ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে দুই শিশু ও মায়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের প্রতি অবহেলা: শাস্তি পাবেন সেই যুগ্ম সচিব বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক এমপিদের সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক : স্পিকার ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, দাবি ট্রাম্পের

‘শাপলার ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠভাবে না দেখার ব্যর্থতাই স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করেছে’:রেজাউল করীম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে নির্মোহ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ভুক্তভোগীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র আমির পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

সোমবার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ই মে ঢাকায় যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিলো তা আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বর্বরোচিত ও কলঙ্কময় অধ্যায়। নিজ দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের সশস্ত্র অভিযান চালানোর নজীর ইতিহাসে বিরল। সেদিন যারা শাপলা চত্বরে রাত্রিযাপন করেছিল তাদের অধিকাংশই অল্পবয়সি ছাত্র, যাদের সঙ্গে কোন ধরনের অস্ত্র ছিলো না, যাদের অপরাধের কোন পূর্ব নজীরও ছিলো না।

তিনি বলেন, একদল শিক্ষার্থীদের ওপরে রাষ্ট্রের পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী সামরিক অভিযানের মতো করে যেভাবে হামলে পড়েছিলো তার দৃষ্টান্ত অভিশপ্ত ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যাবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম, মাদ্রাসা ও ইসলাম পন্থার ওপরে চরম বিদ্বেষ ও জিঘাংশা থেকে সেই অভিযান পরিচালনা করেছিল। সেই বীভৎস হত্যাকাণ্ডের পরেই আওয়ামী লীগের স্বৈরতন্ত্রের শেকড় আরও গভীরে প্রোথিত হয় যার পরিণাম জাতিকে বহন করতে হয়েছে আরো এগারো বছর। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বহু নেতাকর্মী সেই বর্বরতার শিকার হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে সেই হত্যাকাণ্ডের নির্মোহ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে আর কোন স্বৈরাচার নিজ দেশের নাগরিকদের সঙ্গে এমন নৃশংসতা করতে না পারে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ২০১৩ সালের ৫ই মে’র পরে দেশের রাজনৈতিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবী, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও পুনরায় বিচার-বিশ্লেষণ করা জরুরি। সরকারকে বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ও রাষ্ট্রের ৫ম স্তম্ভ গণমাধ্যমের থেকেও কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় নাই; বরং বৈধতা উৎপাদন করা হয়েছে। রাষ্ট্রের সেই বর্বরতাও কেবল আদর্শিক মতভিন্নতার কারণে এক ধরণের বৈধতা পেয়েছিলো। ইসলামী আন্দোলন মনে করে, যে কোন ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে দেখতে না পারার ব্যর্থতাই বিগত স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিল।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর দাবী করে বলেন, শাপলায় যারা শাহাদাৎবরণ করেছেন এবং আহত হয়েছেন তাদেরকে জাতীয় বীরের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলাকেন্দ্রীক মামলাগুলো প্রত্যাহার করে মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলা হত্যাকাণ্ডের প্রতি ঘৃণা ও প্রতিবাদ জাগরূক রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিনকে স্মরণ করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘শাপলার ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠভাবে না দেখার ব্যর্থতাই স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করেছে’:রেজাউল করীম

আপডেট সময় ০৫:৩২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে নির্মোহ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ভুক্তভোগীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র আমির পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

সোমবার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ই মে ঢাকায় যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিলো তা আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বর্বরোচিত ও কলঙ্কময় অধ্যায়। নিজ দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের সশস্ত্র অভিযান চালানোর নজীর ইতিহাসে বিরল। সেদিন যারা শাপলা চত্বরে রাত্রিযাপন করেছিল তাদের অধিকাংশই অল্পবয়সি ছাত্র, যাদের সঙ্গে কোন ধরনের অস্ত্র ছিলো না, যাদের অপরাধের কোন পূর্ব নজীরও ছিলো না।

তিনি বলেন, একদল শিক্ষার্থীদের ওপরে রাষ্ট্রের পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী সামরিক অভিযানের মতো করে যেভাবে হামলে পড়েছিলো তার দৃষ্টান্ত অভিশপ্ত ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যাবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম, মাদ্রাসা ও ইসলাম পন্থার ওপরে চরম বিদ্বেষ ও জিঘাংশা থেকে সেই অভিযান পরিচালনা করেছিল। সেই বীভৎস হত্যাকাণ্ডের পরেই আওয়ামী লীগের স্বৈরতন্ত্রের শেকড় আরও গভীরে প্রোথিত হয় যার পরিণাম জাতিকে বহন করতে হয়েছে আরো এগারো বছর। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বহু নেতাকর্মী সেই বর্বরতার শিকার হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে সেই হত্যাকাণ্ডের নির্মোহ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে আর কোন স্বৈরাচার নিজ দেশের নাগরিকদের সঙ্গে এমন নৃশংসতা করতে না পারে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ২০১৩ সালের ৫ই মে’র পরে দেশের রাজনৈতিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবী, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও পুনরায় বিচার-বিশ্লেষণ করা জরুরি। সরকারকে বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ও রাষ্ট্রের ৫ম স্তম্ভ গণমাধ্যমের থেকেও কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় নাই; বরং বৈধতা উৎপাদন করা হয়েছে। রাষ্ট্রের সেই বর্বরতাও কেবল আদর্শিক মতভিন্নতার কারণে এক ধরণের বৈধতা পেয়েছিলো। ইসলামী আন্দোলন মনে করে, যে কোন ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে দেখতে না পারার ব্যর্থতাই বিগত স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিল।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর দাবী করে বলেন, শাপলায় যারা শাহাদাৎবরণ করেছেন এবং আহত হয়েছেন তাদেরকে জাতীয় বীরের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলাকেন্দ্রীক মামলাগুলো প্রত্যাহার করে মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলা হত্যাকাণ্ডের প্রতি ঘৃণা ও প্রতিবাদ জাগরূক রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিনকে স্মরণ করতে হবে।