ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মারধরে প্রাণ গেল বাবার, আটক ৪

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মারধরে মো. সেলিম (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গৌরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত মো. সেলিম ওই গ্রামের মৃত মো. শাহজানের ছেলে এবং স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেলিমের ছেলে অন্তরের সঙ্গে এলাকার কয়েকজন কিশোর গ্যাং সজল, শাওন, ফাহাদ ও রিয়াজের মধ্যে আগে সিনিয়র-জুনিয়র বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। শনিবার দুপুরে এ নিয়ে ফোনে অন্তর ও সজলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সজল তার সহযোগীদের নিয়ে সেলিমের বাড়ির সামনে আসে এবং অন্তরের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্তরের বড় ভাই শাকিল এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শোরগোল শুনে নিজের দোকান থেকে বের হয়ে ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে যান কৃষক দলের সভাপতি মো. সেলিম। অভিযোগ রয়েছে, তখন অভিযুক্তরা তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে এবং পিটিয়ে হত্যা করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ছেলে শাকিল অভিযোগ করেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং তার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহতের ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ভাই ছেলেদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিল। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।

সদর উপজেলা ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ বলেন, নিহত সেলিম একজন সাধারণ কৃষক ও চা দোকানি ছিলেন এবং দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছি। জেলা কৃষক দলের সভাপতি ফজলে এলাহী ভিপি পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক জিএস হারুন এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন এবং নিহতের পরিবারকে সান্তনা দিয়েছেন।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা মো. সেলিম নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পুলিশ রাতে চারজনকে আটক করেছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

২৫০ জেনারেল হাসপাতালের ইমারজেন্সি ডাক্তার মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, মো. সেলিমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। মনে হচ্ছে মারামারিতেই ঘটনা ঘটেছে। লাশ মর্গে রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মারধরে প্রাণ গেল বাবার, আটক ৪

আপডেট সময় ১০:০২:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মারধরে মো. সেলিম (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গৌরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত মো. সেলিম ওই গ্রামের মৃত মো. শাহজানের ছেলে এবং স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেলিমের ছেলে অন্তরের সঙ্গে এলাকার কয়েকজন কিশোর গ্যাং সজল, শাওন, ফাহাদ ও রিয়াজের মধ্যে আগে সিনিয়র-জুনিয়র বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল। শনিবার দুপুরে এ নিয়ে ফোনে অন্তর ও সজলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সজল তার সহযোগীদের নিয়ে সেলিমের বাড়ির সামনে আসে এবং অন্তরের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় অন্তরের বড় ভাই শাকিল এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শোরগোল শুনে নিজের দোকান থেকে বের হয়ে ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে যান কৃষক দলের সভাপতি মো. সেলিম। অভিযোগ রয়েছে, তখন অভিযুক্তরা তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে এবং পিটিয়ে হত্যা করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ছেলে শাকিল অভিযোগ করেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং তার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহতের ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ভাই ছেলেদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিল। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।

সদর উপজেলা ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ বলেন, নিহত সেলিম একজন সাধারণ কৃষক ও চা দোকানি ছিলেন এবং দলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছি। জেলা কৃষক দলের সভাপতি ফজলে এলাহী ভিপি পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক জিএস হারুন এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন এবং নিহতের পরিবারকে সান্তনা দিয়েছেন।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা মো. সেলিম নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পুলিশ রাতে চারজনকে আটক করেছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

২৫০ জেনারেল হাসপাতালের ইমারজেন্সি ডাক্তার মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, মো. সেলিমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। মনে হচ্ছে মারামারিতেই ঘটনা ঘটেছে। লাশ মর্গে রয়েছে।