ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনে বিপর্যয় ঘটবে: এডিবি

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহে অপ্রতিহত জলবায়ু পরিবর্তন ভয়াবহ ক্ষতি বয়ে আনবে। ‘ঝুঁকিতে এ অঞ্চল: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনে মানবিক ডাইমেনশন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়। এতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনে এই অঞ্চলের দেশসমূহে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি হ্রাস, বর্তমান উন্নয়ন ধারা বাধাগ্রস্ত এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান কমে যাবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন এ অঞ্চলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যাবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং পোস্টড্যাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চ (পিআইকে) যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অঞ্চলে বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবে প্রতি বছরে ৩৩ লাখ লোক মারা যাচ্ছে। এ ধরনের মৃত্যুর তালিকায় চীন, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে তাপ প্রবাহে বৃদ্ধ লোকের মৃত্যুর সংখ্যা ৫২ হাজার উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর মতো রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এতে আরো বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বসতি সমস্যা, ব্যাপক অভিবাসন, বিশেষ করে নগর এলাকায় বৃদ্ধি পাবে। ফলে নগরীতে জনসংখ্যার চাপ বাড়বে এবং সেবামূলক খাতগুলোতে চাপ বাড়বে। বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ও টাইফুনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এই বৃদ্ধির পরিমাণ ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে বৃষ্টিপাত ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।

অঞ্চলের উপকূল ও নিচু এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। ২৫ নগরীর মধ্যে ১৯টিতে সমুদ্র জলসীমা এক মিটার উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। এর মধ্যে ফিলিপাইনেই সাতটি উপকূলীয় বন্যায় অঞ্চলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হবে ইন্দোনেশিয়া। ২১০০ সাল পর্যন্ত এখানে প্রতিবছরে ৫৯ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশে একটি স্বাভাবিক বছরে নদী প্লাবিত এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে দেশের ২০ থেকে ২৫ ভাগ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। একশত বছরের বন্যা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ সময়ে দেশের মোট এলাকার ৬০ ভাগ ভূখন্ড প্লাবিত হয়েছে।
বিগত ২০ বছরের মধ্যে তিন বছর যথাক্রমে ১৯৮৭, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালে বড় বন্যা হয়। এ সময় দেশের ৬০ ভাগের অধিক এলাকা প্লাবিত হয়।

প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় প্যারিস চুক্তিতে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে এশিয়ার দেশসমূহের অর্থনীতির উন্নয়ন গতিধারা ধরে রাখতে এবং অঞ্চলের অতি দরিদ্র লোকদের রক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রতিবেদনে টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ বন্ধে সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ক্ষমতাসীন দলকে ‘স্যাডিস্ট ও ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র

এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনে বিপর্যয় ঘটবে: এডিবি

আপডেট সময় ১০:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুলাই ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহে অপ্রতিহত জলবায়ু পরিবর্তন ভয়াবহ ক্ষতি বয়ে আনবে। ‘ঝুঁকিতে এ অঞ্চল: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনে মানবিক ডাইমেনশন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়। এতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনে এই অঞ্চলের দেশসমূহে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি হ্রাস, বর্তমান উন্নয়ন ধারা বাধাগ্রস্ত এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান কমে যাবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন এ অঞ্চলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যাবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং পোস্টড্যাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চ (পিআইকে) যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অঞ্চলে বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাবে প্রতি বছরে ৩৩ লাখ লোক মারা যাচ্ছে। এ ধরনের মৃত্যুর তালিকায় চীন, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে তাপ প্রবাহে বৃদ্ধ লোকের মৃত্যুর সংখ্যা ৫২ হাজার উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর মতো রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এতে আরো বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বসতি সমস্যা, ব্যাপক অভিবাসন, বিশেষ করে নগর এলাকায় বৃদ্ধি পাবে। ফলে নগরীতে জনসংখ্যার চাপ বাড়বে এবং সেবামূলক খাতগুলোতে চাপ বাড়বে। বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ও টাইফুনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এই বৃদ্ধির পরিমাণ ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে বৃষ্টিপাত ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে।

অঞ্চলের উপকূল ও নিচু এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে। ২৫ নগরীর মধ্যে ১৯টিতে সমুদ্র জলসীমা এক মিটার উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। এর মধ্যে ফিলিপাইনেই সাতটি উপকূলীয় বন্যায় অঞ্চলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হবে ইন্দোনেশিয়া। ২১০০ সাল পর্যন্ত এখানে প্রতিবছরে ৫৯ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশে একটি স্বাভাবিক বছরে নদী প্লাবিত এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে দেশের ২০ থেকে ২৫ ভাগ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। একশত বছরের বন্যা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ সময়ে দেশের মোট এলাকার ৬০ ভাগ ভূখন্ড প্লাবিত হয়েছে।
বিগত ২০ বছরের মধ্যে তিন বছর যথাক্রমে ১৯৮৭, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালে বড় বন্যা হয়। এ সময় দেশের ৬০ ভাগের অধিক এলাকা প্লাবিত হয়।

প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলায় প্যারিস চুক্তিতে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে এশিয়ার দেশসমূহের অর্থনীতির উন্নয়ন গতিধারা ধরে রাখতে এবং অঞ্চলের অতি দরিদ্র লোকদের রক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রতিবেদনে টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ বন্ধে সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়।