ঢাকা ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান সরকার অনুমোদন দিলে ক্রসফায়ারও করবে পুলিশ: আইজিপি

‘শাপলার ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠভাবে না দেখার ব্যর্থতাই স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করেছে’:রেজাউল করীম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে নির্মোহ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ভুক্তভোগীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র আমির পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

সোমবার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ই মে ঢাকায় যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিলো তা আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বর্বরোচিত ও কলঙ্কময় অধ্যায়। নিজ দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের সশস্ত্র অভিযান চালানোর নজীর ইতিহাসে বিরল। সেদিন যারা শাপলা চত্বরে রাত্রিযাপন করেছিল তাদের অধিকাংশই অল্পবয়সি ছাত্র, যাদের সঙ্গে কোন ধরনের অস্ত্র ছিলো না, যাদের অপরাধের কোন পূর্ব নজীরও ছিলো না।

তিনি বলেন, একদল শিক্ষার্থীদের ওপরে রাষ্ট্রের পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী সামরিক অভিযানের মতো করে যেভাবে হামলে পড়েছিলো তার দৃষ্টান্ত অভিশপ্ত ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যাবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম, মাদ্রাসা ও ইসলাম পন্থার ওপরে চরম বিদ্বেষ ও জিঘাংশা থেকে সেই অভিযান পরিচালনা করেছিল। সেই বীভৎস হত্যাকাণ্ডের পরেই আওয়ামী লীগের স্বৈরতন্ত্রের শেকড় আরও গভীরে প্রোথিত হয় যার পরিণাম জাতিকে বহন করতে হয়েছে আরো এগারো বছর। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বহু নেতাকর্মী সেই বর্বরতার শিকার হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে সেই হত্যাকাণ্ডের নির্মোহ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে আর কোন স্বৈরাচার নিজ দেশের নাগরিকদের সঙ্গে এমন নৃশংসতা করতে না পারে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ২০১৩ সালের ৫ই মে’র পরে দেশের রাজনৈতিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবী, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও পুনরায় বিচার-বিশ্লেষণ করা জরুরি। সরকারকে বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ও রাষ্ট্রের ৫ম স্তম্ভ গণমাধ্যমের থেকেও কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় নাই; বরং বৈধতা উৎপাদন করা হয়েছে। রাষ্ট্রের সেই বর্বরতাও কেবল আদর্শিক মতভিন্নতার কারণে এক ধরণের বৈধতা পেয়েছিলো। ইসলামী আন্দোলন মনে করে, যে কোন ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে দেখতে না পারার ব্যর্থতাই বিগত স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিল।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর দাবী করে বলেন, শাপলায় যারা শাহাদাৎবরণ করেছেন এবং আহত হয়েছেন তাদেরকে জাতীয় বীরের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলাকেন্দ্রীক মামলাগুলো প্রত্যাহার করে মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলা হত্যাকাণ্ডের প্রতি ঘৃণা ও প্রতিবাদ জাগরূক রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিনকে স্মরণ করতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

‘শাপলার ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠভাবে না দেখার ব্যর্থতাই স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি করেছে’:রেজাউল করীম

আপডেট সময় ০৫:৩২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে নির্মোহ তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ভুক্তভোগীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র আমির পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

সোমবার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ৫ই মে ঢাকায় যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছিলো তা আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বর্বরোচিত ও কলঙ্কময় অধ্যায়। নিজ দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের সশস্ত্র অভিযান চালানোর নজীর ইতিহাসে বিরল। সেদিন যারা শাপলা চত্বরে রাত্রিযাপন করেছিল তাদের অধিকাংশই অল্পবয়সি ছাত্র, যাদের সঙ্গে কোন ধরনের অস্ত্র ছিলো না, যাদের অপরাধের কোন পূর্ব নজীরও ছিলো না।

তিনি বলেন, একদল শিক্ষার্থীদের ওপরে রাষ্ট্রের পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী সামরিক অভিযানের মতো করে যেভাবে হামলে পড়েছিলো তার দৃষ্টান্ত অভিশপ্ত ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যাবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম, মাদ্রাসা ও ইসলাম পন্থার ওপরে চরম বিদ্বেষ ও জিঘাংশা থেকে সেই অভিযান পরিচালনা করেছিল। সেই বীভৎস হত্যাকাণ্ডের পরেই আওয়ামী লীগের স্বৈরতন্ত্রের শেকড় আরও গভীরে প্রোথিত হয় যার পরিণাম জাতিকে বহন করতে হয়েছে আরো এগারো বছর। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বহু নেতাকর্মী সেই বর্বরতার শিকার হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে সেই হত্যাকাণ্ডের নির্মোহ তদন্ত করতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে আর কোন স্বৈরাচার নিজ দেশের নাগরিকদের সঙ্গে এমন নৃশংসতা করতে না পারে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ২০১৩ সালের ৫ই মে’র পরে দেশের রাজনৈতিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবী, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও পুনরায় বিচার-বিশ্লেষণ করা জরুরি। সরকারকে বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ও রাষ্ট্রের ৫ম স্তম্ভ গণমাধ্যমের থেকেও কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় নাই; বরং বৈধতা উৎপাদন করা হয়েছে। রাষ্ট্রের সেই বর্বরতাও কেবল আদর্শিক মতভিন্নতার কারণে এক ধরণের বৈধতা পেয়েছিলো। ইসলামী আন্দোলন মনে করে, যে কোন ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে দেখতে না পারার ব্যর্থতাই বিগত স্বৈরতন্ত্রের পাটাতন নির্মাণ করেছিল।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর দাবী করে বলেন, শাপলায় যারা শাহাদাৎবরণ করেছেন এবং আহত হয়েছেন তাদেরকে জাতীয় বীরের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলাকেন্দ্রীক মামলাগুলো প্রত্যাহার করে মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শাপলা হত্যাকাণ্ডের প্রতি ঘৃণা ও প্রতিবাদ জাগরূক রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিনকে স্মরণ করতে হবে।