রধান বিচারপতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেকের সক্রিয় ভূমিকা চায় ঢাকা কাপ্তাই হৃদে নিখোঁজ বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৭২ দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের নতুন প্রেস মিনিস্টার সাইদুর যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতার মধ্যে না থাকলে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে : রিজভী

খামারিদের বাড়িতে ‘রক্তমাখা চিঠি’ দিয়ে ডাকাতি ও হত্যার হুমকি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গরুর খামারিদের বাড়ি বাড়ি রক্তমাখা চিঠি দিয়ে ডাকাতি ও হত্যার হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

চিঠিতে খামারিদের ঘরের দরজা খোলা রাখতে বলা হয়েছে। দরজা না খুললে ‘জিন্দা খালাস’ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার রাতে এ বিষয়ে স্থানীয় খামারি মো. আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

এর আগে গত পাঁচ দিনে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ১৫টি বাড়িতে একই ধরনের চিঠি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার গাড়াদহ ইউপির টেকুয়াপাড়া গ্রামের গো-খামারি হাজী রফিকুল ইসলাম, শাহাদৎ হোসেন, আজাদুল ইসলাম ও সানোয়ার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, চার থেকে পাঁচ দিনে গ্রামের অন্তত ১৫ বাড়িতে রক্তমাখা চিঠি এসেছে। চিঠিগুলোতে নির্বিঘ্নে ডাকাতি করার জন্য দরজা খোলা রাখতে বলা হয়। দরজা না খোলা রাখলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে ডাকাতি করা হয়েছে। ফলে কোরবানির ঈদকে ঘিরে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গরুর খামারিরা। একদিকে ডাকাতি অন্যদিকে হুমকি দেওয়া রক্তমাখা চিঠিতে নির্ঘুম হয়ে যায় পুরো গ্রাম। গত ৪/৫ দিনে টেকুয়াপাড়া গ্রামের অন্তত ১৫ জনের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা নিজেদের রঘু ডাকাত পরিচয় দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে লিখেছে ‘কালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসব, তাই দরজা খোলা রাখবেন, না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস। ইতি রঘু ডাকাত।

টেকুয়াপাড়া গ্রামের মিলন সংঘ ক্লাবের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গরু লালনপালন হয়ে থাকে; যা ঈদের আগে বিক্রি করা হয়। হঠাৎ ১৫ বাড়িতে রক্ষামাখা চিঠি আসার পর থেকে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বাজার ও রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ছে। ক্লাবের সদস্যরা পালা করে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, চিঠির ঘটনাটি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহজাদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে শনিবার রাতে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, গ্রামবাসীকে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনওভাবেই কোনও ডাকাতকে বা কোন দুষ্কৃতিকারীকে অপতৎপরতা করতে দেওয়া হবে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন

খামারিদের বাড়িতে ‘রক্তমাখা চিঠি’ দিয়ে ডাকাতি ও হত্যার হুমকি

আপডেট সময় ০৮:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গরুর খামারিদের বাড়ি বাড়ি রক্তমাখা চিঠি দিয়ে ডাকাতি ও হত্যার হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

চিঠিতে খামারিদের ঘরের দরজা খোলা রাখতে বলা হয়েছে। দরজা না খুললে ‘জিন্দা খালাস’ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার রাতে এ বিষয়ে স্থানীয় খামারি মো. আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

এর আগে গত পাঁচ দিনে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ১৫টি বাড়িতে একই ধরনের চিঠি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার গাড়াদহ ইউপির টেকুয়াপাড়া গ্রামের গো-খামারি হাজী রফিকুল ইসলাম, শাহাদৎ হোসেন, আজাদুল ইসলাম ও সানোয়ার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, চার থেকে পাঁচ দিনে গ্রামের অন্তত ১৫ বাড়িতে রক্তমাখা চিঠি এসেছে। চিঠিগুলোতে নির্বিঘ্নে ডাকাতি করার জন্য দরজা খোলা রাখতে বলা হয়। দরজা না খোলা রাখলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে ডাকাতি করা হয়েছে। ফলে কোরবানির ঈদকে ঘিরে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গরুর খামারিরা। একদিকে ডাকাতি অন্যদিকে হুমকি দেওয়া রক্তমাখা চিঠিতে নির্ঘুম হয়ে যায় পুরো গ্রাম। গত ৪/৫ দিনে টেকুয়াপাড়া গ্রামের অন্তত ১৫ জনের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা নিজেদের রঘু ডাকাত পরিচয় দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে লিখেছে ‘কালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসব, তাই দরজা খোলা রাখবেন, না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস। ইতি রঘু ডাকাত।

টেকুয়াপাড়া গ্রামের মিলন সংঘ ক্লাবের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গরু লালনপালন হয়ে থাকে; যা ঈদের আগে বিক্রি করা হয়। হঠাৎ ১৫ বাড়িতে রক্ষামাখা চিঠি আসার পর থেকে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বাজার ও রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ছে। ক্লাবের সদস্যরা পালা করে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, চিঠির ঘটনাটি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহজাদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে শনিবার রাতে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, গ্রামবাসীকে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনওভাবেই কোনও ডাকাতকে বা কোন দুষ্কৃতিকারীকে অপতৎপরতা করতে দেওয়া হবে না।