ঢাকা ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী ‘যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে’:মির্জা ফখরুল পুষ্টি ও সুস্বাস্থ্যেই গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ: আমিনুল হক বাধ্যতামূলক অবসরে অতিরিক্ত ডিআইজি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে রাশেদ খাঁনের শ্রদ্ধা নিবেদন মার্কিন সেনা হত্যার জন্য ইরানকে বহুগুণ বেশি মূল্য চোকাতে হবে: ট্রাম্প প্রতিটি কর্মঘণ্টা ও করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে:জনপ্রশাসন উপদেষ্টা জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন ‘জেন্টলম্যান ফর এক্সেলেন্স’: প্রধান বিচারপতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেকের সক্রিয় ভূমিকা চায় ঢাকা কাপ্তাই হৃদে নিখোঁজ বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার

আমার বাজান নতুন জামা পরে হাসতে হাসতে বোনের বাড়ি গেছিল, কে জানত এটাই শেষ যাওয়া’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

‘আমার বাজান নতুন জামা-প্যান্ট কিনছিল। সেই জামা পরে হাসতে হাসতে বোনের বাড়ি গাজীপুর গেছিল। কে জানত, ওই যাওয়াই শেষ যাওয়া! আমার রসুল আমার ছোট ছেলে, আমার বুকের ধন। তোরা আমার রসুলরে আইনা দে…’

বুক চাপড়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথা বলতে বলতে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন ফেরেজা বেগম। একদিকে ছেলে, অন্যদিকে মেয়ে ও তিন নাতনিকে হারানোর শোকে যেন পাথর হয়ে গেছে তাঁর জীবন। স্বজনরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করলেও মুহূর্তেই আবার ভেঙে পড়ছিলেন এই মা।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার একটি ভাড়া বাসায় গলা কেটে হত্যার শিকার হওয়া একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে রবিবার (১০ মে) গোপালগঞ্জে দাফন করা হয়েছে।

এদিন বেলা ১১টায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পাইককান্দি পঞ্চপল্লী মাদরাসা মাঠে জানাজার নামাজ শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। একই স্থানে পাশাপাশি পাঁচটি কবর খোঁড়া হয়। সেখানে নিহত শারমিন আক্তার, তাঁর ভাই ও তিন মেয়েকে দাফন করা হয়।

রবিবার সকাল ৬টার দিকে দুটি লাশবাহী গাড়িতে করে নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়ি উত্তর চরপাড়া গ্রামে পৌঁছায়। মরদেহ পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহতরা হলেন— শারমিন আক্তার (৩০), তাঁর ভাই রসুল মোল্লা (১৮) এবং শারমিনের তিন মেয়ে মিম আক্তার (১৪), উম্মে হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (১ বছর ৪ মাস)।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনাজুড়ে শোকাহত মানুষের ভিড়। সন্তান ও নাতনিদের হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন শারমিনের মা ফেরেজা বেগম (৬০)। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে-মেয়ে, নাতনিদের মাইরা ফ্যালাইছে। আমার কলিজার টুকরাগো শেষ কইরা দিল। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচমু রে আল্লাহ…’।

নিহত শারমিনের বাবা শাহাদত মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলে, মেয়ে ও নাতনিদের ফোরকান হত্যা করেছে। ফোরকানসহ যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানাই।’

উল্লেখ্য, শনিবার (৯ মে) সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোন গ্রামের একটি আবাসিক কলোনি থেকে রক্তমাখা অবস্থায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত শুক্রবার (৮) মে গভীর রাতের কোনো এক সময় ওই পাঁচজনকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী ফুরকান পালিয়ে যান। পরে শনিবার ভোরে পলাতক স্বামী নিহতের স্বজনদের কাছে মোবাইল ফোনে খুনের কথা জানান। এ ঘটনায় শনিবার (৯ মে) রাতে নিহত শারমিন বেগমের বাবা সাহাদত মোল্লা কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পলাতক ঘাতক ফুরকানসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়: প্রধানমন্ত্রী

আমার বাজান নতুন জামা পরে হাসতে হাসতে বোনের বাড়ি গেছিল, কে জানত এটাই শেষ যাওয়া’

আপডেট সময় ০১:০২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

‘আমার বাজান নতুন জামা-প্যান্ট কিনছিল। সেই জামা পরে হাসতে হাসতে বোনের বাড়ি গাজীপুর গেছিল। কে জানত, ওই যাওয়াই শেষ যাওয়া! আমার রসুল আমার ছোট ছেলে, আমার বুকের ধন। তোরা আমার রসুলরে আইনা দে…’

বুক চাপড়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথা বলতে বলতে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন ফেরেজা বেগম। একদিকে ছেলে, অন্যদিকে মেয়ে ও তিন নাতনিকে হারানোর শোকে যেন পাথর হয়ে গেছে তাঁর জীবন। স্বজনরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করলেও মুহূর্তেই আবার ভেঙে পড়ছিলেন এই মা।

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার একটি ভাড়া বাসায় গলা কেটে হত্যার শিকার হওয়া একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে রবিবার (১০ মে) গোপালগঞ্জে দাফন করা হয়েছে।

এদিন বেলা ১১টায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পাইককান্দি পঞ্চপল্লী মাদরাসা মাঠে জানাজার নামাজ শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। একই স্থানে পাশাপাশি পাঁচটি কবর খোঁড়া হয়। সেখানে নিহত শারমিন আক্তার, তাঁর ভাই ও তিন মেয়েকে দাফন করা হয়।

রবিবার সকাল ৬টার দিকে দুটি লাশবাহী গাড়িতে করে নিহতদের মরদেহ গ্রামের বাড়ি উত্তর চরপাড়া গ্রামে পৌঁছায়। মরদেহ পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

নিহতরা হলেন— শারমিন আক্তার (৩০), তাঁর ভাই রসুল মোল্লা (১৮) এবং শারমিনের তিন মেয়ে মিম আক্তার (১৪), উম্মে হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (১ বছর ৪ মাস)।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনাজুড়ে শোকাহত মানুষের ভিড়। সন্তান ও নাতনিদের হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন শারমিনের মা ফেরেজা বেগম (৬০)। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে-মেয়ে, নাতনিদের মাইরা ফ্যালাইছে। আমার কলিজার টুকরাগো শেষ কইরা দিল। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচমু রে আল্লাহ…’।

নিহত শারমিনের বাবা শাহাদত মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলে, মেয়ে ও নাতনিদের ফোরকান হত্যা করেছে। ফোরকানসহ যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানাই।’

উল্লেখ্য, শনিবার (৯ মে) সকালে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোন গ্রামের একটি আবাসিক কলোনি থেকে রক্তমাখা অবস্থায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত শুক্রবার (৮) মে গভীর রাতের কোনো এক সময় ওই পাঁচজনকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী ফুরকান পালিয়ে যান। পরে শনিবার ভোরে পলাতক স্বামী নিহতের স্বজনদের কাছে মোবাইল ফোনে খুনের কথা জানান। এ ঘটনায় শনিবার (৯ মে) রাতে নিহত শারমিন বেগমের বাবা সাহাদত মোল্লা কাপাসিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পলাতক ঘাতক ফুরকানসহ অজ্ঞাত চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।