ঢাকা ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নারায়ণগঞ্জে ফের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আবারও একটি বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে বাবা ও তিন ছেলে দগ্ধ হয়েছেন।

সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেটের পাশে কুতুবপুর রাখিবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন- আব্দুল কাদের (৫০) এবং তার তিন ছেলে মেহেদী (১৭), জমজ সন্তান সাকিব (১৬) ও রাকিব (১৬)। গুরুতর অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উপজেলা।

তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রতিবেশি মো. ফারুক জানান, একতলা ভবনটিতে ভাড়া থাকেন আব্দুল কাদেরের পরিবার। তার তিন ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস। সকালে তাদের বাসায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের মানুষ জেগে ওঠে। তখন সবাই দৌড়ে গিয়ে দেখেন, ওই বাড়িটির দরজা-জানালা ভেঙে পড়েছে। ঘরের ভেতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় একে একে তাদের বের করে আনা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাসার তিতাস গ্যাসের লাইনের গ্যাস লিকেজ হয়ে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।

জানা গেছে, আব্দুল কাদের অটোরিকশাচালক। আর তার ছেলে মেহেদি হালিম বিক্রেতা, সাকিব একটি কারখানায় কাজ করেন এবং রাকিব চটপটি বিক্রি করেন। ঘটনার সময় তিন ছেলে ও বাবা ঘুমিয়েছিলেন। আর তাদের মা রান্নার কাজের জন্য পানি সংগ্রহ করতে ঘরের বাইরে ছিলেন। তখনই এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান গণমাধ্যমকে জানান, আব্দুল কাদেরের শরীরের ৫৭ শতাংশ, মেহেদীর ১৮, সাকিবের ১৭ ও রাকিবের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। মেহেদী ও রাকিবের শ্বাসনালীও দগ্ধ হয়েছে। তাদের চারজনের অবস্থাই গুরুতর। ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের হাজিগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার নূরে আলম দুলাল জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিতাস গ্যাসের লাইনের গ্যাস লিকেজ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অসাবধানতাবশত গ্যাস জমে থাকা ঘরটিতে দিয়াশলাই বা ম্যাচ লাইটার জ্বালানোর কারণে সঙ্গে সঙ্গে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজন গুরুতর দগ্ধ হয়। দগ্ধদের ঢাকা বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে এর আগে গত শনিবার (১০ মে) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

সেদিন ভোর ৬টা ৫৫ মিনিটে সদর উপজেলার ভূঁইগড় গিরিধারা এলাকার মো. শাহজাহান মিয়ার ৮ তলা ভবনের নিচতলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মো. কালাম (৪৫), তার স্ত্রী সালমা (৪০), ছেলে মুন্না (১২), মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৭)।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্ল্যাটের পশ্চিম পাশের কক্ষে থাকা রান্নাঘর সংলগ্ন গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বদ্ধ কক্ষে গ্যাস জমে যায়।

তিনি আরও বলেন, সকালে ওই ভাড়াটিয়া সিগারেটের লাইটার জ্বালানোর চেষ্টা করলে মুহূর্তেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করছি। ওই কক্ষ থেকে আমরা একটি গ্যাস লাইটার পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত বলা যাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

নারায়ণগঞ্জে ফের গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, একই পরিবারের ৪ জন দগ্ধ

আপডেট সময় ০১:১৪:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আবারও একটি বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে বাবা ও তিন ছেলে দগ্ধ হয়েছেন।

সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেটের পাশে কুতুবপুর রাখিবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন- আব্দুল কাদের (৫০) এবং তার তিন ছেলে মেহেদী (১৭), জমজ সন্তান সাকিব (১৬) ও রাকিব (১৬)। গুরুতর অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উপজেলা।

তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রতিবেশি মো. ফারুক জানান, একতলা ভবনটিতে ভাড়া থাকেন আব্দুল কাদেরের পরিবার। তার তিন ছেলে এবং স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস। সকালে তাদের বাসায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের মানুষ জেগে ওঠে। তখন সবাই দৌড়ে গিয়ে দেখেন, ওই বাড়িটির দরজা-জানালা ভেঙে পড়েছে। ঘরের ভেতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় একে একে তাদের বের করে আনা হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাসার তিতাস গ্যাসের লাইনের গ্যাস লিকেজ হয়ে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।

জানা গেছে, আব্দুল কাদের অটোরিকশাচালক। আর তার ছেলে মেহেদি হালিম বিক্রেতা, সাকিব একটি কারখানায় কাজ করেন এবং রাকিব চটপটি বিক্রি করেন। ঘটনার সময় তিন ছেলে ও বাবা ঘুমিয়েছিলেন। আর তাদের মা রান্নার কাজের জন্য পানি সংগ্রহ করতে ঘরের বাইরে ছিলেন। তখনই এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান গণমাধ্যমকে জানান, আব্দুল কাদেরের শরীরের ৫৭ শতাংশ, মেহেদীর ১৮, সাকিবের ১৭ ও রাকিবের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। মেহেদী ও রাকিবের শ্বাসনালীও দগ্ধ হয়েছে। তাদের চারজনের অবস্থাই গুরুতর। ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের হাজিগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার নূরে আলম দুলাল জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিতাস গ্যাসের লাইনের গ্যাস লিকেজ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অসাবধানতাবশত গ্যাস জমে থাকা ঘরটিতে দিয়াশলাই বা ম্যাচ লাইটার জ্বালানোর কারণে সঙ্গে সঙ্গে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজন গুরুতর দগ্ধ হয়। দগ্ধদের ঢাকা বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে এর আগে গত শনিবার (১০ মে) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

সেদিন ভোর ৬টা ৫৫ মিনিটে সদর উপজেলার ভূঁইগড় গিরিধারা এলাকার মো. শাহজাহান মিয়ার ৮ তলা ভবনের নিচতলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মো. কালাম (৪৫), তার স্ত্রী সালমা (৪০), ছেলে মুন্না (১২), মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৭)।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফ্ল্যাটের পশ্চিম পাশের কক্ষে থাকা রান্নাঘর সংলগ্ন গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বদ্ধ কক্ষে গ্যাস জমে যায়।

তিনি আরও বলেন, সকালে ওই ভাড়াটিয়া সিগারেটের লাইটার জ্বালানোর চেষ্টা করলে মুহূর্তেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করছি। ওই কক্ষ থেকে আমরা একটি গ্যাস লাইটার পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত বলা যাবে।