আকাশ বিনোদন ডেস্ক :
টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুটিংয়ের ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। রাহুল ও অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র সমুদ্রের দিকে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিলেন দৃশ্যের মাঝেই। অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার পর প্রথমে পড়ে যান শ্বেতা। তখন তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন রাহুল। বড় ঢেউ আসায় নাকি পড়ে যান অভিনেতাও।
রোববার সন্ধ্যায় মাত্র ৪৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান রাহুল। পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা সীমান্তে তালসারি সমুদ্রসৈকতে ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান তিনি। এরপরেই সোমবার দুপুরে সেই ধারাবাহিকের শুটিংয়ের ক্যামেরা ফুটেজ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার যে ক্যামেরায় রাহুলদের ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল, সেটি তদন্তের জন্য নিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাহুলের মৃত্যুর আগের কয়েকটি মুহূর্ত ধরা আছে সেই ক্যামেরাতেই— এমনই ধারণা অনেকের। ওই ধারাবাহিকের শুটিং করতেই দিঘা গিয়েছিলেন রাহুলসহ অন্য কলাকুশলীরা।
রোববার দিঘার তালসারি সমুদ্রে তলিয়ে যান রাহুল। পরে মৃত্যু হয় তার। তারপর থেকে ঘটনাটি ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন। ঘটনাস্থলে ঠিক কী হয়েছিল, তা নিয়ে নানা সম্ভাবনার কথা উঠে আসছে। শুটিংয়ের ক্যামেরার ফুটেজ ভালোভাবে খতিয়ে দেখে ঘটনাক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে আশ্বাস তদন্তকারীদের।
স্থানীয় সূত্রের খবর, পানিতে নেমে শুটিং চলছিল। যদিও শুটিংয়ে উপস্থিত নানাজনের আলাদা মত ছিল। উদ্ধার হওয়া ক্যামেরার ফুটেজ থেকে জানা গেছে, শুটিং চলাকালীন অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রের হাত ধরে পানির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন রাহুল। শ্বেতা ও রাহুল হাত ধরে সমুদ্রের দিকে হাঁটবেন— এমনই ছিল দৃশ্যটি।
দুজনকেই নাকি বেশি গভীরে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু হাওয়া বেশি থাকায় তারা পরিচালক ও অন্য কলাকুশলীদের কথা শুনতে পাননি।
ভিডিও ফুটেজ উদ্ধারের পর জানা গেছে, পানির অনেকটা গভীরে যাওয়ার পর প্রথমে পড়ে যান শ্বেতা। তখন তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন রাহুল। বড় ঢেউ আসায় নাকি পড়ে যান অভিনেতাও। তখন কলাকুশলীদের একজন শ্বেতাকে ধরতে এগিয়ে যান। শ্বেতাকে তখনই উদ্ধার করতে পারলেও রাহুল তলিয়ে যান।
তারপর রাহুলকে উদ্ধার করতে পানিতে নামে স্পিডবোট। ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যাচ্ছে, শুট চলায় নাকি সেই দৃশ্যও ক্যামেরাবন্দি হয়েছে।
এদিকে পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল জানিয়েছেন, রোববার হাঁটুর নিচ অবধি পানিতে রাহুল ও শ্বেতা ছিলেন। শট চলছিল। ড্রোন শটও নেওয়া হচ্ছিল। রাহুল তখন শ্বেতার হাত ধরে এগিয়ে যেতে থাকেন সমুদ্রের দিকে। তারা চিৎকার করে নিষেধ করছিলেন। আবার কেউ কেউ বলছিলেন, ‘যেয়ো না, যেয়ো না।’ জায়গাটি ঝুঁকিবহুল। তবু তারা এগোতে থাকেন।
পরিচালক আরও বলেন, ইউনিটে যারা সাঁতার জানেন, তেমন ১০-১২ জনও এগিয়েও যেতে থাকেন রাহুল আর শ্বেতার দিকে।
শ্বেতার পরনে ছিল শাড়ি। শাড়ির জন্য অভিনেত্রী টাল সামলাতে পারেননি বলে জানান পরিচালক। এ নির্মাতা বলেন, ততক্ষণে ওদের কাছে অনেকেই পৌঁছে যান। তবে পানি টেনে নেওয়ায় ওরাও বেশ কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিলেন। তখন লাইফ বোটও এগিয়ে যেতে থাকে। বোটে করে ওদের নিয়ে আসা হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটা পানি খেয়ে ফেলেছিলেন রাহুল। শ্বেতার হাত ধরেই তিনি পড়ে গিয়েছিলেন। রাহুলকে উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে আসার পরও জ্ঞান ছিল। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
শুভাশিস মণ্ডল বলেন, রাহুলই হাত ধরে নাকি শ্বেতাকে নিয়ে অনেকটা এগিয়ে যান। কিন্তু অত গভীরে যাওয়া তাদের দৃশ্যের মধ্যে ছিল না বলে জানান এ নির্মাতা।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে রাজ চক্রবর্তীর ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে রাহুল রাতারাতি জনপ্রিয়তা পান। সিনেমাপ্রেমী দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন ‘রাহুল-প্রিয়াংকা’র রাহুল। কৃষ্ণ ও পল্লবীর প্রেম দেখে একটা গোটা প্রজন্ম নতুন করে বাংলা সিনেমার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল।
সেই জুটির প্রেম বাস্তবে রূপ নেয়। ২০১০ সালে বিয়ে হয় রাহুল-প্রিয়াংকার। পুত্রসন্তানের জন্ম দেন এ দম্পতি। নাম সহজ। দাম্পত্যে দূরত্বও আসে একসময়। কিন্তু তখনো দর্শকদের কাছে রাহুল-প্রিয়াংকা জুটি অটুট। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাঙা সম্পর্ক আবার জোড়া লাগতে থাকে। সিনেমার রাহুল-প্রিয়াংকা জুটি দর্শকদের কাছে অমর হয়ে থাকবে। আর দর্শকদের চোখে কৃষ্ণ-পল্লবী জুটি আজও অমলিন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























