ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবাসিক হোটেলে নিয়ে এক বিধবা নারীকে (৪৩) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিষয়টি জানাজানি হয়। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী।

গত ২ এপ্রিল ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই নারী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে চারদিন চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাড়িতে রয়েছেন। ভুক্তভোগী ফরিদপুর পৌরসদরের বাসিন্দা।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সুজন শেখ (৩৫) শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার মৃত হালিম শেখের ছেলে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তার সখ্যতা রয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে দেখা যায়, একটি জরাজীর্ণ ছোট্ট টিনের ছাপরাঘরে তিনি বসবাস করেন। তার ঘরে নেই তেমন আসবাবপত্র। টিনের চালার ওপরে টানানো রয়েছে প্লাস্টিকের বস্তাসহ পলিথিন। বৃষ্টি নামলেই পলিথিন চুইয়ে পানি পড়ে। এ ঘরটিতেই একমাত্র ছেলেকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

ভুক্তভোগী নারী জানান, গত ১০ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর থেকে অন্যের বাসা-বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে তার। তবে আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। সম্প্রতি তাকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবাভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রতিবেশী সুজন শেখ। কার্ড করে দিতে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার কথা বলে ২ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে তিনি সুজনের সঙ্গে রিকশাযোগে রওয়ানা হন। এরপর শহরের গোয়ালচামটে পুরাতন বাসটার্মিনালের ভাঙা রাস্তার মোড়ে নিয়ে নামানো হয়। সেখান থেকে নতুন বাসটার্মিনাল সড়কের দিকে কিছু দূর পায়ে হেঁটে একটি আবাসিক হোটেলের সামনে নেওয়া হয়। এ সময় ওই নারীকে জানানো হয়, এখানেই অফিস। এরপর আবাসিক হোটেলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

পরে ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসা নিয়ে ৬ এপ্রিল বাড়ি ফিরে আসেন।

ভুক্তভোগী নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযুক্তের বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমিতো অফিস চিনি না। সুজনের কথা অনুযায়ী সেখানে গেছিলাম। কারণ আমার স্বামী নেই। সংসারে অভাব-অনটন থাকায় সরকারের সুবিধা পাওয়ার জন্য বিশ্বাস করে সুজনের সঙ্গে গিয়েছি। কিন্তু আমার জীবনটা শেষ কইরা দিল। আমি ওর বিচার চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুজন শেখ বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে আমার নামে মিথ্যা বলা হচ্ছে। ওই মহিলা কার্ড করার জন্য মাঝে মাঝেই আমার বাড়িতে আসতেন। ওইদিনও বাড়িতে আসেন। তখন আমি উত্তেজিত হয়ে জোরে একটি লাথি মেরেছিলাম। এই কারণে আমার নামে মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছে।’

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এক বিধবা নারীর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:৪৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবা ভাতা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবাসিক হোটেলে নিয়ে এক বিধবা নারীকে (৪৩) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিষয়টি জানাজানি হয়। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী।

গত ২ এপ্রিল ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই নারী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে চারদিন চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে বাড়িতে রয়েছেন। ভুক্তভোগী ফরিদপুর পৌরসদরের বাসিন্দা।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সুজন শেখ (৩৫) শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার মৃত হালিম শেখের ছেলে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তার সখ্যতা রয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে দেখা যায়, একটি জরাজীর্ণ ছোট্ট টিনের ছাপরাঘরে তিনি বসবাস করেন। তার ঘরে নেই তেমন আসবাবপত্র। টিনের চালার ওপরে টানানো রয়েছে প্লাস্টিকের বস্তাসহ পলিথিন। বৃষ্টি নামলেই পলিথিন চুইয়ে পানি পড়ে। এ ঘরটিতেই একমাত্র ছেলেকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

ভুক্তভোগী নারী জানান, গত ১০ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। এরপর থেকে অন্যের বাসা-বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে তার। তবে আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। সম্প্রতি তাকে ফ্যামিলি কার্ড ও বিধবাভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রতিবেশী সুজন শেখ। কার্ড করে দিতে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার কথা বলে ২ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে তিনি সুজনের সঙ্গে রিকশাযোগে রওয়ানা হন। এরপর শহরের গোয়ালচামটে পুরাতন বাসটার্মিনালের ভাঙা রাস্তার মোড়ে নিয়ে নামানো হয়। সেখান থেকে নতুন বাসটার্মিনাল সড়কের দিকে কিছু দূর পায়ে হেঁটে একটি আবাসিক হোটেলের সামনে নেওয়া হয়। এ সময় ওই নারীকে জানানো হয়, এখানেই অফিস। এরপর আবাসিক হোটেলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

পরে ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসা নিয়ে ৬ এপ্রিল বাড়ি ফিরে আসেন।

ভুক্তভোগী নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযুক্তের বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমিতো অফিস চিনি না। সুজনের কথা অনুযায়ী সেখানে গেছিলাম। কারণ আমার স্বামী নেই। সংসারে অভাব-অনটন থাকায় সরকারের সুবিধা পাওয়ার জন্য বিশ্বাস করে সুজনের সঙ্গে গিয়েছি। কিন্তু আমার জীবনটা শেষ কইরা দিল। আমি ওর বিচার চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুজন শেখ বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করে আমার নামে মিথ্যা বলা হচ্ছে। ওই মহিলা কার্ড করার জন্য মাঝে মাঝেই আমার বাড়িতে আসতেন। ওইদিনও বাড়িতে আসেন। তখন আমি উত্তেজিত হয়ে জোরে একটি লাথি মেরেছিলাম। এই কারণে আমার নামে মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছে।’

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এক বিধবা নারীর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।