ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমরা ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি : মির্জা ফখরুল বেনজিরকে ফেরাতে ল’ফার্ম নিয়োগ করেছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের প্রতিবাদে যাত্রাবাড়ীতে বিএনপির বিক্ষোভ ডিএনসিসি প্রশাসক ও এমপির ওপর হামলার অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী যুবক ও যুব নারীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চান: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ঢাকার চারপাশে নৌপথ সচল করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বেনজীরকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ঢাকায় ৭ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে ফায়ার সার্ভিস নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে: ডিজি সরকারের আশ্বাসে প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহার দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীরের জামিন: যা জানা গেল

নেত্রকোনায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কর্তন, স্বামী আটক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় নার্স স্ত্রীকে নির্মমভাবে জখম করার অভিযোগে স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। হাত-পায়ের রগ কেটে গুরুতর আহত করা ওই নার্সকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মদন উপজেলার ভাদেরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক স্বামীর নাম আরিফুল ইসলাম। আহত স্ত্রী মারুফা আক্তার (২৭) মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত একজন নার্স।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আরিফুল ইসলামের সঙ্গে নেত্রকোনার মদনপুর এলাকার মারুফা আক্তারের প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাত বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আরিফুল ইসলাম ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মেডিকেল সহকারী হিসেবে কাজ করেন।

প্রায় পাঁচ মাস আগে মারুফা আক্তার নার্স হিসেবে চাকরি পান। প্রশিক্ষণ শেষে দুই মাস আগে তিনি মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন এবং উপজেলায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। স্বামী আরিফুল ইসলাম মাঝেমধ্যে ছুটিতে এসে সেখানে অবস্থান করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রীর চাকরি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্বামী স্ত্রীর চাকরি করা পছন্দ করতেন না এবং চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। এর জের ধরে শুক্রবার সকালে স্বামী আরিফুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কেটে দেন।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহত মারুফাকে প্রথমে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক সহকর্মী জানান, মারুফা নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছেন এবং এখনও বেতন পাননি। পারিবারিক বিরোধের কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলেও জানা গেছে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন স্ত্রীকে পড়াশোনা করিয়েছেন এবং সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন। তবে তার অভিযোগ, চাকরি পাওয়ার পর থেকে স্ত্রীর আচরণ বদলে যায় এবং তাদের মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পরিস্থিতির চাপে তিনি এ ধরনের কাজ করেছেন বলে দাবি করেন।

মদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নূরুল হুদা খান জানান, আহত নার্সকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, ঘটনার পরপরই আরিফুল ইসলামকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি : মির্জা ফখরুল

নেত্রকোনায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কর্তন, স্বামী আটক

আপডেট সময় ০৫:৩০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় নার্স স্ত্রীকে নির্মমভাবে জখম করার অভিযোগে স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। হাত-পায়ের রগ কেটে গুরুতর আহত করা ওই নার্সকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মদন উপজেলার ভাদেরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক স্বামীর নাম আরিফুল ইসলাম। আহত স্ত্রী মারুফা আক্তার (২৭) মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত একজন নার্স।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার আরিফুল ইসলামের সঙ্গে নেত্রকোনার মদনপুর এলাকার মারুফা আক্তারের প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাত বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আরিফুল ইসলাম ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মেডিকেল সহকারী হিসেবে কাজ করেন।

প্রায় পাঁচ মাস আগে মারুফা আক্তার নার্স হিসেবে চাকরি পান। প্রশিক্ষণ শেষে দুই মাস আগে তিনি মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন এবং উপজেলায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। স্বামী আরিফুল ইসলাম মাঝেমধ্যে ছুটিতে এসে সেখানে অবস্থান করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, স্ত্রীর চাকরি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্বামী স্ত্রীর চাকরি করা পছন্দ করতেন না এবং চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন। এর জের ধরে শুক্রবার সকালে স্বামী আরিফুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীর হাত-পায়ের রগ কেটে দেন।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহত মারুফাকে প্রথমে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক সহকর্মী জানান, মারুফা নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছেন এবং এখনও বেতন পাননি। পারিবারিক বিরোধের কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন বলেও জানা গেছে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন স্ত্রীকে পড়াশোনা করিয়েছেন এবং সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন। তবে তার অভিযোগ, চাকরি পাওয়ার পর থেকে স্ত্রীর আচরণ বদলে যায় এবং তাদের মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পরিস্থিতির চাপে তিনি এ ধরনের কাজ করেছেন বলে দাবি করেন।

মদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার নূরুল হুদা খান জানান, আহত নার্সকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, ঘটনার পরপরই আরিফুল ইসলামকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।