ঢাকা ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মস্তিষ্কের টিউমারের যে ৭টি লক্ষণ ভুলেও এড়িয়ে যাবেন না

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা সাধারণ ভুলে যাওয়া—এসব সমস্যাকে আমরা দৈনন্দিন জীবনের অংশ মনে করে প্রায়ই অবহেলা করি। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এই সাধারণ লক্ষণগুলোই হতে পারে মস্তিষ্কের টিউমারের প্রাথমিক সংকেত। সঠিক সময়ে শনাক্ত না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে।

ওল্ফসন ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন হেলথ-এর গবেষক লরা স্ট্যান্ডেন জানান, রোগী এবং সাধারণ চিকিৎসকরা অনেক সময় প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়ে যায়।

সতর্ক থাকতে হবে যে ৭টি লক্ষণে:

১. কথা বলতে জড়তা: কথা বলার সময় সঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া, বাক্য গঠনে সমস্যা হওয়া বা হঠাৎ কথার খেই হারিয়ে ফেলা।

২. মানসিক কুয়াশা: কোনো কাজে মনোযোগ দিতে চরম অসুবিধা হওয়া বা খুব সাধারণ বিষয় দ্রুত ভুলে যাওয়া। এমনকি অনেকে কেন চিকিৎসকের কাছে এসেছেন, সেটিও মনে করতে পারেন না।

৩. শরীরে অস্বাভাবিক অনুভূতি: মুখমণ্ডল, জিহ্বা বা শরীরের কোনো নির্দিষ্ট অংশে ঝিঁঝিঁ ধরা বা অবশ ভাব হওয়া।

৪. দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন: হঠাৎ একটি জিনিসকে দুটি দেখা বা দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা। অনেকে একে চোখের সমস্যা মনে করে চশমা বদলান, যা আসলে মস্তিষ্কের সমস্যার সংকেত হতে পারে।

৫. হাতের লেখায় পরিবর্তন: চোখের সাথে হাতের সমন্বয়ে সমস্যা হওয়া। হঠাৎ করে হাতের লেখা অস্পষ্ট বা আঁকাবাঁকা হয়ে যাওয়া একটি বড় সতর্কবার্তা।

৬. আচরণ ও মেজাজের পরিবর্তন: অকারণে খিটখিটে মেজাজ, কাজকর্মে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা বা ব্যক্তিত্বে আকস্মিক বদল। একে অনেকেই মানসিক চাপ বা বিষণ্ণতা ভেবে ভুল করেন।

৭. দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা: সাধারণ মাথাব্যথা ওষুধে সেরে গেলেও, টিউমারজনিত ব্যথা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে এবং দিন দিন তীব্রতা বাড়তে থাকে।

গবেষকদের পরামর্শ:

লরা স্ট্যান্ডেন জোর দিয়ে বলেন, এই লক্ষণগুলো থাকা মানেই যে কারো টিউমার হয়েছে তা নয়। তবে যদি এই সমস্যাগুলো টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে এবং সাধারণ সময়ের চেয়ে অস্বাভাবিক মনে হয়, তবে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শুরুতে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সফলতা অনেক বেশি থাকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

মস্তিষ্কের টিউমারের যে ৭টি লক্ষণ ভুলেও এড়িয়ে যাবেন না

আপডেট সময় ০১:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা সাধারণ ভুলে যাওয়া—এসব সমস্যাকে আমরা দৈনন্দিন জীবনের অংশ মনে করে প্রায়ই অবহেলা করি। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এই সাধারণ লক্ষণগুলোই হতে পারে মস্তিষ্কের টিউমারের প্রাথমিক সংকেত। সঠিক সময়ে শনাক্ত না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে।

ওল্ফসন ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন হেলথ-এর গবেষক লরা স্ট্যান্ডেন জানান, রোগী এবং সাধারণ চিকিৎসকরা অনেক সময় প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়ে যায়।

সতর্ক থাকতে হবে যে ৭টি লক্ষণে:

১. কথা বলতে জড়তা: কথা বলার সময় সঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া, বাক্য গঠনে সমস্যা হওয়া বা হঠাৎ কথার খেই হারিয়ে ফেলা।

২. মানসিক কুয়াশা: কোনো কাজে মনোযোগ দিতে চরম অসুবিধা হওয়া বা খুব সাধারণ বিষয় দ্রুত ভুলে যাওয়া। এমনকি অনেকে কেন চিকিৎসকের কাছে এসেছেন, সেটিও মনে করতে পারেন না।

৩. শরীরে অস্বাভাবিক অনুভূতি: মুখমণ্ডল, জিহ্বা বা শরীরের কোনো নির্দিষ্ট অংশে ঝিঁঝিঁ ধরা বা অবশ ভাব হওয়া।

৪. দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন: হঠাৎ একটি জিনিসকে দুটি দেখা বা দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা। অনেকে একে চোখের সমস্যা মনে করে চশমা বদলান, যা আসলে মস্তিষ্কের সমস্যার সংকেত হতে পারে।

৫. হাতের লেখায় পরিবর্তন: চোখের সাথে হাতের সমন্বয়ে সমস্যা হওয়া। হঠাৎ করে হাতের লেখা অস্পষ্ট বা আঁকাবাঁকা হয়ে যাওয়া একটি বড় সতর্কবার্তা।

৬. আচরণ ও মেজাজের পরিবর্তন: অকারণে খিটখিটে মেজাজ, কাজকর্মে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা বা ব্যক্তিত্বে আকস্মিক বদল। একে অনেকেই মানসিক চাপ বা বিষণ্ণতা ভেবে ভুল করেন।

৭. দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা: সাধারণ মাথাব্যথা ওষুধে সেরে গেলেও, টিউমারজনিত ব্যথা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে এবং দিন দিন তীব্রতা বাড়তে থাকে।

গবেষকদের পরামর্শ:

লরা স্ট্যান্ডেন জোর দিয়ে বলেন, এই লক্ষণগুলো থাকা মানেই যে কারো টিউমার হয়েছে তা নয়। তবে যদি এই সমস্যাগুলো টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে এবং সাধারণ সময়ের চেয়ে অস্বাভাবিক মনে হয়, তবে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শুরুতে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সফলতা অনেক বেশি থাকে।