ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংসদে আমাদের প্রতিনিধিদের কণ্ঠ এবং রাজপথে আন্দোলন চলমান থাকবে: আসিফ মাহমুদ ৫-৮ আগস্ট অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন রাষ্ট্রপতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করব, কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়: সংসদে গয়েশ্বর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার পর হরমুজে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে: মোজতবা সংসদে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করলেন জামায়াতের তাহের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নতুন সামরিক পদক্ষেপ ক্ষতির কারণ হবে: পুতিন বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে থেকে দেশের উন্নয়নে কাজ করেছে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী পেট্রোলের লাইন আর নাই, লোডশেডিংও কমে গেছে: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী সংবিধান না শরিয়াহ আইন, জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তার করতে হবে:সংসদে নাহিদ ইসলাম

সংবিধান না শরিয়াহ আইন, জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জনমনে সৃষ্ট অস্পষ্টতা নিরসনে দলটির কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, তারা কি দেশের প্রচলিত সাংবিধানিক আইন মেনে শাসন ক্ষমতায় যেতে চায়, নাকি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা নিয়ে রাজনীতি করছে?

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় নেতা স্বর্গীয় সুনীল গুপ্তের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদে গতকালের আলোচনার সূত্র ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গতকালও পার্লামেন্টে আমাদের বিরোধী দল, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা শরিয়াহ কায়েমের কথা বলেছেন। অথচ গত ১৪ জানুয়ারি জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তাদের আশ্বস্ত করেছেন তারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন না।

মন্ত্রী গণমাধ্যমের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমি শুধু গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে চাই- কোনটি তাদের প্রকৃত অবস্থান? তারা কি প্রচলিত সাংবিধানিক আইন মেনে চলার চেষ্টা করছেন নাকি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদীয় তৎপরতা চালাচ্ছেন? এ বিষয়ে তাদের স্পষ্ট অবস্থান জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

জামায়াতের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ডের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর জন্মলগ্ন থেকেই খেয়াল করেছি যে তারা ধীরে ধীরে অনেক পরিবর্তন এনেছেন। জন্মলগ্নে মওদূদী সাহেব যেটা বলেছিলেন ইসলামি সংবিধান তৈরি করতে হবে। যে কারণে পাকিস্তান জন্মের সময়ও তারা বিরোধিতা করেছিলেন। পরবর্তীকালে আবার তারা পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামো মেনে নিয়েছে।

মন্ত্রী জামায়াতের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপকে ইতিবাচক বললেও বর্তমান বক্তব্যে বিভ্রান্তি দেখছেন উল্লেখ করে বলেন, এবারের নির্বাচনে দুইজন অমুসলিম সম্প্রদায়কে দলটি মনোনয়ন দিয়েছেন, এটি একটি শুভ লক্ষণ।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যে সমাজ বৈচিত্র্যকে মেনে নিয়ে সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করে, সেই রাষ্ট্র অনেক বেশি সভ্য ও উন্নত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মধ্যে এই বহুত্ববাদী চেতনাকে উপস্থাপন করতে পেরেছিলেন বলেই সুনীল গুপ্তের মতো বিজ্ঞ নেতারা এই দলের প্রতিষ্ঠাতা হতে পেরেছিলেন।

ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ধর্মের মূল নির্যাস ও মূল্যবোধ একই। ধর্মচর্চা ও আচার-আচরণ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সেই মূল্যবোধের সারবস্তুকে ঐক্যবদ্ধভাবে তুলে ধরা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।

সুনীল গুপ্ত স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বাবু বিজন কান্তি সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নজমুল হক নান্নু প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সংসদে আমাদের প্রতিনিধিদের কণ্ঠ এবং রাজপথে আন্দোলন চলমান থাকবে: আসিফ মাহমুদ

সংবিধান না শরিয়াহ আইন, জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান

আপডেট সময় ০৪:৫০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জনমনে সৃষ্ট অস্পষ্টতা নিরসনে দলটির কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, তারা কি দেশের প্রচলিত সাংবিধানিক আইন মেনে শাসন ক্ষমতায় যেতে চায়, নাকি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার প্রতিজ্ঞা নিয়ে রাজনীতি করছে?

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় নেতা স্বর্গীয় সুনীল গুপ্তের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদে গতকালের আলোচনার সূত্র ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গতকালও পার্লামেন্টে আমাদের বিরোধী দল, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা শরিয়াহ কায়েমের কথা বলেছেন। অথচ গত ১৪ জানুয়ারি জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তাদের আশ্বস্ত করেছেন তারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন না।

মন্ত্রী গণমাধ্যমের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমি শুধু গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে চাই- কোনটি তাদের প্রকৃত অবস্থান? তারা কি প্রচলিত সাংবিধানিক আইন মেনে চলার চেষ্টা করছেন নাকি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংসদীয় তৎপরতা চালাচ্ছেন? এ বিষয়ে তাদের স্পষ্ট অবস্থান জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

জামায়াতের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ডের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামীর জন্মলগ্ন থেকেই খেয়াল করেছি যে তারা ধীরে ধীরে অনেক পরিবর্তন এনেছেন। জন্মলগ্নে মওদূদী সাহেব যেটা বলেছিলেন ইসলামি সংবিধান তৈরি করতে হবে। যে কারণে পাকিস্তান জন্মের সময়ও তারা বিরোধিতা করেছিলেন। পরবর্তীকালে আবার তারা পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামো মেনে নিয়েছে।

মন্ত্রী জামায়াতের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপকে ইতিবাচক বললেও বর্তমান বক্তব্যে বিভ্রান্তি দেখছেন উল্লেখ করে বলেন, এবারের নির্বাচনে দুইজন অমুসলিম সম্প্রদায়কে দলটি মনোনয়ন দিয়েছেন, এটি একটি শুভ লক্ষণ।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যে সমাজ বৈচিত্র্যকে মেনে নিয়ে সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করে, সেই রাষ্ট্র অনেক বেশি সভ্য ও উন্নত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মধ্যে এই বহুত্ববাদী চেতনাকে উপস্থাপন করতে পেরেছিলেন বলেই সুনীল গুপ্তের মতো বিজ্ঞ নেতারা এই দলের প্রতিষ্ঠাতা হতে পেরেছিলেন।

ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ধর্মের মূল নির্যাস ও মূল্যবোধ একই। ধর্মচর্চা ও আচার-আচরণ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সেই মূল্যবোধের সারবস্তুকে ঐক্যবদ্ধভাবে তুলে ধরা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।

সুনীল গুপ্ত স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বাবু বিজন কান্তি সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নজমুল হক নান্নু প্রমুখ।