আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
যুদ্ধ বন্ধের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে আছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্মারকটি শিগগিরই চূড়ান্ত হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এর আগে দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে একই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল অ্যাক্সিওস। পাকিস্তানি সূত্রটি জানায়, অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের তথ্য সঠিক। আমরা সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।
যুদ্ধ শেষ করার এই সম্ভাব্য চুক্তির খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ১০০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, শেয়ারবাজারের সূচকও বেড়েছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
সমঝোতা স্মারক নিয়ে খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। এই অভিযানের আওতায় জ্বালানিবাহী নৌযানগুলোকে পাহারা দিতে চেয়েছিল মার্কিন নৌবাহিনী।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারকটি হবে এক পৃষ্ঠার। এটি স্বাক্ষরের বিষয়ে উভয়পক্ষ খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের কাছে থেকে প্রতিক্রিয়া বা জবাব আশা করছে।
এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউস, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আরেক মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তেহরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৪ দফার একটি প্রস্তাব মূল্যায়ন করছে।
সম্ভাব্য চুক্তির শর্তগুলোর মধ্যে আছে- ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখার অঙ্গীকার করবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে এবং জব্দ করা শত কোটি ডলারের তহবিল ছাড় দিতে সম্মত হবে। এছাড়া, উভয়পক্ষ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য ও জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















