ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের সিংহভাগই শ্রমজীবী : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০ এনসিপির সঙ্গে আলোচনা না করেই জামায়াত সাদিক কায়েমকে মেয়রপ্রার্থী করল?:রাশেদ খান হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু নয়াপল্টনে শ্রমিক সমাবেশ মঞ্চে তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি কারা, সেটি এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য : আইনমন্ত্রী ‘যখন তখন আন্দোলনে নেমে পড়লে তা সফল হয় না’:নজরুল ইসলাম খান গত নির্বাচনে ইসলামের স্বার্থে আমরা সমঝোতা ত্যাগ করেছিলাম: ফয়জুল করীম রেমিট্যান্সের ভিত্তি স্থাপন করেন জিয়াউর রহমান: রাষ্ট্রপতি ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়রপ্রার্থী সাদিক কায়েম

টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

যশোরের মনিরামপুরে নিলামে কেনা মাটি বিক্রির (সমঝোতার) টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনায় জড়িতদের আটক ও বিচারের দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হকের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন এমপি এনামুল। এ সময় জড়িতদের আটক না করলে কঠোর কর্মসূচি ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ার দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে মনিরামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বৃহস্পতিবার চারটি পয়েন্টে নিলামের মাধ্যমে হরিহর নদ খননের মাটি বিক্রি করেন। পরে ওই মাটি বেশি দামে বিক্রি করে অর্জিত অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

এতে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, নায়েবে আমির মহিউল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন, আল মামুনসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে আহতদের উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়।

তবে ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন ও আল মামুনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আহত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন জানান, তিনি ও মহিউল ইসলাম তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে।

তবে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু দাবি করেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা আগে তরকারি বাজারে হামলা চালিয়ে ছাত্রদলের সালিমুন হোসেন ও আল মামুনকে আহত করেন। পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষে তাদের দলের আরও ৮ থেকে ১০ জন আহত হন।

এদিকে সংঘর্ষের জেরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চালকিডাঙ্গা বাজারে ছাত্রদল কর্মী আসাদুজ্জামান সবুজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীদের দুর্বল ভাববেন না। অনেকে জামায়াতকে নির্মূল করতে গিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। সংসদে আমাদের প্রধানমন্ত্রী দলমত নির্বিশেষে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানালেন; মাঠ পর্যায়ে ভিন্ন।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে আমাদের নিরীহ কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। আমরা দুর্বল নয়; আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের আটক ও শান্তির দাবি জানাচ্ছি। তা নাহলে জনগণকে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দেবে জামায়াত।

মনিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বদরুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে না খেলতে পারাটা ‘দুর্ভাগ্য’: শামীম

টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০

আপডেট সময় ০৪:৫২:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

যশোরের মনিরামপুরে নিলামে কেনা মাটি বিক্রির (সমঝোতার) টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১ মে) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনায় জড়িতদের আটক ও বিচারের দাবিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হকের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন এমপি এনামুল। এ সময় জড়িতদের আটক না করলে কঠোর কর্মসূচি ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ার দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে মনিরামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বৃহস্পতিবার চারটি পয়েন্টে নিলামের মাধ্যমে হরিহর নদ খননের মাটি বিক্রি করেন। পরে ওই মাটি বেশি দামে বিক্রি করে অর্জিত অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

এতে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, নায়েবে আমির মহিউল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন, আল মামুনসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে আহতদের উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়।

তবে ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন ও আল মামুনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আহত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন জানান, তিনি ও মহিউল ইসলাম তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে।

তবে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু দাবি করেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা আগে তরকারি বাজারে হামলা চালিয়ে ছাত্রদলের সালিমুন হোসেন ও আল মামুনকে আহত করেন। পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষে তাদের দলের আরও ৮ থেকে ১০ জন আহত হন।

এদিকে সংঘর্ষের জেরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চালকিডাঙ্গা বাজারে ছাত্রদল কর্মী আসাদুজ্জামান সবুজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীদের দুর্বল ভাববেন না। অনেকে জামায়াতকে নির্মূল করতে গিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। সংসদে আমাদের প্রধানমন্ত্রী দলমত নির্বিশেষে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানালেন; মাঠ পর্যায়ে ভিন্ন।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে আমাদের নিরীহ কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। আমরা দুর্বল নয়; আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের আটক ও শান্তির দাবি জানাচ্ছি। তা নাহলে জনগণকে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দেবে জামায়াত।

মনিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বদরুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।