ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৯ শতাংশে নেমে যেতে পারে, জরুরি সংস্কার প্রয়োজন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। টানা তিন বছর ধরে প্রবৃদ্ধির গতি ধীর। দারিদ্র্য বাড়ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে। ব্যাংকিং খাতের সংকট ও রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা রয়েছে। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এই পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। এসব সম্মিলিত দুর্বলতার কারণে চলতি অর্থবছর মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপ) প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ নামে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এই বাস্তবতা এবং প্রবৃদ্ধির পূর্বভাস তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি আজ বুধবার সংস্থার ঢাকা অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ঢাকা কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা, বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম, বেসাকররি খাত বিশেষজ্ঞ ম্যাগুয়ে দিয়া প্রমুখ।

প্রতিবেদেন বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি ভর্তুকি বৃদ্ধির কারণে রাজস্ব ব্যয়ের ওপর চাপ এবং আমদানির উচ্চ ব্যয়, রপ্তানি হ্রাস ও রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার ফলে চলতি হিসাবের ভারসাম্য দুর্বল হওয়া। বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কম থাকা, কঠোর রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাতের কারণে দীর্ঘস্থায়ী ধাক্কা সামলানোর এবং সাধারণ মানুষের (বিশেষ করে অতি দরিদ্রদের) ওপর এর প্রভাব কমানোর সক্ষমতা বাংলাদেশের সীমিত।

অবশ্য, বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত জাতীয় নির্বাচনের পর টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কাঠামোগত সংস্কারে দ্রুত অগ্রগতি একটি শক্তিশালী পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে। প্রতিবেদনে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে, রাজস্ব আয় বাড়াতে, আর্থিক খাত শক্তিশালী করতে এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ উন্নত করতে জরুরি নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে থাকতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দোহায় পৌঁছাল ইরানি প্রতিনিধিদল: নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা

প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৯ শতাংশে নেমে যেতে পারে, জরুরি সংস্কার প্রয়োজন

আপডেট সময় ০৭:৩৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। টানা তিন বছর ধরে প্রবৃদ্ধির গতি ধীর। দারিদ্র্য বাড়ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে। ব্যাংকিং খাতের সংকট ও রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা রয়েছে। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এই পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। এসব সম্মিলিত দুর্বলতার কারণে চলতি অর্থবছর মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপ) প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ নামে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এই বাস্তবতা এবং প্রবৃদ্ধির পূর্বভাস তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি আজ বুধবার সংস্থার ঢাকা অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ঢাকা কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা, বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম, বেসাকররি খাত বিশেষজ্ঞ ম্যাগুয়ে দিয়া প্রমুখ।

প্রতিবেদেন বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি ভর্তুকি বৃদ্ধির কারণে রাজস্ব ব্যয়ের ওপর চাপ এবং আমদানির উচ্চ ব্যয়, রপ্তানি হ্রাস ও রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার ফলে চলতি হিসাবের ভারসাম্য দুর্বল হওয়া। বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কম থাকা, কঠোর রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাতের কারণে দীর্ঘস্থায়ী ধাক্কা সামলানোর এবং সাধারণ মানুষের (বিশেষ করে অতি দরিদ্রদের) ওপর এর প্রভাব কমানোর সক্ষমতা বাংলাদেশের সীমিত।

অবশ্য, বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত জাতীয় নির্বাচনের পর টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কাঠামোগত সংস্কারে দ্রুত অগ্রগতি একটি শক্তিশালী পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে। প্রতিবেদনে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে, রাজস্ব আয় বাড়াতে, আর্থিক খাত শক্তিশালী করতে এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ উন্নত করতে জরুরি নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে থাকতে পারে।