ঢাকা ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কে সাংবাদিক তা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জুবাইদা রহমানের থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে সশস্ত্র হামলায় ৫ নিরাপত্তা সদস্যের প্রাণহানি কুমিল্লায় শিশু ঝুমুর ধর্ষণ ও হত্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড চুয়াডাঙ্গায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে আহত ২২, তিনজনের অবস্থা গুরুতর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান চাইলে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ধনী দেশ হতে পারতো: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ থাইল্যান্ডে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে আগ্রহী : বাণিজ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা ২৭ জুলাই থেকে শুরু দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

টানা পাঁচ মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয়ে উচ্চ ধারা বজায় রয়েছে। এপ্রিলে প্রবাসীরা ৩১৩ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় যা প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। এপ্রিলসহ টানা পাঁচ মাস প্রবাসীরা ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক সঙ্কটের মধ্যেও রেমিট্যান্সের এই উচ্চ প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রেখে চলেছে।

ব্যাংকাররা জানান, চলতি মে মাসের শেষে কোরবানি ঈদ অনুষ্ঠিত হবে। ফলে চলতি মাসেও রেমিট্যান্স বাড়বে বলে আশা করা যায়। অবশ্য অর্থপাচারের বিরুদ্ধে বর্তমানের এ কঠোর অবস্থান ধরে রাখতে পারলে হুন্ডি প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে থেকে রেমিট্যান্স বাড়বে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার হয়রানিমুক্তভাবে প্রবাসে শ্রমিক পাঠানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এটা সফল হলে রেমিট্যান্স আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করেন।

রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে আগের মাস মার্চে প্রায় ৩৭৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এ যাবৎকালের মধ্যে কোনো একক মাসে যা সর্বোচ্চ। আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ও গত ডিসেম্বরে প্রবাসীরা ৩২২ কোটি ডলার দেশে পাঠান। এর আগে গত বছরের মার্চে প্রথমবারের মতো তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। ওই মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩৩০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ২ হাজার ৪৫৪ কোটি ডলার। এ সময়ে বেড়েছে ৪৭৯ কোটি ডলার যা ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত অর্থবছর রেমিট্যান্স বেশি এসেছিল ৬৪২ কোটি ডলার যা ছিল ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরের উচ্চ ভিত্তির ওপর এবারের বৃদ্ধি ডলারে বাজারে স্বস্তি দিচ্ছে।

রপ্তানি কমে যাওয়া, আমদানি বৃদ্ধি এবং যুদ্ধ শুরুর পরও ডলারের দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় স্থিতিশীল রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক শূন্য ১০ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম৬ অনুযায়ী, ৩০ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। গত ৯ মার্চ আকুতে ১৩৭ কোটি ডলার পরিশোধের পর যা ৩৪ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। আর আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ হয়েছিল ২৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।

দেশের ইতিহাসে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। সেখান থেকে কমে আওয়ামী লীগ পতনের সময় বিমিএম৬ অনুযায়ী, ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার ও গ্রস রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে যায়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছিল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কে সাংবাদিক তা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

টানা পাঁচ মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স

আপডেট সময় ০৫:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয়ে উচ্চ ধারা বজায় রয়েছে। এপ্রিলে প্রবাসীরা ৩১৩ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় যা প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। এপ্রিলসহ টানা পাঁচ মাস প্রবাসীরা ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। যুদ্ধের মতো বৈশ্বিক সঙ্কটের মধ্যেও রেমিট্যান্সের এই উচ্চ প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রেখে চলেছে।

ব্যাংকাররা জানান, চলতি মে মাসের শেষে কোরবানি ঈদ অনুষ্ঠিত হবে। ফলে চলতি মাসেও রেমিট্যান্স বাড়বে বলে আশা করা যায়। অবশ্য অর্থপাচারের বিরুদ্ধে বর্তমানের এ কঠোর অবস্থান ধরে রাখতে পারলে হুন্ডি প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে থেকে রেমিট্যান্স বাড়বে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার হয়রানিমুক্তভাবে প্রবাসে শ্রমিক পাঠানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এটা সফল হলে রেমিট্যান্স আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করেন।

রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে আগের মাস মার্চে প্রায় ৩৭৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এ যাবৎকালের মধ্যে কোনো একক মাসে যা সর্বোচ্চ। আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ও গত ডিসেম্বরে প্রবাসীরা ৩২২ কোটি ডলার দেশে পাঠান। এর আগে গত বছরের মার্চে প্রথমবারের মতো তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। ওই মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩৩০ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ২ হাজার ৪৫৪ কোটি ডলার। এ সময়ে বেড়েছে ৪৭৯ কোটি ডলার যা ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। গত অর্থবছর রেমিট্যান্স বেশি এসেছিল ৬৪২ কোটি ডলার যা ছিল ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরের উচ্চ ভিত্তির ওপর এবারের বৃদ্ধি ডলারে বাজারে স্বস্তি দিচ্ছে।

রপ্তানি কমে যাওয়া, আমদানি বৃদ্ধি এবং যুদ্ধ শুরুর পরও ডলারের দর ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় স্থিতিশীল রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক শূন্য ১০ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম৬ অনুযায়ী, ৩০ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার। গত ৯ মার্চ আকুতে ১৩৭ কোটি ডলার পরিশোধের পর যা ৩৪ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। আর আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ হয়েছিল ২৯ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।

দেশের ইতিহাসে রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে ২০২১ সালের আগস্টে। সেখান থেকে কমে আওয়ামী লীগ পতনের সময় বিমিএম৬ অনুযায়ী, ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার ও গ্রস রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে যায়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছিল।