ঢাকা ০৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘একটি দল দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে’ বিএনপি সরকার কোনো সময় হারিয়ে যায় না: তথ্যমন্ত্রী অতীতের সরকার ভোট চুরি করত, এই সরকার ফল চুরি করেছে: হাসনাত আবদুল্লাহ সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে : ডিএনসিসি প্রশাসক দেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত নাম থেকে বাবার পদবি মুছে ফেললেন নেতানিয়াহুর ছেলে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের ক্ষমা চাইতে হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ঢামেক হাসপাতালকে মানবিক নেতৃত্বের নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ার আহ্বান জুবাইদা রহমানের বাবার ‘নিষ্পাপ রক্তের’ প্রতিশোধ নেওয়া হবে: মোজতবা খামেনি

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে:সংসদে নাহিদ ইসলাম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণ এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব‌্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। সেই বক্তব্য এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে আমরা প্রত্যাখ্যান জানিয়েছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম যে, এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির আর কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।’

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, তাঁর কিছু কুকীর্তির কথা হাউজের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে। এক নম্বর হচ্ছে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই নম্বর, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনচিট দেওয়া এবং তিন নম্বর ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলোকে বাতিল করে দেওয়া। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনও মেনে নিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ‘ক্যাঙ্গারু আদালতের’ নির্দেশে এই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশন অন মাইনরিটি টর্চার ইন ২০০১ হয়েছিল। এই প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর কয়েক হাজার হিন্দুকে হত্যার জন্য বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে দায়ী করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ এই রিপোর্ট দেশে-বিদেশে ফেরি করে নিজেদের ক্ষমতায় থাকাকে পাকাপোক্ত করেছিল। এই রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংকের দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছেন। জুলাই গণহত্যার সময় তাঁর ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা সবকিছু আমরা জানি। আমাদের দুর্ভাগ্য, এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুদকের কমিশনার থাকাকালীন ফরমায়েশি রায় দিয়েছেন। তিনি ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের কারিগর এবং জুলাই গণহত্যার দোসর। এই রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্ররা রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপি তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এখন তো নির্বাচিত সরকার, এখন কেন তাঁকে পরিবর্তন করা হচ্ছে না?’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টেইলর সুইফটের বিয়ের নিরাপত্তায় ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার ব্যয়

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে:সংসদে নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় ০৪:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণ এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব‌্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। সেই বক্তব্য এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে আমরা প্রত্যাখ্যান জানিয়েছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম যে, এই রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন। তাঁকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। এই রাষ্ট্রপতির আর কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।’

তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, তাঁর কিছু কুকীর্তির কথা হাউজের সামনে তুলে ধরছি। তিনি দুদকের কমিশনার ছিলেন। তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল তিনটি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে। এক নম্বর হচ্ছে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের শাস্তি নিশ্চিত করা। দুই নম্বর, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনচিট দেওয়া এবং তিন নম্বর ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলাগুলোকে বাতিল করে দেওয়া। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনও মেনে নিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার ‘ক্যাঙ্গারু আদালতের’ নির্দেশে এই সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিশন অন মাইনরিটি টর্চার ইন ২০০১ হয়েছিল। এই প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর কয়েক হাজার হিন্দুকে হত্যার জন্য বিএনপির ২৬ হাজার নেতাকর্মীকে দায়ী করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ এই রিপোর্ট দেশে-বিদেশে ফেরি করে নিজেদের ক্ষমতায় থাকাকে পাকাপোক্ত করেছিল। এই রাষ্ট্রপতি ইসলামী ব্যাংকের দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছেন। জুলাই গণহত্যার সময় তাঁর ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা সবকিছু আমরা জানি। আমাদের দুর্ভাগ্য, এই দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুদকের কমিশনার থাকাকালীন ফরমায়েশি রায় দিয়েছেন। তিনি ইসলামী ব্যাংক লুণ্ঠনের কারিগর এবং জুলাই গণহত্যার দোসর। এই রাষ্ট্রপতিকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।

তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্ররা রাষ্ট্রপতির অপসারণ চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপি তখন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার দোহাই দিয়ে তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এখন তো নির্বাচিত সরকার, এখন কেন তাঁকে পরিবর্তন করা হচ্ছে না?’