ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে ‌‘বাস্তবায়নযোগ্য’ বললেন ট্রাম্প

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্যে টানা পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তির বার্তা মিলেছে। ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে উভয় পক্ষ। এই সময়ের মধ্যে অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

এই কূটনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন শেহবাজ শরিফ। তার মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ সুগম হয়েছে। পরবর্তী ধাপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ইসলামাবাদ-এ।

ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফায় রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ভবিষ্যতে ইরানে কোনো আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রাখা, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রস্তাব বাতিল, যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। লেবাননের হিজবুল্লাহসহ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের কথাও বলা হয়েছে।

সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। বিশ্বে তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবকাঠামোতে হামলা ও চলমান সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে ‘বাস্তবায়নযোগ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবটি ভবিষ্যতের একটি বড় শান্তি চুক্তির ভিত্তি হতে পারে এবং দুই দেশের বহু জটিল ইস্যু নীতিগতভাবে সমাধানের পথে রয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউস এখনো এই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সেনা সরানোর বিষয়গুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, এই চুক্তি মানেই যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়। চুক্তির যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন হলে তারা পুনরায় সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে তেহরানের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করা হলে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখবে।’

আরাগচি আরও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ‘সাধারণ কাঠামো’ গ্রহণ করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে ‌‘বাস্তবায়নযোগ্য’ বললেন ট্রাম্প

আপডেট সময় ১২:৩৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্যে টানা পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তির বার্তা মিলেছে। ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে উভয় পক্ষ। এই সময়ের মধ্যে অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

এই কূটনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন শেহবাজ শরিফ। তার মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনার পথ সুগম হয়েছে। পরবর্তী ধাপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ইসলামাবাদ-এ।

ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফায় রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ভবিষ্যতে ইরানে কোনো আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রাখা, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রস্তাব বাতিল, যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। লেবাননের হিজবুল্লাহসহ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের কথাও বলা হয়েছে।

সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। বিশ্বে তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবকাঠামোতে হামলা ও চলমান সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে ‘বাস্তবায়নযোগ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবটি ভবিষ্যতের একটি বড় শান্তি চুক্তির ভিত্তি হতে পারে এবং দুই দেশের বহু জটিল ইস্যু নীতিগতভাবে সমাধানের পথে রয়েছে।

তবে হোয়াইট হাউস এখনো এই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সেনা সরানোর বিষয়গুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, এই চুক্তি মানেই যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়। চুক্তির যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন হলে তারা পুনরায় সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে তেহরানের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করা হলে আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম বন্ধ রাখবে।’

আরাগচি আরও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরান প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ‘সাধারণ কাঠামো’ গ্রহণ করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।