ঢাকা ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি ব্যবসায়ীকে আটকে চাঁদা দাবি: ডিজিএফআই সদস্যসহ কারাগারে ৬ দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে

খামারিদের বাড়িতে ‘রক্তমাখা চিঠি’ দিয়ে ডাকাতি ও হত্যার হুমকি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গরুর খামারিদের বাড়ি বাড়ি রক্তমাখা চিঠি দিয়ে ডাকাতি ও হত্যার হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

চিঠিতে খামারিদের ঘরের দরজা খোলা রাখতে বলা হয়েছে। দরজা না খুললে ‘জিন্দা খালাস’ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার রাতে এ বিষয়ে স্থানীয় খামারি মো. আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

এর আগে গত পাঁচ দিনে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ১৫টি বাড়িতে একই ধরনের চিঠি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার গাড়াদহ ইউপির টেকুয়াপাড়া গ্রামের গো-খামারি হাজী রফিকুল ইসলাম, শাহাদৎ হোসেন, আজাদুল ইসলাম ও সানোয়ার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, চার থেকে পাঁচ দিনে গ্রামের অন্তত ১৫ বাড়িতে রক্তমাখা চিঠি এসেছে। চিঠিগুলোতে নির্বিঘ্নে ডাকাতি করার জন্য দরজা খোলা রাখতে বলা হয়। দরজা না খোলা রাখলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে ডাকাতি করা হয়েছে। ফলে কোরবানির ঈদকে ঘিরে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গরুর খামারিরা। একদিকে ডাকাতি অন্যদিকে হুমকি দেওয়া রক্তমাখা চিঠিতে নির্ঘুম হয়ে যায় পুরো গ্রাম। গত ৪/৫ দিনে টেকুয়াপাড়া গ্রামের অন্তত ১৫ জনের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা নিজেদের রঘু ডাকাত পরিচয় দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে লিখেছে ‘কালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসব, তাই দরজা খোলা রাখবেন, না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস। ইতি রঘু ডাকাত।

টেকুয়াপাড়া গ্রামের মিলন সংঘ ক্লাবের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গরু লালনপালন হয়ে থাকে; যা ঈদের আগে বিক্রি করা হয়। হঠাৎ ১৫ বাড়িতে রক্ষামাখা চিঠি আসার পর থেকে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বাজার ও রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ছে। ক্লাবের সদস্যরা পালা করে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, চিঠির ঘটনাটি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহজাদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে শনিবার রাতে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, গ্রামবাসীকে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনওভাবেই কোনও ডাকাতকে বা কোন দুষ্কৃতিকারীকে অপতৎপরতা করতে দেওয়া হবে না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: জারি সতর্কতা

খামারিদের বাড়িতে ‘রক্তমাখা চিঠি’ দিয়ে ডাকাতি ও হত্যার হুমকি

আপডেট সময় ০৮:৩৮:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গরুর খামারিদের বাড়ি বাড়ি রক্তমাখা চিঠি দিয়ে ডাকাতি ও হত্যার হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

চিঠিতে খামারিদের ঘরের দরজা খোলা রাখতে বলা হয়েছে। দরজা না খুললে ‘জিন্দা খালাস’ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার রাতে এ বিষয়ে স্থানীয় খামারি মো. আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

এর আগে গত পাঁচ দিনে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ১৫টি বাড়িতে একই ধরনের চিঠি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার গাড়াদহ ইউপির টেকুয়াপাড়া গ্রামের গো-খামারি হাজী রফিকুল ইসলাম, শাহাদৎ হোসেন, আজাদুল ইসলাম ও সানোয়ার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, চার থেকে পাঁচ দিনে গ্রামের অন্তত ১৫ বাড়িতে রক্তমাখা চিঠি এসেছে। চিঠিগুলোতে নির্বিঘ্নে ডাকাতি করার জন্য দরজা খোলা রাখতে বলা হয়। দরজা না খোলা রাখলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে ডাকাতি করা হয়েছে। ফলে কোরবানির ঈদকে ঘিরে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গরুর খামারিরা। একদিকে ডাকাতি অন্যদিকে হুমকি দেওয়া রক্তমাখা চিঠিতে নির্ঘুম হয়ে যায় পুরো গ্রাম। গত ৪/৫ দিনে টেকুয়াপাড়া গ্রামের অন্তত ১৫ জনের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা নিজেদের রঘু ডাকাত পরিচয় দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে লিখেছে ‘কালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসব, তাই দরজা খোলা রাখবেন, না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস। ইতি রঘু ডাকাত।

টেকুয়াপাড়া গ্রামের মিলন সংঘ ক্লাবের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গরু লালনপালন হয়ে থাকে; যা ঈদের আগে বিক্রি করা হয়। হঠাৎ ১৫ বাড়িতে রক্ষামাখা চিঠি আসার পর থেকে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বাজার ও রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ছে। ক্লাবের সদস্যরা পালা করে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছে।

শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, চিঠির ঘটনাটি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহজাদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে শনিবার রাতে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, গ্রামবাসীকে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনওভাবেই কোনও ডাকাতকে বা কোন দুষ্কৃতিকারীকে অপতৎপরতা করতে দেওয়া হবে না।